জাপানের বড় কোম্পানিগুলোয় শীতকালীন বোনাসের ক্ষেত্রে সবচেয়ে তীব্র উল্লম্ফন দেখা গেছে। বোনাসের পরিমাণ গত বছরের তুলনায় ৮ দশমিক ৯২ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ লাখ ৯৪ হাজার ১৭৯ ইয়েনে। এ উল্লম্ফনকে ৪০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে তীব্র বলে জানিয়েছে দেশটির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের শক্তিশালী জোট দ্য জাপান বিজনেস ফেডারেশন বা কেইদানরেন।
সংগঠনটি বলছে, গড় শীতকালীন বোনাস তৃতীয়বারের মতো সর্বোচ্চে উঠেছে। এটিকে নভেল করোনাভাইরাসজনিত মহামারী থেকে উত্তরণের প্রমাণ হিসেবেই দেখা হচ্ছে। যদিও এটি ২০১৯ সালে মহামারীপূর্ব অবস্থায় এখনো পৌঁছেনি।
কেইদানরেনের জরিপে ১৮টি খাতের ১৬২টি গুরুত্বপূর্ণ কোম্পানি অংশ নেয়। এতে দেখা যায়, চলতি শীতে ১৬টি খাতের কোম্পানিতেই গড় বোনাস বেড়েছে। জরিপের ফল অনুযায়ী, অনুৎপাদন খাতে গত বছরের তুলনায় গড় বোনাস বেড়েছে ১৬ দশমিক ৮৬ শতাংশ, যা উৎপাদন খাতের বোনাস বৃদ্ধির তুলনায় বেশি।
এর মধ্যে স্টিল উৎপাদন কারখানাগুলোয় সবচেয়ে বেশি বোনাস বেড়েছে, যা ৮৭ দশমিক ২৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১০ লাখ ১৭ হাজার ৮৯৫ ইয়েনে। এ বৃদ্ধির কারণ হিসেবে অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের কারণে কারখানাগুলোয় স্টিলের চাহিদা বেড়ে যাওয়ার কথা বলা হচ্ছে।
এছাড়া নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণজনিত বিধিনিষেধ উঠে যাওয়ার কারণে বাণিজ্য খাত, যেমন ডিপার্টমেন্টাল স্টোর এবং অন্যান্য খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানেও বোনাস বেড়েছে গড়ে ২৭ দশমিক ১৮ শতাংশ। রেলওয়ে খাতেও বেড়েছে ২৫ দশমিক ৯৮ শতাংশ বোনাস।
অন্যদিকে মণ্ড ও কাগজ প্রস্তুতকারক শিল্প এবং বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোয় বোনাসের ক্ষেত্রে কিছু নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে।
তবে যেহেতু সার্বিকভাবে বেশির ভাগ খাতেই শীতকালীন বোনাসে উল্লম্ফন দেখা দিয়েছে, তাই কেইদানরেন মনে করছে, ধীরে ধীরে মহামারীর আগের সময়ের পর্যায়ে ফিরতে শুরু করেছে অর্থনীতি। সে অনুযায়ীই পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া চলছে।










