দক্ষিণ কোরিয়ার রফতানি প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সালে শূন্য শতাংশে নেমে যেতে পারে। কাঁচামালের বাড়তি মূল্য এবং বড় বড় অর্থনীতির ধীরগতির মধ্যে এমন পরিস্থিতি দেখা যাবে।

দেশটির ১২টি মূল রফতানি খাতের ১৫০টি প্রতিষ্ঠানের তথ্য বলছে, বিদেশী চালানের পরিমাণ ২০২২ সালের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে আগামী বছর। খাতভিত্তিক হিসাব করলে ইলেকট্রিক আর ইলেকট্রনিকস পণ্য রফতানি বছরওয়ারি হিসাবে আগামী বছর ১ দশমিক ৯ শতাংশ কমে যেতে পারে। পাশাপাশি পেট্রোকেমিক্যাল রফতানি কমে যেতে পারে দশমিক ৫ শতাংশ।

তাছাড়া বায়োফার্মাসিউটিক্যাল এবং স্বাস্থ্যসংক্রান্ত পণ্যের চালান ৩ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেখানে ইস্পাত খাতে প্রবৃদ্ধি হবে দশমিক ২ শতাংশ, গাড়িতে দশমিক ৯ শতাংশ এবং সাধারণ যন্ত্রপাতি ও জাহাজের ক্ষেত্রে সেটা গিয়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৭ শতাংশে।

সব ধরনের প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ৪০ শতাংশের ধারণা, এশিয়ার চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতির দেশটির রফতানি চলতি বছরের তুলনায় আরো সংকুচিত হয়ে আসবে ২০২৩ সালে। উচ্চমূল্যের কারণে রফতানি প্রতিযোগিতা দুর্বল করে ফেলা এবং বড় বড় রফতানি গন্তব্যগুলোয় চাহিদা কমে যাওয়াই এর কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

স্থানীয় জরিপকারী সংস্থা মোনো রিসার্চ এ জরিপ পরিচালনা করেছে। দুই বছর ধরে দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল স্তম্ভ রফতানি। কিন্তু সাম্প্রতিক কয়েক মাসে খাতটি বেশ চাপে পড়েছে। বিভিন্ন ধরনের বাহ্যিক নেতিবাচক পরিস্থিতি যেমন যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদহার বৃদ্ধি ও ইউক্রেনে যুদ্ধের মতো ঘটনা এ চাপে পড়ার কারণ।

বছরওয়ারি হিসাবে নভেম্বরে দেশটির বাহ্যিক চালান কমেছে ১৪ শতাংশ। ফলে পরপর দুই মাস দেশটির রফতানি কমল। ২০২০ সালের পর এবারই প্রথম পরপর দুবার রফতানি কমার রেকর্ড হলো। ওই বছরের মার্চ ও এপ্রিলে প্রথম এ ধরনের কমতির মুখে পড়ে দেশটি।