বড় ধরনের লোকসানে পড়েছে বৈশ্বিক রেস্তোরাঁ চেইন ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকস। গত অক্টোবরে শুরু হওয়া ইসরায়েল-হামাস যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী বয়কটের মুখে পড়ে ফুড জায়ান্ট দুটি। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও মুসলিমপ্রধান অঞ্চলে ম্যাকডোনাল্ডসের বিক্রি কমেছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে প্রভাবিত হয়েছে স্টারবাকসের বিক্রি। খবর সিএনবিসি নিউজ। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, মধ্যপ্রাচ্যে বিক্রির মন্দার কারণে গত বছরের চতুর্থ প্রান্তিকে ম্যাকডোনাল্ডসের আয় কমেছে। সোমবার শেয়ার দরে প্রায় ৪ শতাংশ পতন ঘটে। অন্যদিকে গতকাল স্টারবাকসের শেয়ার দর কমেছে প্রায় ২ শতাংশ। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, গত বছরের শেষ তিন মাসে যুক্তরাষ্ট্রেও বিক্রির পরিমাণ কমেছে। 

যুক্তরাষ্ট্রের চেইন ফুড জায়ান্টগুলোর অন্যতম ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকস। গাজায় হামলার পর ইসরায়েলসংশ্লিষ্ট বেশকিছু কোম্পানির বিরুদ্ধে বয়কটের ডাক ওঠে। বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, বর্তমান পরিস্থিতি ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকসের ভবিষ্যতে চাহিদার ওপর আরো প্রভাব ফেলতে পারে। 

স্টারবাকসের সিইও লক্ষ্মণ নরসিমা জানান, মধ্যপ্রাচ্যে কোম্পানিটির বিক্রি কমেছে। বয়কটের কারণে মার্কিন ক্যাফেগুলোকেও ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ৩১ ডিসেম্বর শেষ হওয়া আর্থিক বছরের প্রথম প্রান্তিকে ৫ শতাংশ বাড়লেও পরে গ্রাহকের সংখ্যা কমেছে। 

কফি জায়ান্টটি নতুন পানীয় প্রবর্তনের মাধ্যমে চাহিদা পুনরুদ্ধার করতে চাইছে বলেও জানান তিনি। সঙ্গে উল্লেখ করেন, বিভিন্ন মাধ্যমে প্রচারণা বাড়ানো হবে।

মাস কয়েক আগে স্টারবাকস ওয়ার্কাস ইউনাইটেড ফিলিস্তিনিদের পক্ষে টুইট করে। এ কারণে বয়কটের মুখোমুখি হয় প্রতিষ্ঠানটি। পরে ইউনিয়নের পক্ষে ক্ষমা চাইলেও ট্রেডমার্ক লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। অন্যদিকে ইসরায়েলি লাইসেন্সধারী সেনাদের ছাড় দেয়ার প্রস্তাব দেয় ম্যাকডোনাল্ডস। এ কারণে গাজায় আক্রমণের বিরোধীরা প্রতিষ্ঠানটি বয়কট করে। 

মার্কিন আর্থিক সংস্থা টিডি কাউয়েনের বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু চার্লসের মতে, মধ্যপ্রাচ্য ম্যাকডোনাল্ডসের বৈশ্বিক মোট বিক্রয়ে প্রায় ২ শতাংশ অবদান রাখে । 

বার্গারের জন্য জনপ্রিয় এ রেস্তোরাঁর সিইও ক্রিস কেম্পজিনস্কি সম্প্রতি জানান, মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ার মতো সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম দেশে বিক্রি কমে গেছে। ইউরোপের সবচেয়ে বেশি মুসলিম জনসংখ্যা রয়েছে ফ্রান্সে, সেখানেও বিক্রি কমেছে। 

ম্যাকডোনাল্ডস ধারণা করছে, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বাজার পুনরুদ্ধার হবে না। তবে যুক্তরাষ্ট্রে ম্যাকডোনাল্ডসের বিক্রি তেমন কমেনি।

ম্যাকডোনাল্ডস ও স্টারবাকস ছাড়াও এ যুদ্ধে বেশকিছু বৈশ্বিক প্রতিষ্ঠান বয়কটের মুখে পড়েছে। এর মধ্যে যুদ্ধবিরোধী সংগঠকদের লক্ষ্য হয়ে উঠেছে ডমিনোস পিজা, পাপা জনস, বার্গার কিং ও পিজা হাটের মতো ফুড চেইন।

পিজা হাটের মালিকানা প্রতিষ্ঠান ইয়াম ব্র্যান্ডস, ডমিনোস পিজা ও পাপা জোন্স শিগগিরই সর্বশেষ প্রান্তিকের ব্যবসায়িক ফলাফল প্রকাশ করবে। চলমান বয়কট তাদের বিক্রিতে কতটা প্রভাব ফেলেছে, সে ফলাফলে স্পষ্ট হয়ে উঠবে। 

সোশ্যাল মিডিয়ার পোস্ট অনুসারে, গত বছরের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ইসরায়েলে খাবার বিনামূল্যে বিতরণ করেছে ম্যাকডোনাল্ডস। এরপর কুয়েত, পাকিস্তান ও অন্যান্য দেশের ফ্র্যাঞ্চাইজি বিবৃতি জারি করেছে যে তারা ইসরায়েলি ফ্র্যাঞ্চাইজির সঙ্গে কাজ করবে না।