বিশ্বের সবচেয়ে বড় উড়োজাহাজ নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস। প্রতিষ্ঠানটির প্রশস্ত আকারের ও দ্বিস্তরবিশিষ্ট একমাত্র যাত্রীবাহী বাহনের নাম এ৩৮০। অধিক যাত্রী বহনের পাশাপাশি নানা সুবিধার জন্য এ মডেলের উড়োজাহাজ বেশ জনপ্রিয়। এ মুহূর্তে এমিরেটস এয়ারলাইনসের বহরে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক এ৩৮০ রয়েছে। মহামারীসহ নানা কারণে মাঝে কিছুদিন যাত্রীসংকট থাকলেও এখন আবারো পূর্ণোদ্যমে সুপারজাম্বো জেট হিসেবে পরিচিত এ৩৮০-এর ব্যবহার শুরু করতে চায় এমিরেটস। কারণ বিশ্বজুড়ে বেড়েছে ভ্রমণেচ্ছু যাত্রীসংখ্যা।
মহামারীপূর্ব সময়ের তুলনায় দুবাইভিত্তিক এয়ারলাইনসটিতে এরই মধ্যে সক্ষমতা বেড়েছে ৮০ শতাংশ। বিশ্বজুড়ে সংকট শুরু হওয়ার আগের সময়ের ৯৫ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে যাত্রী পরিবহনের আওতা। এমিরেটসের প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা আদনান কাজিম বলেন, আগামী বছরের শেষ নাগাদ বহরে থাকা সব এ৩৮০ পরিচালন কার্যক্রমে যুক্ত করতে চাই আমরা। যে ২০ শতাংশ সক্ষমতা পূরণ বাকি রয়েছে, সেটুকুও পূরণ করতে চাই।
২০২০ সালের শুরু থেকেই মূলত সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকে নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ। একপর্যায়ে মহামারী শুরু হয়। সে সময় বিশ্বের প্রায় সব দেশই সীমান্তে নানা বিধিনিষেধ জারি করেছিল, বন্ধ হয়েছিল ভ্রমণ ও পর্যটন। কভিড-১৯ প্রতিরোধী টিকার প্রয়োগ শুরু ও সংক্রমণ কমে যাওয়ার ফলে বেশির ভাগ দেশই তুলে নিয়েছে বিধিনিষেধ। ফলে বাড়তে শুরু করেছে ভ্রমণের পরিমাণ। যাত্রীরা প্রয়োজন অনুযায়ী বিভিন্ন দেশে যেতে শুরু করেছে। এ অবস্থায় বসিয়ে রাখা বাহনগুলোও বহরে যুক্ত করতে শুরু করেছে এয়ারলাইনসগুলো। অনেকেই চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে বহরে নতুন বাহন যুক্ত করতে শুরু করেছেন।
এরই ধারাবাহিকতায় এমিরেটস এ৩৮০ উড়োজাহাজগুলোয় আবারো যাত্রী পরিবহনের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। এমিরেটসের কাছে এ মুহূর্তে ১১৬টি এয়ারবাস এ৩৮০ মডেলের বাহন রয়েছে। যার মধ্যে যাত্রী পরিবহনে নিয়োজিত রয়েছে ৮৫টি। দীর্ঘসময় গ্রাউন্ডিং থাকার পর যাত্রী চাহিদা মাথায় রেখে বাকিগুলোকেও ধীরে ধীরে যুক্ত করা হবে। অবশ্য বসিয়ে রাখা বাহনগুলোর মধ্যে কোনো কোনোটির মেরামত প্রয়োজন। বাকিগুলো যেকোনো সময় আকাশে ওড়ার জন্য প্রস্তুত।
২০১৯ সালের তুলনায় অনেকটাই পুনরুদ্ধারে সক্ষম হয়েছে এমিরেটস। তবে প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা হলো, ২০২৪ সালে পূর্ণ প্রবৃদ্ধির সঙ্গে পথচলা শুরু করতে চায় এমিরেটস। এজন্য এয়ারবাসের কাছে এ৩৫০ মডেলের দুই আইলবিশিষ্ট বাহনের ক্রয়াদেশ দেয়া হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, ২০২৪ সালেই এসব বাহন যাত্রী পরিবহন শুরু করবে। বহরে বিভিন্ন ধরনের বাহন যুক্ত করার পাশাপাশি ৪০০ নতুন পাইলট ও পাঁচ-ছয় হাজার কেবিন ক্রু নিয়োগের পরিকল্পনা করছে এমিরেটস। আগামী বছরের মাঝামাঝি নাগাদ এসব নিয়োগের কাজ সম্পন্ন হবে।










