মহামারীর পর থেকে বিভিন্ন ভূরাজনৈতিক কারণে পুরো বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রভাবে সাধারণ মানুষের জীবনযাপন মান কমলেও আবার ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে দেশগুলো। এর অংশ হিসেবে যুক্তরাজ্যের অধিবাসীদের জীবনযাপন মান শিগগিরই বাড়বে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।

বার্তা সংস্থা রয়টার্স প্রকাশিত খবরে বলা হয়, জীবনযাপন মান বাড়লেও যাদের অর্থনৈতিক অবস্থা আরো দুর্বল, ২০২৭ সালের আগে তাদের ব্যয় সক্ষমতা মহামারী-পূর্ববর্তী অবস্থায় ফিরবে না। এর ফলে দেশটির দুর্বল অর্থনৈতিক পরিস্থিতির উন্নয়নে ভবিষ্যৎ সরকারের ওপর চাপ বাড়বে বলে এক থিংক ট্যাংক প্রতিষ্ঠানের পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে।

যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক ও সামাজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের (এনআইইএসআর) তথ্যানুযায়ী, চলতি বছর দেশটিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এর আগে ভোটারদের করহার কমানোর আশ্বাস দেয়া থেকে রাজনীতিবিদদের বিরত থাকতে হবে। এছাড়া অর্থনীতিকে গতিশীল রাখতে আরো বিনিয়োগ করতে হবে।

জনমত জরিপে ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ বিরোধী লেবার পার্টির থেকে পিছিয়ে রয়েছে। নির্বাচনের আগে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক ও অর্থমন্ত্রী জেরেমি হান্ট করহার কমানোর উদ্যোগ নেয়ার কথা ভাবছেন। মার্চে নতুন বাজেট পরিকল্পনা ঘোষণার সময় এ ঘোষণা দেয়া হতে পারে।

এনআইইএসআরের একজন উপপরিচালক স্টিফেন মিলার্ড জানান, সুসংবাদটি হল যে ২০২৪ সালে মজুরির পরিমাণ বাড়বে। এছাড়া চলতি বছর মূল্যস্ফীতির হার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের (বিওই) পূর্বাভাস অনুযায়ী ২ শতাংশের কাছাকাছি নেমে আসবে। এর পরিপ্রেক্ষিতে মে মাস থেকে হয়তো সুদহার কমানো হতে পারে। তিনি বলেন, ‘খারাপ খবর হচ্ছে প্রবৃদ্ধি এখনো নিম্নমুখী। তাই এটি বাড়ানোর জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায় থেকে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।’

প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশটির অধিবাসীদের জীবনযাপন মান ১ দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে। তবে নিম্ন আয়ের অধিবাসীদের জীবনযাপন মান ৭ থেকে ২০ শতাংশের মধ্যে থাকবে, যা কভিড-১৯ মহামারী-পূর্ববর্তী সময়ের তুলনায় নিম্নমুখী। সংস্থাটির মতে, যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ সরকার কম আয়ের অধিবাসীদের জীবনমান উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে। এজন্য পরিবহন অবকাঠামো, আবাসন ও দক্ষতা উন্নয়ন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।

এনআইইএসআর সর্বশেষ পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ২০২৩ সালের দ্বিতীয়ার্ধে যুক্তরাজ্যের অর্থনীতি মন্দার মুখে পড়তে পারে। তবে চলতি বছর তা দশমিক ৯ শতাংশ বাড়বে এবং ২০২৫ সালে ১ দশমিক ২ শতাংশ বাড়বে। এছাড়া চলতি বছর ভোক্তা মূল্যস্ফীতি ২ দশমিক ২ শতাংশে থাকবে, যা ২০২৩ সালের ৭ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কম। জ্বালানি খাতে ব্যয় কমে আসায় মূল্যস্ফীতির হার নিম্নমুখী রয়েছে এবং ২০২৮ সাল পর্যন্ত কাছাকাছি স্তরে থাকবে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।