দেশে সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে শ্লথগতির মধ্যেও কিছুটা স্বস্তি ছিল রফতানি আয় ও রেমিট্যান্সে। কিন্তু চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাস পর রফতানি খাতের সেই সাফল্য ফিকে হয়ে এসেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধির দেখা পেলেও এরপরের পাঁচ মাস ধরে তা কমছে। ফলে আগের অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসের (জুলাই-ডিসেম্বর) তুলনায় চলতি অর্থবছরের একই সময়ে রফতানি আয় কমেছে ২ দশমিক ১৯ শতাংশ। রফতানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) হালনাগাদ করা তথ্যে এ চিত্র উঠে এসেছে।

ইপিবি সূত্রে জানা যায়, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রফতানি আয় ছিল ২ হাজার ৩৯৯ কোটি বা ২৩ দশমিক ৯৯ বিলিয়ন ডলার। যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ছিল ২ হাজার ৪৫৩ কোটি বা ২৪ দশমিক ৫৩ বিলিয়ন। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের ডিসেম্বরে রফতানি আয় হয় ৪ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার যা চলতি অর্থবছরে কমে হয়েছে ৩ দশমিক ৯৭ বিলিয়ন।

ইপিবির তথ্য বলছে, আগের অর্থবছরের তুলনায় গত নভেম্বরে রফতানি আয় কমেছে ৫ দশমিক ৫৪ শতাংশ। আগস্ট, সেপ্টেম্বর ও অক্টোবরে এ হার যথাক্রমে ২ দশমিক ৯৩, ৪ দশমিক ৬১ ও ৭ দশমিক ৪৩ শতাংশ। যদিও নভেম্বর মাসের তুলনায় ডিসেম্বরে ১ দশমিক ৯৭ শতাংশ রফতানি আয়ে প্রবৃদ্ধি হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় গতমাসে রফতানি আয় কমেছে ১৪ দশমিক ২৫ শতাংশ।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে রফতানি উন্নয়ন ব্যুরো জানায়, নভেম্বরের তুলনায় ডিসেম্বরে প্রধান রফতানি গন্তব্যগুলোর মধ্যে যথাক্রমে ৭ দশমিক ১৪ শতাংশ, ১৮ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশ এবং ১৪ দশমিক ৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি এবং যুক্তরাজ্যকে শীর্ষ তিন বাজার হিসেবে ধরে রেখেছে। একই সঙ্গে, কয়েকটি উদীয়মান ও কৌশলগত বাজারেও রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতে ২৫ দশমিক ৩৯ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ২১ দশমিক ৩৩ এবং কানাডায় ৯ দশমিক ১৩ শতাংশ—যা বাংলাদেশের বৈশ্বিক বাজারে ক্রমবর্ধমান উপস্থিতিকে নির্দেশ করে।

সামগ্রিকভাবে, বৈশ্বিক চাহিদা দুর্বল হয়ে পড়া, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত পাল্টা শুল্ক, বাংলাদেশ যেখানে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে রয়েছে সেই বাজারগুলোয় চীনের বাড়তি মনোযোগ, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা ও উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি এবং চলমান ভূরাজনৈতিক ও বাণিজ্যিক অনিশ্চয়তা—এসবই উল্লেখযোগ্য বহিরাগত চাপ সৃষ্টি করেছে—যা বাংলাদেশের রফতানি কার্যক্রমের চ্যালেঞ্জগুলোকে আরো জটিল করে তুলেছে।