বৈশ্বিক মন্দার বিষয়ে সতর্কবার্তা দিয়েছে ফেডএক্স করপোরেশন। শিগগিরই গোটা বিশ্ব মন্দার মুখোমুখি হবে বলে ধারণার কথা জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। মূলত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রয়োজনীয় সামগ্রী, নথি, উপহার, মালপত্র ইত্যাদি পরিবহন করে থাকে ফেডএক্স। পণ্য পরিবহনের চাহিদায় ব্যাপক আকারে পতন দেখা গিয়েছে। আর তা থেকেই মন্দার ব্যাপারে এ পূর্বাভাস দিয়েছে কোম্পানিটি। পাশাপাশি এটাও বলেছে, চলতি বছর রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ৫০ কোটি ডলার ঘাটতি থাকতে পারে।

রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পূর্বাভাস দেয়ার পরই পুঁজিবাজারে সবচেয়ে খারাপ দিন দেখেছে ফেডএক্স করপোরেশন। লেনদেন শেষ হওয়ার আগে কোম্পানিটির শেয়ারদর নেমে যে অংকে দাঁড়িয়েছিল তা মহামারী শুরুর সময়ের প্রায় কাছাকাছি। সম্প্রতি ফেডএক্সের শেয়ারদর ২১ শতাংশ কমে যায়, যা কোম্পানিটির ইতিহাসে একদিনে দরপতনের রেকর্ড।

সিএনএন বিজনেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিশ্বজুড়েই অর্থনীতির অবস্থা এখন বেশ দুর্বল, বিশেষ করে এশিয়া ও ইউরোপে। যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ফেডএক্সের পণ্য সরবরাহ ব্যবসা। কোম্পানিটি বলছে, চলতি প্রান্তিকের শেষ সপ্তাহে এসে পণ্য সরবরাহের চাহিদা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।

ফেডএক্স বলছে, চলতি বছরের তৃতীয় প্রান্তিকে ব্যবসার পরিস্থিতি আরো খারাপ হবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। আগামী নভেম্বর পর্যন্ত এ পরিস্থিতি চলতে পারে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় চলতি বছর বিশ্বজুড়েই ফেডএক্সের ব্যবসায় মন্দা দেখা দিয়েছে। আয় আরো ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারে বলেও বিশ্লেষণে উঠে এসেছে।

ফেডএক্সের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাজ সুব্রামান্নিয়াম বলেন, তাদের ব্যবসার গতিবিধি থেকেই বুঝতে পারছেন যে বৈশ্বিক মন্দা শুরু হতে যাচ্ছে। বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলেই মালবাহী জাহাজে পণ্য পরিবহনের পরিমাণ কমেছে। যদিও ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভোক্তারা কিছুটা সুবিধায় আছেন, তাদের ক্রয়ক্ষমতাও বেড়েছে। কিন্তু এর পরও মার্কিনদের মধ্যে খরচে কিছুটা লাগাম টানতে দেখা গিয়েছে।