চলতি মৌসুমে ভিয়েতনামে কফি উৎপাদন এক-পঞ্চমাংশ কমার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও গাছে পুষ্টির পরিমাণ কমে যাওয়ায় কফি বিনের গুণগত মান ব্যাহত হচ্ছে। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

ভিয়েতনামের সবচেয়ে বড় কফি আবাদি অঞ্চল সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের কৃষক ৪০ হাজার ১০০ থেকে ৪২ হাজার ডংয়ে (১ ডলার ৬৯ সেন্ট থেকে ১ ডলার ৭৭ সেন্ট) প্রতি কেজি কফি বিক্রি করছেন। গত সপ্তাহে এসব কফি বিক্রি হয়েছিল ৪০ হাজার থেকে ৪০ হাজার ৮০০ ডংয়ে।

কৃষক এখন এরই মধ্যে গাছ থেকে বেশির ভাগ কফি বিনই সংগ্রহ করেছেন। এ পর্যন্ত যে পরিমাণ কফি বিন সংগ্রহ করা হয়েছে তা একেবারই আশাব্যঞ্জক নয়। সেন্ট্রাল হাইল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা বলছেন, প্রত্যাশার তুলনায় উৎপাদন ২০ শতাংশ কমার আশঙ্কা রয়েছে।

ব্যাবসায়ীরা আরো জানান, নভেম্বরে বৃষ্টির কারণে কফি বিন সংগ্রহ ব্যাপক ব্যাহত হয়েছে। এছাড়া সার সংকটও উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সারের পর্যাপ্ত সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। এছাড়া দামও বেশি। সারের অভাবে কফি গাছে পুষ্টিহীনতা দেখা দিয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক সমীক্ষায় বলা হয়েছে, ২০২২-২৩ বিপণন মৌসুমে ভিয়েতনামে তিন কোটি ব্যাগ (প্রতি ব্যাগে ৬০ কেজি) কফি উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে, যা আগের মৌসুমের তুলনায় কিছুটা কম।

এদিকে দাম নিয়ে ক্রেতা ও বিক্রেতারা একমত হতে পারছেন না। ফলে পানীয় পণ্যটির বাণিজ্যিক কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। বর্তমানে ব্যবসায়ীরা ৫ শতাংশ ব্ল্যাক ও ব্রোকেন গ্রেড ২ রোবাস্তা কফি টনপ্রতি ৭০-৮০ ডলার মূল্যছাড়ে প্রস্তাব করছেন। এসব কফি মে মাসে সরবরাহ করা হবে।   

মূল্যস্ফীতি ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমে বহুমুখী প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও এ বছর কফি রফতানিতে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি দেখেছে ভিয়েতনাম। এক্ষেত্রে নতুন রেকর্ড তৈরি হওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে। চলতি বছর দেশটি পানীয় পণ্যটি রফতানির মাধ্যমে ৪০০ কোটি ডলার আয় করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। তবে উৎপাদন কমে যাওয়া খবর রফতানিতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে।

ভিয়েতনামের কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের (এমএআরডি) দেয়া তথ্যানুযায়ী, চলতি বছরের প্রথম নয় মাসে দেশটি ৩১০ কোটি ডলারের কফি রফতানি করেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় রফতানি বেড়েছে ৩৭ দশমিক ৬ শতাংশ। রফতানিযোগ্য কফির দাম বেড়েছে ২২ শতাংশ। প্রতি টনের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ২৮০ ডলারে।

এমএআরডির তথ্যে দেখা গিয়েছে, ভিয়েতনামের কফি ব্যবহারের দিক থেকে এখনো শীর্ষস্থান ধরে আছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। বছরের প্রথম আট মাসে ব্লকটির বাজার হিস্যা দাঁড়িয়েছে ৩৯ শতাংশে। এ সময় ইইউ ভিয়েতনাম থেকে ১১০ কোটি ডলার মূল্যে ৪ লাখ ৯০ হাজার ৭০০ টন কফি ক্রয় করেছে। পরিমাণের দিক থেকে আমদানি ২৭ শতাংশ এবং মূল্যমানের দিক থেকে ৫৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।