ভারতের পল্লী অঞ্চলে বেশ শক্তিশালী চাহিদা দেখতে পাচ্ছেন বেসরকারি খাতের ঋণদাতারা। এতে চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে (অক্টোবর-মার্চ) ভারতের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চাঙ্গা হচ্ছে বলে আশা করছেন দেশটির অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। ভারতের ২৯টি শীর্ষ আর্থিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সামনে এ রকম আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি। দ্য হিন্দু।
অর্থমন্ত্রী সীতারমণ বলেন, চলতি অর্থবছরের দ্বিতীয়ার্ধে প্রত্যেক খাতেই প্রবৃদ্ধিতে চাঙ্গা ভাব দেখা দেবে, যদিও এক-দুটো খাতে কিছুটা শ্লথগতি বহাল থাকবে।
গত এপ্রিল থেকে জুন প্রান্তিকে ভারতের প্রবৃদ্ধি ছয় বছরের সর্বনিম্নে নেমে ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। দেশটির অর্থনীতিকে ৫ ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তর করার রূপকল্প হাতে নেয়া নরেন্দ্র মোদি নেতৃত্বাধীন সরকার এ বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে ঘুরে দাঁড়াতে বেশকিছু প্রণোদনা কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার সীতারমণ জানান, বেসরকারি ব্যাংকগুলো তাকে আশ্বস্ত করেছে তাদের তারল্যসংকট নেই এবং পল্লী অঞ্চলে ঋণের চাহিদা বেশ শক্তিশালী।
বেসরকারি খাতের কয়েকটি ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তা, নন-ব্যাংকিং আর্থিক প্রতিষ্ঠান (এনবিএফসি) ও মাইক্রোফিন্যান্সের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠকের পর গণমাধ্যমকে অর্থমন্ত্রী জানান, পল্লী অঞ্চলে সরকারের ঋণ সম্প্রসারণ প্রচেষ্টায় অংশগ্রহণের ব্যাপারে রাজি হয়েছে অনেক বেসরকারি ব্যাংক।
ভারতের ৪০০ জেলায় শিগগিরই ঋণ সম্প্রসারণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে যাচ্ছে রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত ব্যাংকগুলো। এতে বেসরকারি ব্যাংকগুলোও সার্বিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
সীতারমণ বলেন, বেসরকারি খাতের ব্যাংকগুলোর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকটি একটি টনিক হিসেবে কাজ করেছে। একটি ব্যাংকও বলেনি যে তাদের তারল্য সংকট রয়েছে। তারা বলছে পল্লী অঞ্চলে চাহিদা প্রবৃদ্ধি বেশ শক্তিশালী।
বৈঠকের অংশ নেয়াদের একজন ভি ভাইদিয়ানাথান বলেন, অর্থমন্ত্রী ২ ঘণ্টা মনোযোগ সহকারে আমাদের কথা শুনেছেন এবং আমরা সবাই তাকে এ বার্তা দিয়েছি যে আমাদের কোনো তারল্য সংকট নেই। আইডিএফসি ফার্স্ট ব্যাংকের এমডি ও প্রধান নির্বাহী (সিইও) আরো জানান, বৈঠকে অনেকেই জানিয়েছেন যে চাহিদায় প্রবৃদ্ধি বেশ শক্তিশালী রয়েছে, বিশেষ করে নিম্ন আয়ের জায়গাগুলোতে যেখানে প্রবৃদ্ধি হার ১৮-২৫%।
কোটাক ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) উদয় কোটাক বলেন, সরকারের সম্প্রসারণমূলক কর্মসূচিকে সহায়তায় প্রস্তুত বেসরকারি ব্যাংকগুলো। এ বিষয়ে আমাদের ভাবনা হলো সরকার যে প্রস্তাব দিচ্ছে তা তো আমাদেরই ধর্ম; দেশের কোনায় কোনায় ছড়িয়ে পড়া ও বুদ্ধিমত্তার সঙ্গে ঋণ দেয়া। অধিক ঋণ সরবরাহের ক্ষেত্রে সরকারের কাছ থেকে কোনো চাপ অনুভব করছেন না বলেও জানান তারা।
এদিকে অর্থমন্ত্রী জানান, বাণিজ্যিক গাড়িতে চাহিদা কমে যাওয়ার বিষয়টি একটি চক্রীয় ইস্যু, যা আগামী এক বা দুই প্রান্তিকের মধ্যে সুরাহা হয়ে যাবে। তবে যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে কারণটা ভিন্ন। যাত্রীবাহী গাড়ির ক্ষেত্রে সেন্টিমেন্ট কাজ করেছে।
সীতারমণ আরো জানান, সাশ্রয়ী আবাসনের ক্ষেত্রে ঋণসীমা ৫০ লাখ রুপিতে উত্তীর্ণের অনুরোধ করেছে কিছু ব্যাংক। বর্তমানে এ খাতে ঋণসীমা ৪৫ লাখ রুপি।
বৈঠকে উপস্থিত সূত্রটি বলছে, আগামী ১ অক্টোবর ওই বিষয়ে বিস্তারিত নির্দেশনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে সীতারমণ।
বৈঠকে উপস্থিত ছিল আটটি শীর্ষ বেসরকারি খাতের ব্যাংক, পাঁচটি এনবিএফসি, পাঁচটি এইচএফসি। এছাড়া ছয়টি এসএফবি ও চারটি এমএফআইয়ের প্রতিনিধিরা ঋণ সরবরাহ উন্নত করার লক্ষ্যে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে অংশ নেন।










