কর্মীদের মধ্যে কাজের উদ্যম বাড়াতে এবং কাজের মানোন্নয়নে সপ্তাহে কর্মদিবসের সংখ্যা কমিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিল ফোর ডে উইক গ্লোবাল নামে একটি অলাভজনক প্রতিষ্ঠান। নিউজিল্যান্ডভিত্তিক প্রতিষ্ঠানটির এ উদ্যোগে শামিল হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং ইউরোপের বেশকিছু প্রতিষ্ঠান। এদের কেউ কেউ গত ফেব্রুয়ারি থেকেই পাইলট প্রকল্পের অংশ হিসেবে নিজের প্রতিষ্ঠানে পাঁচদিনের বদলে চারদিন কর্মদিবস ঘোষণা করেছিল। তবে পাইলটিং শেষ হলেও আগের নিয়মে ফিরতে রাজি নয় প্রতিষ্ঠানগুলো। কারণ চার কর্মদিবস প্রতিষ্ঠানের আয় বাড়িয়েছে, কর্মীরা আগের চেয়ে অনেক বেশি উদ্যম নিয়ে কাজ করছেন, বেড়েছে কাজের মানও। খবর অ্যারাবিয়ান বিজনেস।
ফোর ডে উইক গ্লোবালের এ প্রকল্পে অংশ নিয়েছিল ৩৩টি প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিক পর্যায় শেষে পাওয়া তথ্যে দেখা গেল, এ সময়ের মধ্যে প্রতিষ্ঠানগুলোর আয় বেড়েছে। সেই সঙ্গে কর্মীদের কর্মদক্ষতাও বেড়েছে, ছুটি নেয়ার পরিমাণ কমেছে। এছাড়া সপ্তাহের এ চার কর্মদিবসে কর্মীরা বাড়ির চেয়ে অফিসে বসে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেছেন।
গবেষণা দলের প্রধান অর্থনীতিবিদ জুলিয়েট শোর বলেন, ধীরে ধীরে সবারই দুইদিনের পরিবর্তে তিনদিন ছুটির দিকে যাওয়া উটিত। কারণ সপ্তাহে কেবল দুইদিন ছুটিতে প্রয়োজন মিটছে না কর্মীদের। অনেক দেশেই সাপ্তাহিক কর্মদিবসের যে রীতি তা বহু বছর আগে ঠিক করা। সেই নিয়ম আধুনিক জীবন কাঠামোর সঙ্গে মেলে না। যারা চাকরি করেন তাদের ভালো থাকার জন্য সাপ্তাহিক কর্মদিবসের সংখ্যায় পরিবর্তন আনা উচিত।
পাইলট প্রকল্পে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকে পাওয়া তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখিয়েছেন যে সপ্তাহে চার কর্মদিবস কী ধরনের পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে। যুক্তরাষ্ট্র, আয়ারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার ৯৬৯ জন কর্মীর ওপর ১০ মাস পর্যবেক্ষণ চালানো হয়। কর্মঘণ্টা কমে যাওয়ায় তাদের জীবনে কী প্রভাব পড়েছে সেটিও গবেষণায় উঠে আসে। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রেস্তোরাঁ চেইন যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে জলবায়ু বিষয়ক অলাভজনক প্রতিষ্ঠানও।
উৎপাদনশীলতা থেকে সুস্থতা—সব সূচকেই এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিগুলো ও তাদের কর্মীদের উন্নয়ন হয়েছে। এমন সময়ে এ গবেষণার ফল প্রকাশ হলো যখন বিশ্বের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কোম্পানিগুলো মহামারীর কারণে সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে চেষ্টা করছে। যার ফলে কাজের চাপ, অনিশ্চয়তা ও দুশ্চিন্তাও বাড়ছে।
গবেষকরা বলছেন, সপ্তাহে চার কর্মদিবস চালু করা প্রতিষ্ঠানগুলোয় নির্ধারিত সময়ে আয় বেড়েছে ৮ শতাংশ। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে আয় বৃদ্ধি হয়েছে ৩৮ শতাংশ। এ প্রবৃদ্ধির অর্থ হলো, কর্মদিবসের যে পরিবর্তন তা ইতিবাচক।
দেখা গিয়েছে যে আগের চেয়ে কর্মীদের ছুটি নেয়ার প্রবণতা কমে গিয়েছে। কারণ তারা এমনিতেই সপ্তাহে তিনদিন ছুটি কাটানোর সুযোগ পাচ্ছেন। কর্মীদের চাকরি ছেড়ে দেয়ার পরিমাণ কমেছে, বেড়েছে নতুন কর্মী নিয়োগ।
কিকস্টার্টারের চিফ স্ট্র্যাটেজি অফিসার জন লেল্যান্ড বলেন, সপ্তাহে চার কর্মদিবসের যে সুবিধাগুলো রয়েছে সেগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা কর্মীদের মধ্যে অনেক বেশি অংশগ্রহণ দেখতে পেয়েছি। এ অংশগ্রহণ আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। কর্মীদের মধ্যে উৎপাদনশীলতা আগের চেয়ে অনেক বেড়েছে। নতুন সময়ের কারণে আরো বেশি সময় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে থাকতে আগ্রহী হচ্ছেন কর্মীরা।
উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরে কিকস্টার্টারের পাইলটিং শেষ হয়েছে। তবে আগের মতো পাঁচ কর্মদিবসে ফিরে যায়নি প্রতিষ্ঠানটি। এখন সপ্তাহে চার কর্মদিবস হিসেবেই অফিস করছেন কর্মীরা।
গবেষণায় অংশ নেয়া ৯৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই চারদিন কর্মদিবসে স্থির থাকছে। প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্তৃপক্ষ বলছে, এতে কর্মীদের মানসিক চাপ, দুশ্চিন্তা ও কারো কারো ঘুমের সমস্যাও দূর হয়েছে। আগের চেয়ে ব্যায়াম বা শরীর সুস্থ রাখার জন্য বেশি সময় পাচ্ছেন কর্মীরা। আগের চেয়ে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে বেশি সময় কাটাচ্ছেন তারা। আর কর্মীরা ভালো বোধ করলে স্বাভাবিকভাবেই প্রতিষ্ঠানের কাজ ভালো হয়, আয় ভালো হয়।










