বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত শস্যের মধ্যে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে চাল। খাদ্যপণ্যটির উৎপাদনে এশিয়ার দেশগুলোর জয়জয়কার। তবে এশিয়ার পাশাপাশি আফ্রিকার দেশগুলোতেও চালের ব্যবহার বেশি হয়। চাল রফতানিতে এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে শীর্ষ তালিকায় উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার কয়েকটি দেশ রয়েছে। তবে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে আফ্রিকার প্রাধান্য বেশি। গত বছর বিশ্বজুড়ে চালের শীর্ষ ১০ উৎপাদনকারী, রফতানি ও আমদানিকারক দেশ নিয়ে এবারের ধারাবাহিক আয়োজন—

ফিলিপাইন

 বিশ্বের চাল আমদানিকারক দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে ফিলিপাইন। দেশটির ইতিহাসে ২০১৮ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটি ৩৬ লাখ টন চাল আমদানি করেছিল, যা আগের বছরের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। তবে গত বছর আন্তর্জাতিক বাজার থেকে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানি আগের বছরের তুলনায় ৩১ দশমিক ৯৪ শতাংশ কমেছে। এ সময় ফিলিপাইনে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে টানা দুই বছর পর ফিলিপাইনের চাল আমদানিতে মন্দা ভাব দেখা দিয়েছে।

 চীন

 পরপর দুই বছরের মন্দা ভাবের ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ চীন আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ২৪ লাখ টন চাল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২৫ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ৪১ দশমিক ৮২ শতাংশ কমে ৩২ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছিল। চীনের ইতিহাসে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৫৫ লাখ টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭৭ শতাংশ বেশি। এর পর থেকে চীনের চাল আমদানি খাতে টানা মন্দা ভাব বজায় রয়েছে।


 ইইউ

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলো সম্মিলিতভাবে বিশ্বের তৃতীয় শীর্ষ চাল আমদানিকারকের স্বীকৃতি পেয়েছে। গত বছর এসব দেশ আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ২২ লাখ টন চাল আমদানি করেছে, যা আগের বছরের তুলনায় ২ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। ইইউর ইতিহাসে এটাই চাল আমদানির সর্বোচ্চ রেকর্ড। এর মধ্য দিয়ে টানা আট বছর ধরে ইইউর চাল আমদানিতে চাঙ্গা ভাব বজায় রয়েছে। ২০১৮ সালে ইইউভুক্ত দেশগুলো আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ২১ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি করেছিল, যা আগের বছরের তুলনায় ৭ দশমিক ১৩ শতাংশ কম।

আইভরি কোস্ট

আফ্রিকা মহাদেশের শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ আইভরি কোস্ট। গত বছর খাদ্যপণ্যটির আমদানিকারকদের বৈশ্বিক শীর্ষ তালিকায় দেশটি চতুর্থ অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে। এ সময় আন্তর্জাতিক বাজার থেকে সব মিলিয়ে ১৩ লাখ টন চাল আমদানি করেছে দেশটি, যা আগের বছরের তুলনায় ৩ দশমিক ৭০ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ১ দশমিক ৪৬ শতাংশ কমে ১৩ লাখ ৫০ হাজার টন চাল আমদানি হয়েছিল। আইভরি কোস্টের ইতিহাসে ২০১৭ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ১৩ লাখ ৭০ হাজার টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৫ দশমিক ৩৮ শতাংশ বেশি।

 নাইজেরিয়া

বিশ্বের পঞ্চম শীর্ষ চাল আমদানিকারক দেশ নাইজেরিয়া। আফ্রিকার এ দেশটিতে গত বছর ১২ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছে, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৬ দশমিক ৮৪ শতাংশ কম। এর আগের বছর দেশটিতে ৫ শতাংশ কমে ১৯ লাখ টন চাল আমদানি হয়েছিল। নাইজেরিয়ার ইতিহাসে ২০১১ সালে সবচেয়ে বেশি চাল আমদানির রেকর্ড হয়েছিল। ওই বছর দেশটির আমদানিকারকরা আন্তর্জাতিক বাজার থেকে ৩২ লাখ টন চাল আমদানি করেছিলেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৩৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ বেশি। তবে তিন বছর ধরে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির আমদানিতে টানা মন্দা ভাব বজায় রয়েছে। (চলবে)

 

ইউএসডিএ ও এগ্রিমানি