দিনাজপুরের হিলিতে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। সরবরাহ কম থাকায় বাজারে মসলাপণ্যটির দাম ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। 

হিলি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, দুদিনের ব্যবধানে এখানে আমদানীকৃত ও দেশী পেঁয়াজের দাম কেজিতে ১০-১৫ টাকা বেড়েছে। দুদিন আগেও এ বাজারে প্রতি কেজি দেশী পেঁয়াজের দাম ছিল ১০০ টাকা। বর্তমানে তা বেড়ে কেজিপ্রতি ১১০-১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর আমদানীকৃত প্রতি কেজি ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৯০ টাকায়, এর আগে যার দাম ছিল কেজিতে ৮৫ টাকা। 

এদিকে হিলি স্থলবন্দর কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, দুদিন আগে বন্দরে আমদানীকৃত পেঁয়াজ প্রকারভেদে ৭২-৭৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, বর্তমানে তা বেড়ে কেজিতে ৮৮-৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ বলেন, ‘দেশী পেঁয়াজের সরবরাহ কমে যাওয়ায় দেশের বাজারে আমদানীকৃত ভারতীয় পেঁয়াজের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। কিন্তু চাহিদা অনুযায়ী, আমদানি বাড়ছে না। তাই দেশের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে পেঁয়াজের দাম।’ 

তিনি আরো বলেন, ‘আমদানীকৃত পেঁয়াজের ক্ষেত্রে ভারতের নির্ধারিত ৪০ শতাংশ শুল্ক পরিশোধ, পরিবহন খরচ ও বাংলাদেশে পেঁয়াজ আমদানি শুল্কসহ সব মিলিয়ে বন্দরে এসে পৌঁছানো পর্যন্ত দাম পড়ছে ৮০-৮৫ টাকা। এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই ব্যবসায়ীদের বেশি দামে পেঁয়াজ বিক্রি করতে হচ্ছে।’ 

হিলি বাজারের পেঁয়াজ বিক্রেতা আবুল হাসনাত বলেন, ‘দেশে পেঁয়াজ আমদানির পরিমাণ কম। সেই সঙ্গে আমদানীকৃত পেঁয়াজের দাম ঊর্ধ্বমুখী। সে সুযোগে মোকামে অতি মুনাফালোভী অসাধু ব্যবসায়ীরা দেশী পেঁয়াজের দাম বাড়িয়েছেন। এছাড়া দেশী পেঁয়াজের মৌসুমও শেষ পর্যায়ে। তাই বাড়তি দামের আশায় স্বল্প পরিমাণে পেঁয়াজ বাজারে সরবরাহ করছেন কৃষকরা। মোকামে দুদিন আগেও পেঁয়াজের দাম ছিল মণপ্রতি ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকা। বর্তমানে তা ৫০০-৬০০ টাকা বেড়ে প্রতি মণ পেঁয়াজ ৩ হাজার ৮০০ থেকে ৩ হাজার ৯০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাড়তি দামে পেঁয়াজ কেনায় আমাদেরও সে অনুযায়ী বিক্রি করতে হচ্ছে।’ 

হিলি স্থলবন্দরের জনসংযোগ কর্মকর্তা সোহরাব হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ১০-১২ ট্রাক পেঁয়াজ আমদানি হচ্ছে। আর এটি যেহেতু কাঁচাপণ্য তাই কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া শেষে দ্রুত যেন আনদানিকারকরা বন্দর থেকে খালাস করে নিতে পারেন, এজন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করে রেখেছে। 

প্রসঙ্গত, অভ্যন্তরীণ বাজারে পেঁয়াজের সংকট ও দাম বাড়ার কারণে গত ৭ ডিসেম্বর পেঁয়াজ রফতানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার। চলতি বছরের ৪ মে তা প্রত্যাহার করে নেয়া হয়।