চলতি মাসের প্রথমার্ধে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের বিক্রি কমেছে। নভেল করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় ভারতের বেশ কয়েকটি অঞ্চলকে পুনরায় লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছে। এছাড়া কয়েক দিন ধরে দেশটির অভ্যন্তরীণ বাজারে খুচরা পর্যায়ে উভয় পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। খাতসংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ দুইয়ের প্রভাবে দেশটিতে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদায় মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। খবর রয়টার্স ও বিজনেস লাইন।
ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল পরিশোধন কোম্পানিটির ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি মাসের প্রথম ১৫ দিনে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর ডিজেল বিক্রি আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমে ২২ লাখ টনে নেমেছে। এছাড়া এ সময়ে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় জ্বালানি পণ্যটির বিক্রি কমেছে ২১ শতাংশের মতো। ভারতের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি খুচরা বাজারের ৯০ শতাংশ নিয়ন্ত্রণ করে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো (ইন্ডিয়ান অয়েল করপোরেশন, হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম করপোরেশন ও ভারত পেট্রোলিয়াম)।
নভেল করোনাভাইরাসের প্রকোপ ভারতের গ্রাম ও ছোট ছোট শহরগুলোয় পৌঁছে গেছে। ফলে দেশটিতে কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে। এ পর্যন্ত ১০ লাখের বেশি কভিড-১৯ রোগী শনাক্ত হয়েছে দেশটিতে। আক্রান্তের সংখ্যায় গত শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিলকে পেছনে ফেলে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ অবস্থানে উঠে এসেছে দেশটি। এ পরিস্থিতি বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ জ্বালানি তেল ভোক্তা ও আমদানিকারক দেশটিতে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা ধসিয়ে দিয়েছে। এর আগে নভেল করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাবের প্রথম দিকে সমগ্র ভারত লকডাউনের আওতায় আনা হয়েছিল। ওই সময় (এপ্রিলে) দেশটিতে জ্বালানি পণ্যের চাহিদা কমে ইতিহাসের সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঠেকেছিল।
তবে মাঝে মহামারী পরিস্থিতির উন্নতি হওয়ায় বেশ কয়েকটি রাজ্যে লকডাউন ও বিধিনিষেধ শিথিল করে আনে ভারত। এতে মে মাসে দেশটিতে জ্বালানি চাহিদা পুনরায় বাড়তে শুরু করে। তবে করোনাভাইরাস সংক্রমণের তীব্রতা ফের বাড়ায় দেশটির সরকার সম্প্রতি বেশ কয়েকটি রাজ্যে নতুন করে লকডাউন আরোপ করেছে এবং ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে পূর্বের বিহার ও দক্ষিণের বেঙ্গালুরুও রয়েছে।
যাইহোক, ডিজেলের সঙ্গে সঙ্গে চলতি মাসের প্রথমার্ধে ভারতের পেট্রল বিক্রিও উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। এ সময়ে রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলো সব মিলিয়ে ৮ লাখ ৮০ হাজার টন পেট্রল বিক্রি করেছে, আগের মাসের একই সময়ের তুলনায় তুলনায় যা ৬ দশমিক ৭ শতাংশ এবং এক বছর আগের একই সময়ের তুলনায় ১২ শতাংশ কম।
এনার্জি কলসালট্যান্সি এফজিইর এশিয়া অয়েলের পরিচালক শ্রী পরবাইক্কারসু বলেন, পুনরায় লকডাউন আরোপ এবং খুচরা পর্যায়ে দাম বৃদ্ধিতে ভারতে পেট্রল ও ডিজেলের চাহিদা কমছে। গত শুক্রবার ভারতের দিল্লিতে ডিজেলের দাম রেকর্ড বেড়ে লিটারপ্রতি ৮১ দশমিক ৩৫ রুপি ছাড়িয়ে যায়। এ সময়ে পেট্রলের দামও তুলনামূলক ঊর্ধ্বমুখী ছিল।
এদিকে পেট্রল ও ডিজেলের বিক্রি কমলেও এ সময়ে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর রান্নার গ্যাস বা এলপিজি বিক্রি বেড়েছে। চলতি মাসের প্রথমার্ধে দেশটির খুচরা বিক্রেতারা মোট ১০ লাখ ৭৫ হাজার টন এলপিজি বিক্রি করেছে, আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় যা ৬ দশমিক ৫ শতাংশ বেশি।










