আন্তর্জাতিক বাজারে গতকাল কমেছে তামার দাম। চীনে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শ্লথ হয়ে পড়ার খবরে ধাতুটির দাম নিম্নমুখী হয়ে ওঠে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

চীন বিশ্বের শীর্ষ তামা ব্যবহারকারী দেশ। সম্প্রতি দেশটির বাণিজ্য কমেছে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অর্থনীতিতে এমন অনিশ্চয়তার কারণে কমেছে তামার চাহিদা।

লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) গতকাল তিন মাসের সরবরাহ চুক্তিতে তামার দাম দশমিক ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮ হাজার ৪৭০ ডলারে।

তথ্য বলছে, এপ্রিলে চীনের পণ্য ও সেবা আমদানি লক্ষণীয় মাত্রায় কমেছে। অন্যদিকে রফতানি বাড়লেও তা ছিল প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কম। এর অর্থ হলো কভিড-১৯ সংক্রান্ত সব বিধিনিষেধ উঠে গেলেও দেশটিতে পণ্যের চাহিদা এখনো কম।

এলএমইতে তামার দাম কমলেও অ্যালুমিনিয়ামের দাম দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৭০ ডলারে। তবে নিকেলের দাম ১ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২২ হাজার ৩১০ ডলার ও টিনের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে ২৫ হাজার ৮৩০ ডলারে নেমেছে। সিসার দাম দশমিক ৪ শতাংশ কমেছে। প্রতি টন লেনদেন হয়েছে ২ হাজার ১২৯ ডলারে। দস্তার মূল্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে টনপ্রতি ২ হাজার ৬১৫ ডলারে নেমেছে।

এর আগে এলএমইতে সব ধরনের ধাতুর দামই ঊর্ধ্বমুখী ছিল। এর পেছনে ডলার বড় ভূমিকা রেখেছে। আন্তর্জাতিক বাজারে ডলারেই এসব ধাতু লেনদেন হয়। মুদ্রাটির বিনিময় মূল্য কমে যাওয়ায় অন্য মুদ্রার ক্রেতাদের কাছে এটির চাহিদা বেড়ে গিয়েছিল। আর চাহিদা বাড়ায় স্বাভাবিকভাবেই দাম বেড়ে যায়। কিন্তু চীনে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণ দাম আবারো কমল।

সাংহাই ফিউচারস এক্সচেঞ্জে জুনে সরবরাহের জন্য চুক্তীকৃত প্রতি টন তামার দাম আগের দিনের তুলনায় ১ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৬৬ হাজার ৫৭০ ইউয়ান বা ৯ হাজার ৬৩০ ডলার ৯৪ সেন্টে। নিকেলের দাম ৪ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। প্রতি টনের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৭০ হাজার ৮২০ ইউয়ানে। অ্যালুমিনিয়ামের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে টনপ্রতি ১ হাজার ৮১৯ ইউয়ানে নেমেছে। দস্তার দাম ১ দশমিক ২ শতাংশ কমে ২১ হাজার ১৬৫ ইউয়ান ও টিনের দাম দশমিক ১ শতাংশ কমে ২ লাখ ৬ হাজার ৯৬০ ইউয়ানে নেমেছে। তবে সিসার মূল্য দশমিক ১ শতাংশ বেড়ে টন প্রতি ১৫ হাজার ৩০০ ইউয়ানে উন্নীত হয়েছে।