একদিকে প্রতিকূল আবহাওয়া, অন্যদিকে ক্ষতিকারক পতঙ্গের সংক্রমণ—এ দুইয়ের জের ধরে ২০২০-২১ মৌসুমে ফ্রান্সে গম উৎপাদনে বড় ধরনের পতন দেখা দিতে পারে। ইউরোপের অন্যতম শীর্ষ এ গম উৎপাদনকারী দেশে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন আগের মৌসুমের তুলনায় এক-চতুর্থাংশ কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কমতে পারে ফ্রান্স থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানিও। মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) গ্লোবাল এগ্রিকালচারাল ইনফরমেশন নেটওয়ার্ক শীর্ষক প্রতিবেদনে এ আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে। খবর ওয়ার্ল্ডগ্রেইনডটকম ও রয়টার্স।

প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের আগস্টের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত ফ্রান্সে এবারের মৌসুমে আবাদ করা সফট হুইটের ৯০ শতাংশ সংগ্রহ সম্পন্ন হয়েছে। বাস্তব পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে দেখা গেছে, এবার দেশটির ইতিহাসে তৃতীয় সর্বনিম্ন অবস্থানে নেমে আসতে পারে গম উৎপাদনের পরিমাণ। ইউএসডিএর পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে ফ্রান্সে সফট হুইটের সম্মিলিত উৎপাদন ২ কোটি ৯৫ লাখ টন থেকে ২ কোটি ৯৭ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। আর মৌসুম শেষে দেশটিতে সম্মিলিতভাবে ৩ কোটি ১০ লাখ টন গম উৎপাদন হতে পারে। ২০১৯-২০ মৌসুমের তুলনায় চলতি বছর ফ্রান্সে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে এক-চতুর্থাংশ বা ২৫ শতাংশ।

এবারের মৌসুমে ফ্রান্সের গম উৎপাদন খাত প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গত শরতের পর থেকে দেশটির কৃষিপ্রধান এলাকাগুলোয় বৃষ্টিপাত তুলনামূলক কম হয়েছে। তাপমাত্রা ছিল গম উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনের তুলনায় বেশি। কোথাও কোথাও রীতিমতো খরা পরিস্থিতি বিরাজ করেছে। এর পাশাপাশি চলতি বছরের শুরুর দিকে কয়েকটি এলাকার গম ক্ষেতে ক্ষতিকারক পতঙ্গের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছিল। এমন মিলিত আঘাতের প্রভাব পড়েছে কৃষিপণ্যটির উৎপাদনে। মৌসুম শেষে দেশটিতে গম উৎপাদন এক-চতুর্থাংশ কমে আসছে।

উৎপাদন হ্রাসের জের ধরে ২০২০-২১ মৌসুমে ফ্রান্স থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে কৃষিপণ্যটির রফতানি কমারও সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ। প্রতিষ্ঠানটির পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২০-২১ মৌসুমে ফ্রান্স থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে গম রফতানির পরিমাণ ১ কোটি ৩০ লাখ টন থেকে সর্বোচ্চ ১ কোটি ৫০ লাখ টনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে পারে। ২০১৯-২০ মৌসুমে দেশটি থেকে রেকর্ড ২ কোটি ৩০ লাখ টন গম রফতানি হয়েছিল।

ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত (ইইউ) দেশগুলোর মধ্যে ফ্রান্স, জার্মানি ও স্পেনে সবচেয়ে বেশি গম উৎপাদন হয়। প্রতি বছর এসব দেশ থেকে কৃষিপণ্যটির রফতানিও হয় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে। ইউএসডিএর অন্য এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এবারের মৌসুমে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় সম্মিলিতভাবে ১৪ কোটি ১০ লাখ টন গম উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। আগের মৌসুমের তুলনায় এবার এসব দেশে কৃষিপণ্যটির উৎপাদন কমতে পারে ৮ দশমিক ৯০ শতাংশ। এর আগের মৌসুমে ইইউভুক্ত দেশগুলোয় সব মিলিয়ে ১৫ কোটি ৪৭ লাখ টনের বেশি গম উৎপাদন হয়েছিল। এটা ছিল ইইউর ইতিহাসে গম উৎপাদনের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রেকর্ড।

উৎপাদন হ্রাসের জের ধরে এবার ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে গম রফতানিও কমতির দিকে থাকতে পারে। ইউএসডিএর পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, এবারের মৌসুমে ইইউভুক্ত দেশগুলো থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ২ কোটি ৮০ লাখ টন গম রফতানি হতে পারে। আগের মৌসুমের তুলনায় এবার ইইউর গম রফতানি কমতে পারে ২৩ দশমিক ২৯ শতাংশ। এর আগের মৌসুমে এসব দেশ থেকে সব মিলিয়ে ৩ কোটি ৬৫ লাখ টন গম রফতানি হয়েছিল। এটাই ছিল ইইউর ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি গম রফতানির রেকর্ড।

এদিকে গমের পাশাপাশি প্রতিকূল আবহাওয়ার কবলে পড়েছে ফ্রান্সের যব উৎপাদন খাতও। এর জের ধরে ২০২০-২১ মৌসুমে দেশটিতে সব মিলিয়ে ১ কোটি ১৩ লাখ টন যব উৎপাদনের সম্ভাবনা দেখছে ইউএসডিএ। যদিও এবারের মৌসুমে ফ্রান্সে যব উৎপাদনের আওতায় জমির ব্যবহার আগের তুলনায় বেড়েছিল।