বিশ্বের ২০টি শীর্ষ অর্থনীতির জোট জি২০। আজ ইন্দোনেশিয়ার বালি প্রদেশে জোটটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। একে কেন্দ্র করে জোটভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা ইন্দোনেশিয়া পাড়ি দিয়েছেন। সভার অন্যতম আলোচ্য বিষয় বর্তমান ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি। এছাড়া এবারের সভায় জোটটির অন্যতম প্রধান এজেন্ডা থাকবে খাদ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তায় বৈশ্বিক সহায়তা। খবর এপি।

জি২০ সভা নিয়ে উত্তেজনা ক্রমে ঘনীভূত হয়েছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ও রাশিয়ার প্রধান কূটনীতিবিদ সার্জে লাভরভ বালি যাওয়ার পথে প্রধান এশীয় দেশগুলোয় সংক্ষিপ্ত সফর করেন। সভার আগে ওই অঞ্চলের সঙ্গে সম্পর্ক ও সমর্থন জোরদার করতেই প্রধান নেতাদের এ সফর বলে দাবি বিশ্লেষকদের।

বর্তমান বিশ্বের সব থেকে বড় ভূরাজনৈতিক সংকট রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। ইউক্রেন রুশ আক্রমণের পরিপ্রেক্ষিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে শাস্তি দেয়ার নানা উপায় খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র ও মিত্র জোট। পুতিনকে অপসারণ করা না হলে, চলতি বছরের নভেম্বরে অনুষ্ঠেয় জি২০ সামিট বয়কট করার ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বছর জি২০-এর প্রেসিডেন্টের ভার ইন্দোনেশিয়ার ওপর ন্যস্ত। এমন সংকটময় পরিস্থিরিতে তাই গঠনমূলক ভূমিকা নেয়ার দায়িত্ব দেশটির ওপর। রাশিয়া-ইউক্রেন সংঘাতে বরাবরই নিরপেক্ষ অবস্থান অবলম্বন করেছে দেশটি। এ বিষয়ে কোনো ধরনের মন্তব্য করতে সতর্ক রয়েছে ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইডোডো। এশীয় নেতাদের মধ্যে সর্বপ্রথম যুদ্ধরত দেশ দুটিতে সফর করেন তিনি। জি২০ জোটের সদস্য না হওয়া সত্ত্বেও নভেম্বরের সামিটে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন জোকো উইডোডো। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে উভয় পক্ষের মন রক্ষা করতে চাচ্ছেন ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট।

জোকো উইডোডোর আমন্ত্রণের পরিপ্রেক্ষিতে ভলোদিমির জেলেনস্কি জানান, যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে তিনি সামিটে অংশগ্রহণ করবেন না। অন্যদিকে জার্মানিতে আসন্ন জি৭ সামিটে ভ্লাদিমির পুতিন থাকবেন না বলে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিওন দ্রাঘিকে জানিয়েছেন জোকো উইডোডো। তবে এ বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি বলে মস্কোর তরফ থেকে জানানো হয়েছে।

এদিকে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্কেও ভাটা পড়েছে। সম্প্রতি ওয়াশিংটন ও ন্যাটোর উদ্দেশ্যে আক্রমণাত্মক মন্তব্য ছুড়ে বেইজিং। বালিতে জি২০ সভায় যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রসচিব অ্যান্থনি ব্লিনকেন ও চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী মুখোমুখি হবেন আজ। চীনের অর্থ মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র ঝাও লিজিয়ান জানান, আন্তর্জাতিক যেসব নিয়ম রয়েছে তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সিদ্ধি করতে কয়েকটি দেশের তৈরি করা এক ধরনের পারিবারিক আইন।

আজকের জি২০ সভার অন্যতম আলোচ্য বিষয় হবে খাদ্যনিরাপত্তার উন্নয়ন। এখানেও এসে পড়ে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ। যুদ্ধকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে মাংস, দুগ্ধজাত পণ্য, চিনি ও ভোজ্যতেলের দাম আকাশচুম্বী।

এ বিষয়ে জোকো উইডোডো বলেন, এ সফরগুলো শুধু ইন্দোনেশিয়ানদের জন্য জরুরি না। পাশাপাশি স্বল্প আয়ের উন্নয়নশীল দেশগুলো দারিদ্র্য ও ক্ষুধা সমস্যা প্রকট হওয়া থেকে সুরক্ষায়ও সফরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

বিশ্ববাজারে মোট গম সরবরাহের এক-তৃতীয়াংশ আসে ইউক্রেন থেকে। ইউক্রেনে উৎপাদিত শস্য দিয়ে ৪০ কোটি মানুষের ক্ষুধা মিটে। তবে যুদ্ধকে কেন্দ্র করে মস্কোর অবরোধের পরিপ্রেক্ষিতে এক মাসে মাত্র ২০ লাখ টন শস্য রফতানি করতে পেরেছে ইউক্রেন, যা যুদ্ধপূর্ববর্তী স্তরের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম।