মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। ফলে পেট্রলচালিত গাড়ির ব্যবহার নিয়ে নতুন করে ভাবছেন চীনের অনেক ক্রেতা। এর প্রভাব পড়েছে দেশটির গাড়ির বাজারে। সামগ্রিক গাড়ি বিক্রি কমলেও বিদ্যুচ্চালিত গাড়ির (ইভি) বাজারে সে হারে পতন হয়নি। বরং চীনে বিক্রি হওয়া গাড়ির বড় অংশ এখন ইভি বা প্লাগ-ইন হাইব্রিড। খবর সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।
চায়না প্যাসেঞ্জার কার অ্যাসোসিয়েশনের (সিপিসিএ) তথ্য অনুযায়ী, গত মাসে চীনে ১৫ লাখ ৪০ হাজার গাড়ি বিক্রি হয়েছে। এর মধ্যে ৬৫ দশমিক ২ শতাংশ ছিল পুরোপুরি ইভি অথবা প্লাগ-ইন হাইব্রিড গাড়ি। এটি দেশটিতে ইভি বিক্রির নতুন রেকর্ড।
সাংহাইভিত্তিক গাড়ি বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়ান ঝুও অটোর বিক্রয় পরিচালক ঝাও ঝেন বলেন, ‘ইভির সুবিধা সম্পর্কে ক্রেতাদের ধারণা এখন বেশ পরিষ্কার। সামনে পেট্রলচালিত গাড়ি থেকে আরো বেশি ক্রেতা সরে আসতে পারেন।’
প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনের সামগ্রিক গাড়ির বাজার অবশ্য দুর্বল অবস্থায় রয়েছে। অর্থনৈতিক ধীরগতির মধ্যে গত মাসে দেশটিতে পেট্রলচালিত গাড়ির বিক্রি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪০ শতাংশ কমেছে। বিপরীতে ইভি বিক্রি কমেছে ১০ দশমিক ১ শতাংশ।
ইরান যুদ্ধ এ পরিবর্তনকে আরো ত্বরান্বিত করছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। যুদ্ধের কারণে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এতে পেট্রলচালিত গাড়ি ব্যবহারকারীদের ব্যয়ও বাড়ছে।
বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনো অনেক বেশি। গত বুধবার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ফের ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় যা প্রায় ৩৪ শতাংশেরও বেশি।
ইউবিএসের মার্চের এক হিসাব অনুযায়ী, তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯০ ডলারের কাছাকাছি থাকলে চীনের একটি পেট্রলচালিত গাড়ির বার্ষিক জ্বালানি ব্যয় যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় প্রায় ২ হাজার ইউয়ান বা ২৯৮ ডলার বাড়তে পারে।
তবে শুধু জ্বালানির দামই চীনের ইভি বাজারের প্রবৃদ্ধির কারণ নয়। সাম্প্রতিক মাসগুলোয় দেশটির বাজারে শত শত নতুন ইভি মডেল এসেছে। এসব গাড়িতে উন্নত চালক সহায়তা প্রযুক্তিসহ নানা নতুন সুবিধা রয়েছে। ফলে নতুন গাড়ি কেনার ক্ষেত্রে ক্রেতাদের আগ্রহ বেড়েছে বলে জানান গাড়ি বিক্রেতারা।
চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত চীনের গাড়ি নির্মাতারা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ইভি বিক্রি করেছে। আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় এ সংখ্যা ১১ দশমিক ৬ শতাংশ কম।









