বিশ্বব্যাপী পণ্যের উচ্চমূল্য এবং মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি বিরাজের পরও বিক্রি বেড়েছে ব্রিটিশ খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আইকিয়ার। আগের বছরের একই সময়ে তুলনায় ১২ শতাংশ বিক্রি বেড়েছে প্রতিষ্ঠানটির।

বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফার্নিচারের খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান আইকিয়া বলছে, চলতি বছরের ৩১ আগস্টের পর থেকে ক্রেতারা সরাসরি দোকানে গিয়ে কেনাকাটা শুরু করেন। এ সময় অনলাইনে কেনাকাটা কমে যায়। গত বছর মহামারী চলাকালে সাধারণ মানুষের মধ্যে অনলাইনে কেনাকাটার পরিমাণ বেড়ে গিয়েছিল। সে সময় বার্ষিক বিক্রির ৪৫ শতাংশই ছিল অনলাইনে। এবার তা কমে দাঁড়িয়েছে ৩৫ শতাংশে।

ক্রেতারা দোকানে ফিরতে শুরু করায় এবার বার্ষিক মোট বেচাকেনার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ কোটি পাউন্ডে। যার ফলে প্রথমবারের মতো মহামারীপূর্ব সময়ের কাছাকাছি পৌঁছেছে বিক্রির পরিমাণ। তাছাড়া পরিচালন মুনাফাও কমে ৫ কোটি পাউন্ডে এসেছে, গত বছর যা ছিল ৬ দশমিক ১ কোটি পাউন্ড। মূলত ক্রমবর্ধমান বিদ্যুৎ খরচ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি এবং পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ার কারণে মুনাফা কমছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। আইকিয়া বলছে, চলমান দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির প্রভাব ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেয়া হয়নি। ফলে এ বছরের গ্রীষ্মে বাড়েনি পণ্যের দাম। এর রেশ পড়েছে মুনাফার মার্জিনে।

যুক্তরাজ্যে আইকিয়ার কান্ট্রি রিটেইল ম্যানেজার পিটার জেলকেবি বলেন, আমাদের সরবরাহ চেইন পুনরুদ্ধার করা হয়েছে। পরিষেবার ক্ষেত্রে যে ধরনের উন্নয়ন প্রয়োজন ছিল তাও করা হয়েছে। কিন্তু যেহেতু মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতির এখনো উত্তরণ ঘটেনি এবং পণ্যের দাম ভোক্তা পর্যায়ে বাড়ানো হয়নি, তাই আমাদের অনেক কিছু লক্ষ রাখতে হচ্ছে। যেমন প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কীভাবে ক্রেতার কাছে সুলভে পণ্য পৌঁছে দেয়া যায় সেজন্য কাজ করছি আমরা।

তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্ব পরিস্থিতিতে ক্রেতারা সব সময় লক্ষ রাখছেন যে কীভাবে খরচ কমানো যায়, জ্বালানি সাশ্রয় করা যায়। ক্রেতারা তাপসহিষ্ণু পর্দা কিনছেন, পানি সাশ্রয় করতে সক্ষম এমন কল এবং বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী টিউবলাইট কিনছেন।

এ কর্মকর্তা জানান, আইকিয়া সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে যেন ভোক্তাপর্যায়ে পণ্যের দাম সুলভ রাখা যায় এবং সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে যেন ব্যবসাকে টেকসই করা যায়। ক্রেতার বাড়িতে পণ্য পৌঁছে দিতে এখন বিদ্যুচ্চালিত যানবাহন ব্যবহার হচ্ছে। ২০২৫ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ শূন্যে নামাতে চায় আইকিয়া। সে লক্ষ্য সামনে রেখে পণ্য হোম ডেলিভারির জন্য এরই মধ্যে ২৪টি বিদ্যুচ্চালিত গাড়ি কেনা হয়েছে।

নতুন বছরের জন্য বেশকিছু পরিকল্পনা সাজিয়ে সামনের দিকে এগোচ্ছে আইকিয়া। এরই মধ্যে তাদের ফার্নিচার পাই-ব্যাক স্কিমটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। পাশাপাশি ক্রেতার আরো কাছে পৌঁছতে এইনট্রি, প্রিস্টন ও স্টকপোর্টে তিনটি প্ল্যানিং অ্যান্ড অর্ডার পয়েন্ট খোলা হয়েছে। মূলত এগুলো বড়দিন ও নতুন বছরের কেনাকাটাকে মাথায় রেখেই খোলা হয়েছে। নতুন নতুন স্থানে আইকিয়া স্টোর খোলার পরিকল্পনাও চলছে। এছাড়া অনলাইন ব্যবসাকে আরো গতিশীল করতে ডার্টফোর্ড ও কেন্টে দুটি নতুন ডিস্ট্রিবিউশন সেন্টার খোলা হচ্ছে। এগুলো খুলতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড।