কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবে সবচেয়ে বেশি বিপর্যস্ত হয় উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। লকডাউনের কারণে স্থবির হয়ে পড়েছিল আকাশ ভ্রমণ। সম্প্রতি কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় আন্তর্জাতিক ভ্রমণ আবারো বেড়েছে। ফলে ঘুরে দাঁড়িয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার উড়োজাহাজ পরিবহন খাত। দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয় জানায়, গত মাসে আন্তর্জাতিক ভ্রমণে যাত্রীসংখ্যা ১২ লাখ ৮০ হাজার ছুঁয়েছে। সে হিসাবে এক বছরে যাত্রীসংখ্যা বেড়েছে ৪২০ শতাংশ। খবর কোরিয়া হেরাল্ড।
মহামারীজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হওয়ায় পুরোদমে শুরু হয়েছে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোর ব্যবসা। যাত্রীদের মধ্যেও আকাশ ভ্রমণে আগ্রহ বেড়েছে। এদিকে টিকিট ভাড়ার পাশাপাশি অপর্যাপ্ত ফ্লাইট ভ্রমণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে। এ সত্ত্বেও যাত্রীদের সংখ্যা অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ায়। গত মাসে মোট যাত্রীসংখ্যা পৌঁছেছে ১২ লাখ ৮০ হাজারে। কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাবের পর এই প্রথম যাত্রীসংখ্যা ১০ লাখের সীমা পার করল।
দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা পুনরুদ্ধারের চেষ্টা করছে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়ও। যাত্রী চাহিদা বাড়ার ফলে মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য অর্জনের পথ আরো সুগম হবে বলে জানান সংশ্লিষ্টরা। চলতি বছরের শেষ নাগাদ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা ২০১৯ সালের পর্যায়ের ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে পরিবহন মন্ত্রণালয়।
টানা দুই বছর স্থবির সময় পার করার পর গত ৮ জুন থেকে আকাশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে সব ধরনের বিধিনিষেধ স্থগিত ঘোষণা করে দক্ষিণ কোরিয়ার পরিবহন মন্ত্রণালয়। ভ্রমণ চাহিদা আরো বাড়াতে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোকে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা আরো বাড়ানোর নির্দেশ দেয়া হয় মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে।
দক্ষিণ কোরিয়ার বৃহত্তম উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থা কোরিয়ান এয়ার। চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের আসন সক্ষমতা কভিডপূর্ব সময়ের ৫০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে এয়ারলাইনসটি। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপগামী ফ্লাইটের সংখ্যা বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে এশিয়ানা এয়ারলাইনসও।
এদিকে গত মাসে দক্ষিণ কোরিয়ার রাজধানী সিউলের গিমপো বিমানবন্দর ও জাপানের রাজধানী টোকিওর হানেদা বিমানবন্দরের মধ্যে আকাশ ভ্রমণ আবারো চালু করা হয়েছে। ওই রুটে এ মাসে আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের সংখ্যা আরো বাড়ার প্রত্যাশা করা হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক্ষেত্রে বাধা হতে পারে টিকিটের চড়া দাম। এখন পর্যন্ত উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো পূর্ণ সক্ষমতায় ফ্লাইট চালু করেনি।
এর মধ্যে বিশ্ববাজারে জ্বালানির দামের ঊর্ধ্বমুখিতা অব্যাহত রয়েছে। এতে করে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার গন্তব্যে রাউন্ড ট্রিপের ব্যয় পড়বে ৮ লাখ ওন বা ৬১৬ ডলারেরও বেশি। সে হিসেবে টিকিটের মূল্য কভিডপূর্ব সময়ের তুলনায় ৮০ শতাংশ বেশি।
এদিকে বিশ্ববাজারে উড়োজাহাজের জ্বালানির দাম ঊর্ধ্বমুখী থাকার কারণে অতিরিক্ত ফি চার্জ করছে উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো। এর জন্য এ মাসে রেকর্ড পরিমাণ জ্বালানি ফি আরোপ করেছে কোরিয়ান এয়ার। ফলে এক ধাক্কায় মোটা অংকের টাকা গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। গন্তব্য বিবেচনায় আন্তর্জাতিক রুটে একমুখী যাতায়াতের জন্য জ্বালানি ফি ৪২ হাজার ৯০০ ওন থেকে সর্বোচ্চ ৩ লাখ ৩৯ হাজার ৩০০ ওন পর্যন্ত নির্ধারণ করেছে কোরিয়ান এয়ার। বিশ্লেষকদের দাবি, এর কারণে আকাশ ভ্রমণে অনাগ্রহ তৈরি হতে পারে যাত্রীদের মধ্যে।








