সপ্তাহে কয়েকটি চকোলেট বার বিক্রি করতেই হিমশিম খেতে হতো। কোনো কোনো সপ্তাহে বিক্রি হতো তার চেয়েও কম। ব্যবসা চালিয়ে যাবেন, নাকি ছেড়ে দেবেন এমন প্রশ্নও উঠেছিল। কিন্তু সেই ছোট উদ্যোগই পরে তৈরি করেছে বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘দুবাই চকোলেট’ ট্রেন্ড। দুবাইভিত্তিক এ ব্র্যান্ডের নাম ফিক্স ডেজার্ট চকোলাতিয়ে। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা সারাহ হামুদা ও ইয়েজেন আলানি স্বামী-স্ত্রী।
তারা জানান, ব্র্যান্ডটি জনপ্রিয় হওয়ার আগে ব্যবসা ছেড়ে দেয়ার কথাও ভেবেছিলেন। শুরুতে ফিক্স ছিল খুব ছোট পরিসরের উদ্যোগ। দুজনেরই পূর্ণকালীন চাকরি ছিল। পাশাপাশি তাদের দুই সন্তানকে দেখাশোনা করতে হতো।
চাকরি শেষে রাতে রান্নাঘরে গিয়ে চকোলেটের নতুন পণ্য নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন তারা। কোন স্বাদ ও উপাদানের সমন্বয় ভালো হবে, তা বের করার চেষ্টা করতেন। ব্যবসার জন্য তাদের বাজেটও ছিল সীমিত। তাই প্রথম দিকে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দিয়ে পণ্য পরীক্ষা করতেন।
ছোট পরিসরের বিভিন্ন পপ-আপ আয়োজনেও অংশ নিতেন। সরঞ্জাম ও পণ্য প্রদর্শনের কার্ট কেনার জন্য তারা শারজাহ পর্যন্ত যেতেন ও সরবরাহকারীদের সঙ্গে দরকষাকষি করতেন। একপর্যায়ে ব্যবসা বন্ধ করে দেয়ার কথাও তারা একে অন্যকে জানান। তবে পপ-আপ আয়োজনে ক্রেতাদের চকোলেট খেতে দেখে ফের উৎসাহ পান এ দম্পতি। তখন তারা ঠিক করেন, যতক্ষণ অর্থ থাকবে ততক্ষণ ব্যবসা চালিয়ে নেয়া হবে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় সোশ্যাল মিডিয়ার ভাইরাল ‘দুবাই চকোলেট’ ট্রেন্ড।
একপর্যায়ে দেখা যায়, হামুদা ও ইয়েজেন দম্পতির রান্নাঘরের বাইরে প্রায় ৫০ জন ডেলিভারি রাইডার অপেক্ষা করছেন। ভেতরে একের পর এক অর্ডার আসছে। কিন্তু সেগুলো পূরণ করার মতো চকোলেট তৈরি ছিল না। তখন অর্ডার নেয়া ও সরবরাহের পুরো প্রক্রিয়াই হাতে করতে হতো।
সারাহ জানান, ইচ্ছাকৃতভাবে পণ্যের সংকট তৈরি করে বিপণন করার কোনো পরিকল্পনা তাদের ছিল না। ছিল না কোনো ব্যবসায়িক পরিকল্পনাও। লক্ষ্য ছিল শুধু চকোলেট বিক্রি করা ও মানুষকে পণ্যটি চেনানো। চাহিদা বাড়লেও দ্রুত বড় হওয়ার সুযোগগুলো শুরুতে ফিক্সের প্রতিষ্ঠাতারা গ্রহণ করেননি। তাদের আশঙ্কা ছিল, এতে পণ্যের মান ও ব্র্যান্ডের নিজস্ব পরিচয় ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। তাই ধীরে ধীরে রান্নাঘর ও কর্মীসংখ্যা বাড়াতে থাকেন তারা।
এর পরই ফিক্সের চকোলেটকে ঘিরে আন্তর্জাতিকভাবে নতুন প্রবণতা তৈরি হয়। বিভিন্ন বহুজাতিক মিষ্টান্ন কোম্পানি, ছোট চকোলেট প্রস্তুতকারক, বেকারি ও রেস্তোরাঁ দুবাই চকোলেটের অনুকরণে নিজেদের পণ্য বাজারে আনে। ইয়েজেন আলানি এসব অনুকরণকে ইতিবাচকভাবেই দেখেন। এখন ফিক্সে ১২ ধরনের স্বাদের চকোলেট রয়েছে। দুবাইয়ের বাইরে লন্ডনের হ্যারডসেও ব্র্যান্ডটির উপস্থিতি তৈরি হয়েছে। দুবাইয়ের ক্রাউন প্রিন্স শেখ হামদান বিন মোহাম্মদের জন্য একটি বিশেষ স্বাদের চকোলেটও তৈরি করেছেন প্রতিষ্ঠাতারা। \সেটি চূড়ান্ত করতে প্রায় তিন মাস সময় লেগেছিল। প্রথমবার স্বাদ নেয়ার পরই অনুমোদন দেয়া হয়। সাফল্যের পর ফিক্সে বিনিয়োগের আগ্রহ দেখিয়েছে বিভিন্ন বিনিয়োগকারী ও বড় খাদ্য ও পানীয় কোম্পানি। খবর ও ছবি অ্যারাবিয়ান বিজনেস










