কয়েক দশক ধরে আফগানিস্তানের কৃষি খাত বিশ্বব্যাপী পরিচিতি পেয়ে আসছে পপি চাষের (মাদকদ্রব্যের কাঁচামাল) জন্য। তবে সম্প্রতি খাতটি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। উন্নতমানের জাফরান উৎপাদন ও রফতানির মাধ্যমে এরই মধ্যে দেশটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে সুনাম কুড়িয়েছে। এছাড়া তুলা ও কিশমিশ উৎপাদনেও ঝুঁকছেন দেশটির কৃষকরা। আফগানিস্তানের সরকারি সূত্র সম্প্রতি এ তথ্য জানিয়েছে। খবর সিনহুয়া ও মেনাএফএন।

আফগানিস্তানের কান্দাহার প্রদেশ কিশমিশ উৎপাদনে প্রসিদ্ধ। দেশটির কৃষি সেচ ও প্রানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কান্দাহার প্রদেশের মন্ত্রী হাফিজুল্লাহ সাঈদী জানান, প্রদেশটিতে এবার সব মিলিয়ে ৩৫ হাজার টন কিশমিশ উৎপাদন হয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি। পণ্যটি উৎপাদন ব্যবহার করা হয়েছে ২ লাখ ৮০ হাজার টন আঙুর।

হাফিজুল্লাহ সাঈদী বলেন, কান্দাহারে উৎপাদিত আঙুর অভ্যন্তরীণ বাজারের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রফতানি করা হয়। তবে দেশটি থেকে রফতানি হওয়া মোট আঙুরের এক-চতুর্থাংশ থাকে কিশমিশের দখলে।

তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে কিশমিশ রফতানিতে আফগানিস্তান একসময় বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় ছিল। এ খাতে ফের সুনাম ফেরাতে দেশটির সরকার ২০১৮ সালে একটি প্রকল্প হাতে নেয়। এ প্রকল্পের আওতায় পণ্যটির উৎপাদন ও রফতানি বাড়াতে কান্দাহারে একটি কিশমিশ প্রক্রিয়াজাত খামার স্থাপন করে আফগান সরকার, যা পণ্যটির উৎপাদন বাড়াতে মূল ভূমিকা রেখেছে।

মধ্য এশিয়ার দেশ আফগানিস্তানে গত কয়েক দশক মাত্রাতিরিক্ত খরা ভাব বিরাজ করছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে দেশটির কৃষি খাত। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে গৃহযুদ্ধ। গ্রামীণ সমাজে চলমান যুদ্ধাভাব ও অস্থিতিশীলতা দেশটির কৃষি খাত ও অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড প্রায় অসাড় করে ফেলেছে। এ পরিস্থিতিতে আফগান সরকার কৃষকদের জন্য কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও দেশটির অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলতে কৃষি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতি গ্রহণ করেছে।