বেইজিং-টোকিওর মধ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে চীনা কোম্পানিগুলোকে জাপানের লাভজনক বাজার থেকে সরে আসতে হয়েছে। এমন আবহে রাশিয়ার মূল ভূখণ্ড থেকে দূরবর্তী অঞ্চল বা ফারইস্টে প্রমোদতরী পরিচালনার পরিকল্পনা করছে চীনের কিছু কোম্পানি।
এশিয়ার শীর্ষ দুই অর্থনীতির মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি আঞ্চলিক পর্যটনকে কীভাবে পুনর্গঠন করছে এরই চিত্র তুলে ধরছে সাম্প্রতিক এ তৎপরতা। অবশ্য ফারইস্ট অঞ্চলে বন্দর অবকাঠামো ও প্রশিক্ষিত ট্যুর গাইডের সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এমন অবস্থায়ও চীনা পর্যটন কোম্পানিগুলো মস্কোর সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখছে।
এক চীনা ক্রুজ কোম্পানির কর্মী জানিয়েছেন, ফারইস্ট রুটে চলাচলকারী ক্রুজ জাহাজগুলো ভ্লাদিভোস্তক, সাখালিন দ্বীপ ও কামচাটকা উপদ্বীপে ভ্রমণ করবে। প্রাথমিক উদ্যোগ সফল হলে এ রুটে চলাচল দীর্ঘমেয়াদি করার পরিকল্পনা রয়েছে।
নতুন এ রুট নিয়ে রাশিয়ারও আগ্রহ রয়েছে। দেশটির ফারইস্ট অ্যান্ড আর্কটিক ডেভেলপমেন্ট উপমন্ত্রী আন্তন বাসানস্কির মতে, ক্রুজভিত্তিক পর্যটনে বিকাশ স্থানীয় কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়াবে। বিষয়টি সামনে রেখে ফারইস্ট অ্যান্ড আর্কটিক ডেভেলপমেন্ট করপোরেশন (কেআরডিভি) নামে গত মাসে নতুন সংস্থা রাশক্রুজ নিবন্ধিত হয়েছে। চলতি বছরে রুট চালু করবে রাশক্রুজ, যেখানে চলাচল করবে ডিজেল-ইলেকট্রিক হাইব্রিড জাহাজ অ্যাস্ট্রোরিয়া নোভা। জাহাজটি এক হাজারের বেশি যাত্রী বহন করতে সক্ষম।
রুটটি শুরু হবে ভ্লাদিভোস্তকে। এরপর সাখালিন দ্বীপের করসাকভ বন্দর, কুরিল দ্বীপপুঞ্জের ইতুরুপ ও কুনাশির দ্বীপ হয়ে কামচাটকা উপদ্বীপের পেট্রোপাভলভস্ক-কামচাটস্কি থেকে ফিরতি পথ ধরবে। আগামী মে মাস নাগাদ চালু হতে যাওয়া এ ভ্রমণে জনপ্রতি দৈনিক খরচ হবে প্রায় ১৭ হাজার রুবল বা ২১৬ ডলারের সমপরিমাণ।
চীনা পর্যটকরা রাশিয়ায় ভিসা-ফ্রি সুবিধা পেয়ে থাকেন। ফারইস্টে অজানা অনেক প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। প্রধান আকর্ষণ হলো তিমি, সি লায়ন ও আগ্নেয়গিরি। কিন্তু ক্রুজ শিপ পরিচালনা এখানে খুবই চ্যালেঞ্জপূর্ণ। পুরনো বন্দর অবকাঠামোর পাশাপাশি বড় আকারের আন্তর্জাতিক পর্যটক দল গ্রহণের জন্য স্থানীয় পর্যায়ে অভিজ্ঞতার অভাব রয়েছে। এক চীনা ক্রুজ কর্মী জানিয়েছেন, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে প্রথম দিকের ভ্রমণ প্যাকেজগুলো গ্রীষ্মকালে সীমিত থাকতে পারে।
এতদিন চীনা ক্রুজ বাণিজ্যের অর্ধেক যাত্রী আসত জাপান থেকে। কিন্তু দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতি ঘটলে চীনা ক্রুজ ও ফেরিগুলো জাপান বাজার থেকে প্রায় পুরোপুরি সরে গেছে। শুধু গত মাস থেকে ওকিনাওয়া প্রদেশে ৫৩টি নির্ধারিত চীনা ক্রুজ জাহাজের বন্দরে নোঙরের পরিকল্পনা বাতিল হয়েছে। —খবর ও ছবি নিক্কেই এশিয়া










