চলতি বছরের মে মাসেও জাপানের পারিবারিক ব্যয় কমেছে। এ নিয়ে টানা তৃতীয় মাসের মতো দেশটিতে পারিবারিক ব্যয় নিম্নমুখী রয়েছে। খবর রয়টার্স।
বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি জাপান। বৈশ্বিক চিপ সংকটের কারণে দেশটিতে গাড়ি বিক্রি কমেছে। পাশাপাশি ডলারের বিপরীতে জাপানি মুদ্রা ইয়েনের দরপতন হয়েছে। ফলে আমদানীকৃত জ্বালানি তেল ও খাদ্যের দাম অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী। এতে জাপানের মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর চাপ তৈরি হয়।
সবেমাত্র কভিড-১৯ মহামারীর প্রকোপ কাটিয়ে উঠে ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে জাপানের অর্থনীতি। এরই মধ্যে অনিয়ন্ত্রিত মূল্যস্ফীতির হার ও ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি অর্থনীতি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। পণ্যদ্রব্যের লাগামহীন দামে পর্যুদস্ত দেশটির সাধারণ জনগণ। এতে পারিবারিক ব্যয় সংকুচিত করেছে জাপানিরা। মে মাসে আগের বছরের তুলনায় ব্যয় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কমেছে। ভোজ্যতেলসহ গাড়ির ওপরও ব্যয় কমিয়েছে জাপানিরা। এছাড়া গাড়ি বিক্রিতে অন্যতম প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে চিপ সংকট ও সরবরাহ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতাও।
এ বিষয়ে নরিনচুকিন রিসার্চ ইনস্টিটিউটের প্রধান অর্থনীতিবিদ তাকেশি মিনামি বলেন, সমীক্ষায় ভোক্তা ব্যয়ে নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা গিয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণেই কেনাকাটা কমিয়েছে জাপানিরা। এপ্রিলের তুলনায় এ বছরের মে মাসে ভোক্তা ব্যয় কমেছে ১ দশমিক ৯ শতাংশ। অথচ বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিল, ভোক্তা ব্যয় শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ বাড়বে।
এদিকে নীতিনির্ধারকদের আশঙ্কা জাপানি পরিবারের ওপর চাপ আরো বাড়বে। রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের সূত্র ধরে বিশ্ববাজারে অব্যাহতভাবে ঊর্ধ্বমুখী খাদ্যের দাম। একই সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামও। পাশাপাশি বিদ্যুতের দামও ঊর্ধ্বমুখী।
বিশ্লেষকরা জানান, ভোক্তা ব্যয় কভিডপূর্ব স্তরে পৌঁছতে আরো সময় লাগবে। চলতি বছরের মে মাসে বাইরে খাওয়ার ব্যয় ২০১৯ সালের একই সময়ের তুলনায় ১৭ দশমিক ৩ শতাংশ কমেছে।
বছরের প্রথম তিন মাসে জাপানের অর্থনীতি সংকোচনের মুখোমুখি হয়। তবে দ্বিতীয় প্রান্তিকে (এপ্রিল-জুন) অর্থনীতি প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে প্রকোপ আগের থেকে কমলেও নভেল করোনাভাইরাসের সংক্রমণ আবারো কিছুটা বাড়ছে। এ বিষয়ে এনএলআই রিসার্চ ইনস্টিটিউটের নির্বাহী গবেষক তারো সাইতো জানান, করোনায় আক্রান্তের হার আবারো বাড়ছে। বর্তমানে প্রধান আশঙ্কা হলো নতুন করে কোনো বিধিনিষেধ জারি করা হবে কিনা।
যুদ্ধ ছাড়াও চীনের লকডাউন পরিস্থিতি গোটা বিশ্বে সরবরাহ ব্যবস্থায় নতুন সংকট তৈরি করেছে। চীনের বিধিনিষেধের কারণে উৎপাদকরা লোকসানের সম্মুখীন হয়। এতে কাঁচামালের দামও বেড়েছে। ফলে ব্যয় আরো সংকুচিত করেছে জাপানি ভোক্তারা।









