ইউরোপে ওষুধ উৎপাদন কার্যক্রম বিস্তৃত করছে ফাইজার। মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্টটি বেলজিয়াম ও আয়ারল্যান্ডে ২৫০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ করতে যাচ্ছে। পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়া এবং কভিডের টিকা বিক্রি কমে যাওয়ায় আয় বাড়াতে নতুন পণ্য উন্মোচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। খবর রয়টার্স।
শুক্রবার ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আয়ারল্যান্ডের ডাবলিনের কারখানাটির কার্যক্রম বাড়াতে ১২৬ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হবে। পাশাপাশি বেলজিয়ামের পিউর্সে অবস্থিত কারখানা বড় করতেও ১২৬ কোটি ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
মেসেঞ্জার আরএনএ প্রযুক্তি ব্যবহার করে জার্মান অংশীদার বায়োএনটেকের সঙ্গে কভিড প্রতিরোধী টিকা উৎপাদন করে ফাইজার। প্রতিষ্ঠানটির সরবরাহকৃত টিকার বড় একটি অংশ উৎপাদন হয় পিউর্সের কারখানায়। ২০২০ সালের শেষ দিকে কারখানাটিতে টিকা উৎপাদন শুরু হয়েছিল।
ফাইজারের বৈশ্বিক সরবরাহ বিভাগের প্রধান মাইক ম্যাকডারমট রয়টার্সকে বলেন, নতুন বিনিয়োগ আমাদের উৎপাদন কার্যক্রম বিস্তৃতের অংশ। ইউরোপে নতুন নতুন ওষুধ উৎপাদন বাড়াতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।
চলতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার আয়ের আশা করছে ফাইজার। আয়ের এ পূর্বাভাস প্রাক-কভিড পর্যায়ের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি। কভিডের টিকা ও ওষুধ বিক্রি বাড়ায় সংস্থাটির আয়ে উল্লম্ফন দেখা দেয়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বজুড়ে কভিড টিকার চাহিদা নিম্নমুখী হয়েছে। আগামী বছরগুলোয় এ টিকার চাহিদা আরো কমে যাবে বলে মনে করা হচ্ছে। পাশাপাশি ২০২৫ সালের পর ফাইজারের বড় কয়েকটি ওষুধের পেটেন্টের মেয়াদ শেষ হয়ে যাবে। এর মধ্যে রয়েছে ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহূত ইব্রেন্স ও বাতের ওষুধ জেলজাঞ্জ। ফলে এ সম্পর্কিত আয় হারাতে হবে সংস্থাটিকে। এ অবস্থায় নতুন ওষুধ উন্মোচনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ফাইজার।
ইউরোপে এমন সময়ে ফাইজার বিনিয়োগের ঘোষণা দিল যখন অঞ্চলটির প্রতিষ্ঠানগুলো জ্বালানি, শ্রম, কাঁচামাল ও ঋণের ক্রমবর্ধমান ব্যয় মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। এমনকি অঞ্চলটি মন্দায় পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন কিছু বিশ্লেষক। এসব সংকট বিশেষ করে সার ও রাসায়নিকের মতো জ্বালানি-নিবিড় শিল্পগুলোকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এ অবস্থায় সস্তায় জ্বালানি পাওয়া যায় এমন দেশ বা অঞ্চলে উৎপাদন সরিয়ে নেয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে অনেক প্রতিষ্ঠান। এক্ষেত্রে কিছু প্রতিষ্ঠান যুক্তরাষ্ট্রকে বিবেচনা করছে।
ওষুধ প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠানগুলোও সতর্ক করেছে, এ অঞ্চলকে আরো স্বয়ংসম্পূর্ণ করার জন্য জেনেরিক ওষুধের উৎপাদন বাড়ানো খুবই গুরুত্বপূর্ণ। যদিও উচ্চ জ্বালানি ব্যয় এ উদ্যোগে অন্যতম বাধা হিসেবে কাজ করছে।
এদিকে ফাইজার আগামী দেড় বছরে ১৯টির মতো নতুন ওষুধ উন্মোচন করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এগুলোর মধ্যে আলসারেটিভ কোলাইটিস ও মাইগ্রেনের চিকিৎসার পাশাপাশি রেসপিরেটরি সিনসাইটিয়াল ভাইরাসের (আরএসভি) টিকাও রয়েছে।
মাইক ম্যাকডারমট বলেন, আমাদের পোর্টফোলিও এমনিতেই শক্তিশালী। নতুন পণ্যগুলো বাজারে ছাড়তে আমাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা প্রয়োজন। এটি আমাদের কার্যক্রম আরো দৃঢ় করে তুলবে। ইউরোপীয় কারখানাগুলোয় বিরল রোগ, প্রদাহ ও ইমিউনোলজিসহ বিভিন্ন থেরাপিউটিক ওষুধ উৎপাদন করা হবে।
আয়ারল্যান্ডের কারখানার সম্প্রসারণ প্রায় ৪০০ থেকে ৫০০ নতুন কর্মসংস্থান যুক্ত করবে। পাশাপাশি সেখানে ওষুধ উৎপাদনও দ্বিগুণ হবে। অন্যদিকে বেলজিয়ামের কারখানায় বিনিয়োগ আরো ২৫০ জনের কর্মসংস্থান করবে।










