বিশ্বজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক মন্দা এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদহার বাড়ানোর কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর (আসিয়ান) অর্থনীতি সম্পর্কে নতুন আশঙ্কার কথা জানিয়েছেন অর্থনীতিবিদরা। তাদের পূর্বাভাস বলছে, ২০২৩ সালে এ অঞ্চলের বড় অর্থনীতির পাঁচটি দেশের প্রবৃদ্ধি কমবে।
জাপান সেন্টার ফর ইকোনমিক রিসার্চ এবং নিক্কেই এশিয়ার যৌথ গবেষণায় বলা হচ্ছে, আগামী বছর ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর ও থাইল্যান্ডের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৪ দশমিক ৩ শতাংশ হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে গত জুনে করা সমীক্ষায় দেশগুলোর জন্য ৪ দশমিক ৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস দেয়া হয়েছিল। অর্থাৎ তিন মাসের ব্যবধানে প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমানো হয়েছে। স্বতন্ত্রভাবে দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাসেও সংশোধন আনা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার জন্য এর আগে ৫ দশমিক ১ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ঘোষণা করা হলেও তা কমিয়ে ৪ দশমিক ৯ শতাংশ করা হয়েছে। একইভাবে মালয়েশিয়ার প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস ৪ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৪ শতাংশ, ফিলিপাইনের জিডিপি ৫ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ দশমিক ৪ শতাংশ, সিঙ্গাপুরের জিডিপি ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশ এবং থাইল্যান্ডের জিডিপি ৪ দশমিক ৪ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৩ দশমিক ৭ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে।
মূল্যস্ফীতির সঙ্গে লড়াইয়ে মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে। এ কারণে এশীয় দেশগুলোর মুদ্রার মানে বড় পতন দেখা দিতে পারে এবং দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংক এক ধরনের চাপের মুখে পড়বে।
গত সেপ্টেম্বরে যখন ফেডারেল রিজার্ভ সুদহার ৭৫ বেসিস পয়েন্ট বাড়িয়ে দিল তখন থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া ও ফিলিপাইনের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও তা অনুসরণ করেছিল। গত জুনেই মুদ্রানীতি কঠোর করেছিল সিঙ্গাপুরের মুদ্রানীতি কর্তৃপক্ষ।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি ও ভোক্তাচাহিদা কমে যাওয়ার প্রভাব পড়েছে এশিয়ার দেশগুলোর রফতানিতে। যার ফলাফল দেখা যাবে আগামী বছরের আঞ্চলিক প্রবৃদ্ধিতে। সিআইএমবি থাই ব্যাংকের গবেষণা প্রধান আমোনথেপ চাওলা বলেন, বৈশ্বিক মন্দার আশঙ্কা থেকে যুক্তরাষ্ট্র মুদ্রানীতি কঠোর করেছে।
যার ফলে থাইল্যান্ডের রফতানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
অন্যদিকে চীনের অর্থনৈতিক মন্দা পরিস্থিতিও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। আবার অর্থনৈতিক দিক বাদ দিলেও তাইওয়ান ইস্যুতে আশপাশের দেশগুলো ভূরাজনৈতিক এক ধরনের হুমকির মধ্যে পড়েছে। কারণ দ্বীপরাষ্ট্রটি কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্যের বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। এসব কারণেই মূলত এ অঞ্চলের দেশগুলোর প্রবৃদ্ধি বাধাগ্রস্ত হবে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।










