কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ কিছুটা শিথিল হওয়ায় সবেমাত্র ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। এরই ধারাবাহিকতায় মালয়েশিয়ার দেশীয় ও বিদেশী বাজার প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠছে। বড় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য তা সত্য হলেও অনেকটাই পিছিয়ে দেশটির ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসাগুলো। মহামারীর প্রকোপে ব্যাহত সরবরাহ ব্যবস্থাসহ নানা সমস্যায় বিপর্যস্ত ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তারা। এরই মধ্যে চাহিদা পুনরুদ্ধারের প্রচেষ্টায় রয়েছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো। খবর ফ্রি মালয়েশিয়া ট্রেড।

লকডাউনের কারণে বিশ্বজুড়ে সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এতে করে কাঁচামালের দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী থাকে। পাশাপাশি মহামারীকালে ব্যবসা টিকিয়ে রাখতে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কর্মী ছাঁটাই করে। ফলে বর্তমানে কভিডজনিত বিধিনিষেধ শিথিল হলেও কর্মী সংকটে পর্যুদস্ত মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলো। এছাড়া ঋণ নিতেও সমস্যার সম্মুখীন হতে হচ্ছে উদ্যোক্তাদের।

এ বিষয়ে স্মল অ্যান্ড মিডিয়াম এন্টারপ্রাইজেস অ্যাসোসিয়েশন মালয়েশিয়ার (সামেনটা) চেয়ারম্যান উইলিয়াম এনজি বলেন, পণ্য সরবরাহ না করতে পারলে লোকসানে পড়ে ব্যবসা। তাই বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসা তাদের নতুন ক্রয়াদেশ বাতিল করছে।

মহামারী ছাড়াও বৈশ্বিক নানা কারণে বিপদগ্রস্ত মালয়েশিয়ার ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প সংস্থা। এ বছর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তার মধ্যে অন্যতম বড় প্রভাবকের ভূমিকা পালন করছে। যুদ্ধের কারণে আগে থেকেই অস্থিতিশীল সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন করে সংকট তৈরি হয়েছে। এ সংকটে ইন্ধন জুগিয়েছে চীনের লকডাউন। এছাড়া বৈশ্বিক অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হারের কারণেও প্রতিবন্ধকতা আসছে ব্যবসায়।

এদিকে নিয়ম অনুযায়ী কর্মীদের সর্বনিম্ন বেতন স্তরে ২৫ শতাংশ বাড়াতে হবে প্রতিষ্ঠানগুলোর। পাশাপাশি যুদ্ধের হাওয়ায় বিশ্ববাজারে দাম বেড়েছে বিদ্যুৎসহ অন্যান্য জ্বালানি পণ্যের। এ বছর বিদ্যুতের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছে মালয়েশিয়ার সরকার। অন্যদিকে কর্মঘণ্টাও কমাতে হবে কর্মীদের। সব মিলিয়ে বছরজুড়ে বিপরীত স্রোতে ডুব-সাঁতার কাটছে ক্ষুদ্র ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানগুলো।

উইলিয়াম এনজি জানান, ওভারনাইট পলিসি রেট (ওপিআর) বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবৃদ্ধি কমবে। এরই মধ্যে অনেক এসএমই এ বছরের জন্য প্রবৃদ্ধির পরিকল্পনা থেকে সরে আসতে পারে। এসএমই প্রতিষ্ঠানগুলোর স্থিতিশীল নগদ প্রবাহের কোনো উৎস নেই। তাই ঝুঁকি ও অনিশ্চয়তাই এদের সম্বল।

কভিড-১৯ মহামারীর প্রাদুর্ভাব দেখা দিলে মালয়েশিয়ার অধিকাংশ এসএমই সংকটে নিমজ্জিত হয়। এদের মধ্যে টিকে থাকে মাত্র গুটিকয়েক।

ব্যবসার এ দুর্দশায় ঋণও পাচ্ছেন না উদ্যোক্তারা। এ বিষয়ে সামেনটার মহাসচিব ইয়হ সেং হুই বলেন, র্যাম-সিটিওএসের সমীক্ষা বলছে, গত ছয় মাসে ৪০ শতাংশ এসএমইর ঋণের আবেদন খারিজ হয়েছে। নিঃসন্দেহে এ হার আশঙ্কাজনক। একই সঙ্গে উৎপাদন ব্যয় ও সুদের হার ক্রমাগত ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে, কমেছে ভোক্তাদের আস্থা। একদিকে ব্যাংকগুলো মোটা অংকের মুনাফা করছে, অন্যদিকে অতিরিক্ত ঋণ সংগ্রহ করতেই হিমশিম খাচ্ছে এসএমইগুলো। তবে এখনো ক্রয়াদেশ একেবারে থেমে যায়নি এসএমইর জন্য। প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে অর্থায়ন প্রয়োজন।