থাইল্যান্ডের চাল উৎপাদনকারী এলাকাগুলোয় চলছে খরা। চলতি বছরের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশটিতে বিদ্যমান খরা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। এ কারণে আগামী দিনগুলোয় থাইল্যান্ডের বাজারে চালের রফতানি মূল্য বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সর্বশেষ সপ্তাহে দেশটিতে খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য অপরিবর্তিত ছিল। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

সর্বশেষ সপ্তাহে থাইল্যান্ডের বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চাল টনপ্রতি ৪২৫-৪৩৫ ডলারে বিক্রি হয়েছে। দুই সপ্তাহ ধরে দেশটিতে একই দামে বিক্রি হচ্ছে রফতানিযোগ্য চাল। তবে ২০১৮ সালের জুনের এটাই দেশটিতে চালের সর্বোচ্চ রফতানি মূল্য।

থাইল্যান্ড বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ চাল রফতানিকারক দেশ। দেশটির চাল উৎপাদন ও রফতানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন আন্তর্জাতিক বাজারে খাদ্যপণ্যটির মূল্য নির্ধারণে প্রভাব ফেলে। খাতসংশ্লিষ্টরা জানান, প্রতি বছর নভেম্বর থেকে থাইল্যান্ডে শুষ্ক মৌসুম শুরু হয়। এবারের মৌসুমের শুরুতেই দেশটির চাল উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোয় খরা দেখা দিয়েছে। এরই মধ্যে দেশটির উত্তর, উত্তর-পূর্ব এবং মধ্যাঞ্চলের ১৪ প্রদেশে ছড়িয়ে পড়েছে খরা। জুন নাগাদ এ পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকতে পারে। ফলে উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বাড়তে পারে চালের রফতানি মূল্য।

সর্বশেষ সপ্তাহে ভিয়েতনামের বাজারে রফতানিযোগ্য ৫ শতাংশ ভাঙা চালের দাম টনে ৫ ডলার কমেছে। এ সময় খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য আগের সপ্তাহের তুলনায় কমে টনপ্রতি ৩৫৫ ডলারে নেমে এসেছে। হো চি মিন সিটিভিত্তিক ব্যবসায়ীরা জানান, গত সপ্তাহে ভিয়েতনামে চালের চাহিদায় শ্লথতা বজায় ছিল। বেচাকেনা হয়েছে তুলনামূলক কম। মূলত এ কারণে দেশটির বাজারে খাদ্যপণ্যটির রফতানি মূল্য আগের তুলনায় কমেছে।

ভারতের বাজারেও অনেকটা একই চিত্র দেখা গেছে। দেশটি থেকে বাংলাদেশ ছাড়াও আফ্রিকার দেশগুলোয় চালের রফতানি চাহিদা কম রয়েছে। ফলে দামের কোনো উত্থান-পতন দেখা যায়নি। সর্বশেষ সপ্তাহে ভারতের বাজারে ৫ শতাংশ ভাঙা চালের রফতানি মূল্য টনপ্রতি ৩৬২-৩৬৬ ডলারের মধ্যে অপরিবর্তিত ছিল।