আন্তর্জাতিক সয়াবিন বাণিজ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ব্রাজিল চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দেশ। কৃষিপণ্যটি উৎপাদন ও রফতানি উভয় ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা বিদ্যমান রয়েছে। তা সত্ত্বেও পণ্যটির উৎপাদনে এক দশকের মধ্যে মাত্র একবার যুক্তরাষ্ট্রকে টপকাতে পেরেছে ব্রাজিল। তবে সম্প্রতি মার্কিন কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, চলতি মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে ফের বিশ্বের শীর্ষ সয়াবিন উৎপাদনকারী দেশ হতে পারে ব্রাজিল।
ইউএসডি প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে ব্রাজিলে ৩ কোটি ৬৮ লাখ হেক্টর সয়াবিনের আবাদ হতে পারে। হেক্টরপ্রতি ফলন দাঁড়াতে পারে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার টন। আবাদ ও ফলন বাড়ায় দেশটিতে পণ্যটির সামগ্রিক উৎপাদনে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকার সম্ভাবনায় বেশি। ২০১৯-২০ মৌসুমে ব্রাজিলে কৃষিপণ্যটির মোট উৎপাদন বেড়ে ১২ কোটি ৩৫ লাখ টনে উন্নীত হতে পারে। এর আগে ২০১৭-১৮ মৌসুমে সব মিলিয়ে ১২ কোটি ২০ লাখ টন সয়াবিন উৎপাদনের মাধ্যমে রেকর্ড করে দেশটি। ওই মৌসুমে গত এক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো পণ্যটি উৎপাদনে যুক্তরাষ্ট্রকে টপকে যায় ব্রাজিল।
রফতানি
(মাসভিত্তিক)
ইউএসডিএর সর্বশেষ ওয়ার্ল্ড এগ্রিকালচার সাপ্লাই অ্যান্ড ডিমান্ড এস্টিমেটেড প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০১৮-১৯ বিপণন বর্ষে (ফেব্রুয়ারি ২০১৯—জানুয়ারি-২০২০) ব্রাজিল থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে সব মিলিয়ে ৭ কোটি ৩০ লাখ টন সয়াবিন রফতানি হতে পারে। অভ্যন্তরীণ ব্যবহার বৃদ্ধি সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির চাহিদা চাঙ্গা থাকায় রফতানিতে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা বজায় থাকতে পারে। তথ্যচিত্রটি অনুযায়ী, ২০১৯ সালের শেষ প্রান্তিক (অক্টোবর-ডিসেম্বর) বাদে বছরের অন্য সময় ব্রাজিল থেকে পণ্যটির রফতানি গত পাঁচ বছরের গড় রফতানির তুলনায় বাড়তির দিকে রয়েছে। এছাড়া সেপ্টেম্বর থেকে পণ্যটির রফতানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।
প্রান্তিক পর্যায়ে দাম
গত বছরের পুরোটা জুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ব্রাজিলের সয়াবিনের মূল্য ঢের বেশি ছিল। কেবল পণ্যটি সংগ্রহের মূল মৌসুম (মার্চ ও এপ্রিল) বাদে বছরের শুরু থেকেই মূল্যসূচক ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হতে দেখা গেছে। মূল মৌসুমে বাজারে পণ্যটির বাড়তি সরবরাহের জেরে দাম কিছুটা কমে আসে। তবে মার্কিন ডলারের বিপরীতে ব্রাজিলের মুদ্রা রিয়ালের শক্তিশালী বিনিময় হার পণ্যটির দামে চাঙ্গা ভাব ধরে রাখতে অন্যতম প্রভাবক হিসেবে কাজ করেছে। এছাড়া চীনের বাজারে বাড়তি চাহিদা পণ্যটির মূল্য আরো বাড়িয়ে তুলেছে। তবে বাণিজ্য বিরোধ প্রশমনে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি সইয়ের সম্ভাবনায় বছরের শেষ দিকে এসে পণ্যটির দরপতন দেখা দেয়।
সূত্র: ইউএসডিএ, রয়টার্স ও
এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল প্লাটস








