ইরানের অর্থনীতির ভিত্তি ধরা হয় অপরিশোধিত জ্বালানি তেল খাতকে। দেশটির রফতানি আয়ের সিংহভাগ আসে এ খাত থেকে। এ কারণে বিভিন্ন সময় মার্কিন নিষেধাজ্ঞার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে ইরানের জ্বালানি তেল খাত। তবে দেশটির ধাতব শিল্পও মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে মুক্ত হয়নি। সম্প্রতি ইরানি ধাতব শিল্পের ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে ওয়াশিংটন। বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরানের অর্থনীতিতে ধাতব শিল্পের অবদান দিন দিন পোক্ত হচ্ছে। বাড়ছে আয়। এ কারণে ধাতব শিল্পের ওপর নিষেধাজ্ঞার খড়্গ টেনেছে যুক্তরাষ্ট্র। খবর রয়টার্স ও ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস।
মার্কিন বিমান হামলায় ইরানি তারকা জেনারেল কাসেম সোলাইমানি হত্যার জের ধরে দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়েছে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ইরানের ওপর আরেক দফা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়েছে ইরানের ধাতব শিল্পের সঙ্গে সম্পৃক্ত ১৭টি কোম্পানি।
মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্টিভেন মানিউচিন বলেছেন, নতুন এ নিষেধাজ্ঞা গত বছরের মে মাসে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার বর্ধিত রূপ। ওই সময় ইরানের জ্বালানি তেল ও আর্থিক খাতের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় রয়েছে ইরানিয়ান অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানি। ইরানে উত্তোলন হওয়া অ্যালুমিনিয়ামের ৭৫ শতাংশই এ কোম্পানির অবদান। নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়েছে দেশটির আল-মাহদি অ্যালুমিনিয়াম কোম্পানি ও ন্যাশনাল ইরানিয়ান কপার ইন্ডাস্ট্রিজ।
বিশ্লেষণী সংস্থা ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের পণ্যবাজারবিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক ক্যারোলিন বেইন বলেন, ইরানের ধাতব শিল্পের পরিধি খুবই ছোট। এ কারণে দেশটির ধাতব শিল্পের ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক বাজারে ব্যবহারিক ও মূল্যবান ধাতুর দামে বড় কোনো পরিবর্তন আনবে না। তবে ইরানের অর্থনীতির জন্য এটা অবশ্যই বড় একটি ধাক্কা।
তিনি আরো বলেন, অপরিশোধিত জ্বালানি তেল আর ধাতব পণ্য—দুটোর মজুদে ইরানের অবস্থান ঈর্ষণীয়। তবে এসব পণ্যের উত্তোলনে বিনিয়োগের অভাব রয়েছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জেরে দেশটি পর্যাপ্ত বিনিয়োগ পাবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে ইরানের অর্থনীতি।
ধাতব শিল্পের মধ্যে ইস্পাত খাতে অনেকটাই এগিয়ে রয়েছে ইরান। ওয়ার্ল্ড স্টিলের তথ্য অনুযায়ী, ২ কোটি ৪৫ লাখ টন ইস্পাত উৎপাদনের মধ্য দিয়ে ২০১৮ সালে পণ্যটির শীর্ষ উৎপাদনকারীদের বৈশ্বিক তালিকায় ইরান ছিল ১১তম। ওই সময় বিশ্বের ১৬তম ইস্পাত রফতানিকারকের মর্যাদা পেয়েছিল ইরান। দেশটি স্পেন ও যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে ৯৩ লাখ টন ইস্পাত রফতানি করেছিল।
গত বছরের মার্চ-নভেম্বর সময়ে ইরান ৩ কোটি ১৫ লাখ টন আকরিক লোহা উত্তোলন করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪ শতাংশ বেশি। অন্যদিকে ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) জানিয়েছে, ২০১৮ সালে ইরান সব মিলিয়ে ১১ টন স্বর্ণ উত্তোলন করেছে।
বিদায়ী বছরে ইরানের খনিগুলো থেকে ৩ লাখ ১৫ হাজার টন তামা উত্তোলন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল কপার স্টাডি গ্রুপ (আইসিএসজি), যা
ব্যবহারিক ধাতুটির বৈশ্বিক সরবরাহের ১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় ইরানে ১ লাখ ৪০ হাজার টন দস্তা ও ৫০ হাজার টন সিসা উত্তোলন হয়েছে বলে জানিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল লেড অ্যান্ড জিংক স্টাডি গ্রুপ।









