নভেল করোনাভাইরাসের বৈশ্বিক মহামারীর জের ধরে চলতি বছরের শুরু থেকে উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে তামার আন্তর্জাতিক বাজার। তবে বছরের মাঝামাঝি সময়ে এসে তুলনামূলক স্থিতিশীল হয়েছে ব্যবহারিক ধাতুটির দাম। বাড়তে শুরু করেছে তামার চাহিদাও। এর জের ধরে চলতি বছরের বাকি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে তামার দাম। বিশ্বের শীর্ষ তামা উত্তোলনকারী দেশ চিলির রাষ্ট্রীয় উত্তোলন সংস্থা কোডেলকোর প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) অক্টাভিও আর্নেদা এ সম্ভাবনার কথা জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও মেটাল বুলেটিন।
এক সাক্ষাৎকারে অক্টাভিও আর্নেদা বলেন, চলতি বছরের বাকি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দাম তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকতে পারে। এ সময় ব্যবহারিক ধাতুটির গড় দাম দাঁড়াতে পারে পাউন্ডপ্রতি ২ ডলার ৮০ সেন্টে। কোডেলকো বিশ্বের সবচেয়ে বড় তামা উত্তোলনকারী প্রতিষ্ঠান। করোনাকালেও ব্যবহারিক ধাতুটির উত্তোলন ও সরবরাহ স্বাভাবিক রেখে প্রশংসা কুড়িয়েছে কোডেলকো। কাজেই প্রতিষ্ঠানটির প্রধানের এমন বক্তব্যে আগামী দিনগুলোয় তামার বাজার পরিস্থিতি সহজেই অনুমান করা যায়।
কোডেলকো সিইও অক্টাভিও আর্নেদা আরো বলেন, আগামী দিনগুলোয় তামার বাজার পরিস্থিতি পুরোটাই নির্ভর করছে করোনা মহামারীর গতিপ্রকৃতির ওপর। তবে মহামারী নিয়ন্ত্রণে আশার আলো দেখা যাচ্ছে। রাশিয়ায় এরই মধ্যে ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয়েছে। আরো কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন আবিষ্কারের প্রতিযোগিতায় অনেকটাই এগিয়ে গেছে। বছর শেষ হওয়ার আগেও এসব ভ্যাকসিন বাজারে আসতে পারে। এ পরিস্থিতিতে মহামারীর লাগাম টেনে স্বাভাবিক জীবনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। আর এ কারণে চলতি বছরের বাকি সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারে তামার দামে স্থিতিশীলতা বজায় থাকার সম্ভাবনার কথা বলা হচ্ছে।
এদিকে সর্বশেষ কার্যদিবসে লন্ডন মেটাল এক্সচেঞ্জে (এলএমই) ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৬ হাজার ৩৪২ ডলার ৫০ সেন্টে বিক্রি হয়েছে, যা আগের দিনের তুলনায় টনে প্রায় ৩৮ ডলার কম। এক মাসের মধ্যে এটাই এলএমইতে তামার সর্বনিম্ন দাম।
এক মাস ধরে এলএমইতে তামার দাম অব্যাহতভাবে কমেছে। গত ১৩ জুলাই এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৬ হাজার ৫৪৫ ডলারে বিক্রি হয়েছিল। এক মাসের মধ্যে এটাই ব্যবহারিক ধাতুটির সর্বোচ্চ দাম।
উত্থান-পতনের ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ের শেষ কার্যদিবসে এলএমইতে ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামা ৬ হাজার ৪৪৬ ডলার ৫০ সেন্টে বেচাকেনা হয়েছিল। আগস্টের প্রথম কার্যদিবসে ব্যবহারিক ধাতুটি বেচাকেনা হয় টনপ্রতি ৬ হাজার ৪৪১ ডলারে। ৫ আগস্ট ভবিষ্যতে সরবরাহ চুক্তিতে প্রতি টন তামার দাম ৬ হাজার ৫২৫ ডলারে উঠলেও গত ১১ আগস্ট তা টনপ্রতি ৬ হাজার ৩৬৫ ডলার ৫০ সেন্টে নেমে আসে। এর পর থেকে বাড়তির দিকে ছিল তামার দাম। সর্বশেষ কার্যদিবসে হঠাৎ করে ব্যবহারিক ধাতুটির দামে বড় পতন দেখা গেছে।
এখন কোডেলকো সিইও অক্টাভিও আর্নেদার পূর্বাভাস খাতসংশ্লিষ্টদের মনে আশার সঞ্চার করেছে। সংকটের মধ্যেও আগামী দিনগুলোয় তামার চাহিদায় আর পতন ঘটবে না বলে মনে করা হচ্ছে। ফলে আগামী দিনগুলোয় উত্থান-পতন বজায় থাকলেও তুলনামূলক স্থিতিশীল থাকবে তামার বাজার।










