প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে সরবরাহ বিঘ্নিত হয়ে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম বাড়ে। এবারো এর ব্যতিক্রম হয়নি। ভারত থেকে আমদানি সত্ত্বেও বাড়তে শুরু করেছে কাঁচামরিচের দাম। এ ধারাবাহিকতায় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি বাজারে দুদিনের ব্যবধানে আমদানি করা কাঁচামরিচের দাম কেজিতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা বেড়েছে। স্থানীয় আমদানিকারক ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, বৃষ্টিতে সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় বাড়তির দিকে রয়েছে কাঁচামরিচের দাম।

গতকাল হিলি স্থলবন্দরের পাইকারি আড়তগুলো ঘুরে ভারত থেকে আমদানি করা প্রতি কেজি কাঁচামরিচ মানভেদে ৫৫-৬৫ টাকায় বিক্রি হতে দেখা যায়। দুদিন আগেও পণ্যটি কেজিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। সেই হিসাবে দুদিনে হিলির পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচের দাম বেড়েছে কেজিতে সর্বোচ্চ ২৫ টাকা।

স্থানীয় আমদানিকারক আনোয়ার হোসেন বণিক বার্তাকে বলেন, বাড়তি বৃষ্টিপাত ও উত্তরের কয়েকটি জেলায় বন্যার কারণে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পানিতে ডুবে মরিচের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে ব্যাহত হয়েছে কাঁচামরিচ উৎপাদন। ফলে পাইকারি বাজারে কাঁচামরিচ সরবরাহ আগের তুলনায় কমে এসেছে, বেড়েছে দাম। এ পরিস্থিতিতে দেশের বাজারে কাঁচামরিচ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ও দাম ক্রেতাদের নাগালের মধ্যে রাখতে ভারত থেকে পণ্যটির আমদানি বাড়ানো হয়েছে। এতেও লাভ হয়নি। পাইকারি বাজারে লাফিয়ে লাফিয়ে দাম বাড়ছে কাঁচামরিচের। তিনি আরো বলেন, ভারত থেকে আমদানি শুরুর পর দেশের বাজারে কাঁচামরিচের দাম কিছুটা কমেছিল। কিন্তু সেই অবস্থান দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। দ্রুতই দাম বাড়তে শুরু করেছে পণ্যটির। একই সঙ্গে বৃষ্টির কারণে আমদানি করা কাঁচামরিচের মান খারাপ হওয়ায় হিলির আমদানিকারকরা এখন পণ্যটির আমদানিতে আগ্রহ হারাতে শুরু করেছেন।

ভারত থেকে কাঁচামরিচ আমদানিতে এ পরিস্থিতির প্রভাব পড়েছে। আগে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে প্রতিদিন ১৫-২০ ট্রাক কাঁচামরিচ আমদানি হতো। দুদিন ধরে এ স্থলবন্দর দিয়ে দিনে পাঁচ ট্রাক কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। এতে দেশের বাজারে কাঁচামরিচের সরবরাহ আগের তুলনায় কিছুটা কমে বাড়তির দিকে রয়েছে দাম।