চলতি বছরের শুরু থেকেই আর্থিক সংকটসহ রাজনৈতিক টানাপড়েনের সম্মুখীন হয়েছে দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলংকা। অর্থনৈতিক অব্যবস্থাপনার মধ্য দিয়ে যাওয়া দেশটির বার্ষিক মূল্যস্ফীতি আগস্টে ৭০ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছেছে। বর্তমান সংকটটি দেশটির ইতিহাসে ৭০ বছরের বেশি সময়ের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সংকট বলে অভিহিত হয়েছে। খবর বিবিসি।

সম্প্রতি প্রকাশিত শ্রীলংকা সরকারের এক পরিসংখ্যানে বলা হয়, আগস্টে এক বছর আগের তুলনায় খাদ্যপণ্যের দাম ৮৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়েছে। নানামুখী সংকটের কারণে আগস্টে শেষ হওয়া (জুন-আগস্ট) সর্বশেষ তিন মাসে দেশটির অর্থনীতি ৮ দশমিক ৪ শতাংশ সংকুচিত হয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ শ্রীলংকার মোট জনসংখ্যা ২ কোটি ২০ লাখ। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত আর্থিক ও রাজনৈতিক বিশৃঙ্খলায় নিমজ্জিত রয়েছে দেশটি। একই সঙ্গে দেশটিতে বৈদেশিক মুদ্রা সংকটও বেড়েছে। এ সংকটের কারণে জ্বালানি, সার ও ওষুধের মতো প্রধান আমদানি পণ্যের ঘাটতি ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

গত মাসে সেন্ট্রাল ব্যাংক অব শ্রীলংকা জানায়, মূল্যস্ফীতি কমে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। কারণ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি হওয়ার পর দেশটির অর্থনীতিতে শ্লথগতি দেখা দিয়েছে।

কভিড-১৯ মহামারীর আগে শ্রীলংকার বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের প্রধান খাত ছিল পর্যটন। এরপর মহামারী প্রতিরোধে পর্যটক আগমনে বিধিনিষেধ আরোপ করে সরকার। এ কারণে দেশটির অর্থনীতি সংকটের মুখোমুখি হয়। এছাড়া আর্থিক অব্যবস্থাপনার সঙ্গে চলতি বছরের শুরুতে শ্রীলংকা সরকারের ঋণ খেলাপির ঘোষণাও সংকটকে আরো ত্বরান্বিত করে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোয় শ্রীলংকায় রাজনৈতিক সংকট আরো গভীর হয়েছে। খাদ্য ও জ্বালানি সংকটে ব্যাপক গণবিক্ষোভের মুখে গত ১৩ জুলাই দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান সাবেক প্রেসিডেন্ট গোতাবায়া রাজাপাকসে। পরে বিদেশ থেকে ই-মেইলে পদত্যাপপত্র পাঠান তিনি। দেড় মাসের বেশি সময় বিদেশ থাকার পর চলতি মাসের শুরুতে দেশে ফিরে আসেন গোতাবায়া। অনেক শ্রীলংকানের মতে, দীর্ঘদিন ধরে রাজাপাকসে প্রশাসনের আর্থিক অব্যবস্থাপনার কারণেই এ সংকটের সৃষ্টি হয়েছে।

সংকট মোকাবেলায় চলতি মাসের শুরুতে শ্রীলংকা আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে ২৯০ কোটি ডলার (২৬০ কোটি পাউন্ড) ঋণ সহায়তার একটি চুক্তি করেছে। এছাড়া গত মঙ্গলবার দেশটি ঋণ সহায়তার জন্য ভারতের সঙ্গে আলোচনা করে। একই সঙ্গে দেশটিকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগেরও প্রস্তাব দেয় শ্রীলংকা। এর আগে প্রতিবেশী দেশটিকে প্রায় ৪০০ কোটি ডলার আর্থিক সহায়তাও দিয়েছে ভারত সরকার।