নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) সংক্রান্ত রিট নিয়ে আদালতের রায় ও সরকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অফিস চলাকালীন মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণের অভিযোগে চট্টগ্রাম বন্দরের একাধিক কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার নির্দেশে দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডকে দাপ্তরিক শৃঙ্খলা পরিপন্থী, অসদাচরণ ও কর্তৃপক্ষের প্রতি অনানুগত্য হিসেবে দেখছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।
চবক পরিচালকের (প্রশাসন) দপ্তর থেকে জারি করা এক অফিস আদেশে বলা হয়, অফিস চলাকালীন বন্দর ভবন, ফায়ার স্টেশন ও আশপাশের এলাকায় কতিপয় কর্মচারী হাইকোর্টের রায়ের বিরুদ্ধে মিছিল করে এবং রায়ের বিরুদ্ধাচরণমূলক বক্তব্য প্রদান করে। তারা একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি ও ভিডিও প্রচার এবং প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বক্তব্য দিয়েছেন।
আদেশে উল্লেখ করা হয়, সরকারি কর্মচারী হিসেবে এ ধরনের কর্মকাণ্ড চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ১৯৯১ অনুযায়ী সুস্পষ্ট অসদাচরণ। বিশেষ করে সরকারি সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আন্দোলন, মিটিং-মিছিলে অংশগ্রহণ এবং গণমাধ্যম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বক্তব্য বা পোস্ট দেয়া প্রবিধানমালার ৩৮ ধারার বিভিন্ন উপধারা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (প্রশাসন) ওমর ফারুক বণিক বার্তাকে বলেন, ‘এনসিটি-সংক্রান্ত রিট মামলার রায়ে সরকারের চুক্তি প্রক্রিয়াকে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতের এখতিয়ারাধীন। এ অবস্থায় আদালতের রায়ের বিরুদ্ধে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে কোনো ধরনের কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের সব কর্মচারীকে বিরত থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। অন্যথায় আইন ও বিধি অনুযায়ী শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও সতর্ক করা হয়েছে।’
আদেশে আরো বলা হয়, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ৩১ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সরকারি কর্মচারীদের আচরণ বিধিমালা ১৯৭-এর ৩০ ধারা অনুসরণসহ শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে একটি স্মারক জারি করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে একাধিকবার চট্টগ্রাম বন্দরের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাপ্তরিক বিষয় প্রকাশ, গোপন নথি প্রচার এবং দপ্তরীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারীদের সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকার নির্দেশনাও পুনর্ব্যক্ত করা হয়। এসব নির্দেশনার পরও এনসিটি ইস্যুতে অফিস চলাকালীন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থেকে মিছিল-মিটিংয়ে অংশগ্রহণ করায় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের আচরণকে কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে শৃঙ্খলাভঙ্গ ও অসদাচরণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অভিযুক্ত কর্মচারীদের বিরুদ্ধে সরকারি চাকরি আইন ২০১৮, সরকারি কর্মচারী আচরণ বিধিমালা ১৯৭৯, সরকারি কর্মচারী নিয়মিত উপস্থিতি বিধিমালা ২০১৯ এবং চট্টগ্রাম বন্দর কর্মচারী চাকরি প্রবিধানমালা ১৯৯১ অনুযায়ী বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।










