জ্বালানি তেলের অব্যাহত দরপতন রোধে বহুদিন ধরে কাজ করছে পেট্রোলিয়াম এক্সপোর্টিং কান্ট্রিজ (ওপেক)। জোটটি জ্বালানি তেলের উত্তোলন হ্রাসের মাধ্যমে বাজার নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে যাচ্ছে। এ ধারাবাহিকতায় পণ্যটির হ্রাসসংক্রান্ত চুক্তির শর্ত ও মেয়াদ নতুন করে বাড়িয়েছে জোটটি, যা গত ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়। নতুন চুক্তির আওতায় জোটটির জ্বালানি তেল উত্তোলন রেকর্ড কমে গেছে। খবর রয়টার্স।

জানুয়ারিতে ওপেকের জ্বালানি তেল উত্তোলন আগের মাসের তুলনায় দৈনিক গড়ে ৬ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল কমেছে। এ সময়ে জোটভুক্ত দেশগুলো দৈনিক গড়ে ২ কোটি ৩৫ লাখ ৮৩ হাজার ব্যারেল জ্বালানি তেল উত্তোলন করেছে।

রয়টার্সের জরিপ অনুযায়ী, নতুন চুক্তি ছাড়াও একুয়েডরের জোট ত্যাগ ও অবরোধের জেরে লিবিয়ায় পণ্যটির উত্তোলন ব্যাহত হওয়ায় ওপেকের সামগ্রিক উত্তোলন রেকর্ড কমেছে। এছাড়া নতুন সীমাবদ্ধ চুক্তি মেনে জোটটির শীর্ষ জ্বালানি তেল উত্তোলন ও রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব পণ্যটির উত্তোলন ব্যাপকভাবে কমিয়েছে।

ওপেকের সর্বশেষ বৈঠকে আগের চুক্তির মেয়াদ আগামী মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। জোটটির আগের চুক্তিতে জ্বালানি পণ্যটির দৈনিক উত্তোলন গড়ে ১২ লাখ ব্যারেল কমিয়ে আনার কথা ছিল। পরে তা সংশোধন করে আরো পাঁচ লাখ ব্যারেল বাড়িয়ে দৈনিক গড়ে ১৭ লাখ ব্যারেল নির্ধারণ করা হয়।

তবে এত কিছু সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারের নিচে অবস্থান করছে। বছরের শুরুতে ইরানি জেনারেল সোলাইমানি হত্যাকাণ্ডের জেরে পণ্যটির বাজার ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠলেও তা বেশিক্ষণ স্থায়ী হয়নি। করোনাভাইরাস আতঙ্কে সম্প্রতি জ্বালানি তেলের মূল্য কমে তিন মাসের সর্বনিম্নে নেমেছে।