চলতি অর্থবছরে (৮ জুলাই থেকে ৭ জুলাই) যাত্রী পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে প্রাক-মহামারী পর্যায়ে ফিরে যাওয়া প্রত্যাশা করছে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস। সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মেসফিন তাসেউ বেকিলি সংবাদ সংস্থা রয়টার্সকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে এ আশাবাদ জানিয়েছেন।

যাত্রী পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে চলতি অর্থবছরে ১ কোটি ২৭ লাখ যাত্রী পরিবহন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে আফ্রিকার বৃহত্তম উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাটি। যেখানে আগের অর্থবছরে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনসের যাত্রী পরিবহন করেছিল ৮৬ লাখ। আর কভিড-১৯ মহামারী শুরুর আগে এ সংখ্যা ছিল ১ কোটি ২১ লাখ।

মেসফিন তাসেউ বেকিলি জানান, বিশ্বজুড়ে উড়োজাহাজ চলাচলে নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া এবং নতুন নতুন উড়োজাহাজ সংযোজন ও গন্তব্য বৃদ্ধির পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে যাত্রী পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে ইথিওপিয়ার উত্তরাঞ্চলে দুই বছরের সংঘাত অবসানে গত মাসে একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর হয়েছে। ফলে স্থিতিশীল পরিস্থিতি যাত্রী পুনরুদ্ধারে সহায়ক হবে।

ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস যাত্রী চলাচল ও কার্গোর মূল বাজার হলো চীন। কিন্তু কভিড-১৯ নিয়ন্ত্রণে কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছিল দেশটির সরকার। এ বিধিনেষধ শিথিল করার ক্ষেত্রে এখনো পিছিয়ে চীন। যদি আগামী জানুয়ারিতে দেশটির সরকার বিধিনেষধ পুরোপুরি শিথিল না করে, তাহলে যাত্রী পুনরুদ্ধার বিলম্ব হতে পারে বলেও জানান তিনি।

মহামারী চলাকালে ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস অন্যান্য আফ্রিকান উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার তুলনায় ভালো কর্মদক্ষতা দেখিয়েছে। বিশেষ করে সংস্থাটি কার্গো ব্যবসায় অনেক উন্নতি করেছে। এমনকি ওই সময়ে চলাচল বিঘ্নিত হওয়ায় যাত্রীদের ক্ষতিপূরণও দিতে সক্ষম হয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এদিকে ২০৩৫ সালের মধ্যে উড়োজাহাজ সংখ্যা ও নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে দ্বিগুণ করার পরিকল্পনা করেছে আফ্রিকার বৃহত্তম এয়ারলাইনসটি। পাশাপাশি সংস্থাটি বার্ষিক আয় ও যাত্রী সংখ্যা যথাক্রমে ৪০০ ও ৪৪০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনাও হাতে নিয়েছে।

সিইও আরো বলেন, যদি আমরা অগ্রসর হতে না পারি, তাহলে সফলও হতে পারব না। একটি বৃহত্তর নেটওয়ার্ক উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থার আর্থিক অবস্থা দৃঢ় করতে সক্ষম। আর বিষয়টি মাথায় রেখেই আমরা আমাদের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছি।

সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় ইথিওপিয়ান এয়ারলাইনস বোয়িং, এয়ারবাস ও ডি হ্যাভিলল্যান্ড থেকে সব ক্যাটাগরির নতুন উড়োজাহাজের ক্রয়াদেশ দিয়েছে। এর মাধ্যমে বহরে উড়োজাহাজের সংখ্যা দ্বিগুণ করে ২৭১টি করার লক্ষ্য রয়েছে বলেও জানান মেসফিন।

গত জুলাই থেকে জুরিখ, আম্মান ও জিম্বাবুয়ের বুলাওয়েতে নতুন রুট শুরু করেছে এয়ারলাইনসটি। আগামীতে সিঙ্গাপুর, কুয়ালালামপুর, করাচি, কোপেনহেগেন ও আটলান্টায় নতুন রুট চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক রুট দ্বিগুণ করে ২০৭টিতে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।