উত্তর গোলার্ধে শীতের তীব্রতা বাড়ায় তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে জ্বালানির চাহিদা এখনো ঊর্ধ্বমুখী। এ কারণে এশিয়ার স্পট মার্কেটে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম টানা তৃতীয় সপ্তাহের মতো বেড়েছে। শুক্রবার পর্যন্ত জ্বালানি পণ্যটির মূল্য পৌঁছেছে নয় সপ্তাহের সর্বোচ্চে। একই সঙ্গে গত সপ্তাহের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এলএনজি রফতানির জন্য জাহাজে প্রাকৃতিক গ্যাস লোডিংয়ের পরিমাণও ছিল কম। এটিও মূল্যবৃদ্ধির পেছনে ভূমিকা রেখেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।
শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় মার্চে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ১১ ডলার ৬০ সেন্ট। এটি আগের সপ্তাহের প্রতি এমএমবিটিইউ ১১ ডলার ৩৫ সেন্টের তুলনায় বেশি।
কনসালট্যান্সি প্রতিষ্ঠান এফজিইর ডিরেক্টর ফর গ্যাস অ্যান্ড এলএনজি সাপ্লাই অ্যানালিটিকস সিয়ামাক আদিবি বলেন, ‘টিটিএফ (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ও জেকেএম (জাপান-কোরিয়া মার্কার) উভয় বাজার আদর্শেই এলএনজির দাম ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘ইউরোপেও প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা বেড়েছে। এলএনজি সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী থাকলেও মজুদ থেকে উত্তোলন বৃদ্ধির কারণে পুরো ব্যবস্থার ওপর চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের হেনরি হাবের শক্তিশালী দামও স্পট মার্কেটে এলএনজির দামে পরোক্ষ প্রভাব ফেলছে।’
এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটেও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম উল্লেখযোগ্য মাত্রায় বেড়েছে। কারণ তীব্র ঠাণ্ডায় দেশটিতে জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের কূপ জমে গেছে। উৎপাদন দুই বছরের সর্বনিম্নে নেমে আসায় সাতদিনে যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার মার্কেটে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম প্রায় ১৪০ শতাংশ বেড়েছে।
খাতসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে বিদ্যুৎ খাতে প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদা হঠাৎ অনেক বেড়ে গেছে। এ বাড়তি চাহিদা মেটাতে বিশ্বের বিভিন্ন জায়গায় চলমান এলএনজি বোঝাই জাহাজগুলোর স্বাভাবিক রুট বদলে ফেলতে হয়েছে। সাধারণত যেসব এলএনজি কার্গো এশিয়া বা অন্য অঞ্চলে যাওয়ার কথা ছিল, তার মধ্যে কয়েকটি জাহাজকে ঘুরিয়ে উত্তর আমেরিকার টার্মিনালের দিকে পাঠানো হয়েছে। একই সঙ্গে অস্ট্রেলিয়া ও কানাডা থেকে অন্তত তিনটি কার্গো এশিয়ার বদলে ইউরোপ ও আমেরিকার দিকে যাচ্ছে।
নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে মার্চে সরবরাহের জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য গত সপ্তাহে ছিল ১২ ডলার ৫১ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৯৪ সেন্ট কম।
আর্গাস এ দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ১২ ডলার ৩৮ সেন্ট। স্পার্ক কমোডিটিজও প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে ১৩ ডলার ৩৭ সেন্ট।
আইসিআইএসের ফ্রোলি বলেন, ‘স্বল্পমেয়াদি শৈত্যপ্রবাহ শেষ হলে ইউরোপে প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম কিছুটা কমে আসতে পারে। তবে শীত শেষে মজুদ কম থাকায় গ্রীষ্মজুড়ে ধারাবাহিকভাবে কার্গো টেনে মজুদ পুনর্গঠন করতে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘এ চাহিদা মেটাতে নতুন সরবরাহও আসবে। এর মধ্যে গোল্ডেন পাস প্রকল্পের উত্তোলন আগামী কয়েক মাসে শুরু হওয়ার কথা।’
স্পার্ক কমোডিটিজের বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে এলএনজি পরিবহন ব্যয় আরো কমে দৈনিক ১১ হাজার ২৫০ ডলারে নেমেছে। আর প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে তা কমে দাঁড়িয়েছে দৈনিক ৩০ হাজার ৫০০ ডলারে।










