ক্রমবর্ধমান রয়েছে মূল্যস্ফীতি চাপ। জীবনযাত্রার সংকট মোকাবেলায় ব্যয়ে লাগাম টেনেছেন ভোক্তারা। অর্থ সাশ্রয়ের জন্য তারা বাড়ির বাইরে যাওয়া কমিয়ে দেয়ায় পরিষেবা খাতের কার্যক্রমও ধীর হয়ে পড়েছে। গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উৎপাদনকারীরাও। সব মিলিয়ে ইউরো অঞ্চলের ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মন্দা আরো গভীর হয়েছে। নতুন একটি সমীক্ষা ইঙ্গিত দিচ্ছে, ১৯ দেশের অঞ্চলটির অর্থনীতি মন্দার মধ্যে প্রবেশ করছে। খবর রয়টার্স।
অর্থনীতি গবেষণা প্রতিষ্ঠান এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের ফ্ল্যাশ কম্পোজিট পারচেজিং ম্যানেজারস ইনডেক্স (পিএমআই) সেপ্টেম্বরে ৪৮ দশমিক ২ পয়েন্টে নেমে গিয়েছে। আগস্টে এ সূচক ৪৮ দশমিক ৯ পয়েন্টে ছিল। যদিও রয়টার্সের জরিপেও অর্থনীতিবিদরা এমন পতনের আশঙ্কা করেছিলেন। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের নিচে সংকোচন এবং এর ওপরে বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে।
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান আইএনজির অর্থনীতিবিদ বার্ট কলিজন বলেন, টানা তৃতীয় মাসের মতো ব্লকের পিএমআই পতন ইঙ্গিত দেয় যে, ব্যবসায়িক কার্যক্রম পুরো প্রান্তিকজুড়ে সংকুচিত হয়েছে। এটি নিশ্চিত করে, ইউরো অঞ্চলে এরই মধ্যে মন্দা শুরু হয়ে গিয়েছে।
চলতি মাসের শুরুতে রয়টার্সের জরিপে অর্থনীতিবিদরা এক বছরের মধ্যে ৬০ শতাংশ মন্দার ঝুঁকির বিষয়টি উল্লেখ করেছিলেন। চলতি মাসে জার্মানির ব্যবসায়িক কার্যক্রমে মন্দাও আরো গভীর হয়েছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ইউরোপের বৃহত্তম অর্থনীতিতে বিপর্যয়কর পরিস্থিতি তৈরি করেছে এবং নতুন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও কমে গিয়েছে।
তবে ফ্রান্সে কার্যক্রম প্রত্যাশার চেয়ে বেশি ছিল। যদিও পিএমআই দেখায় যে, ইউরো অঞ্চলের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে হিমশিম খাচ্ছে। পরিষেবা খাত কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও উৎপাদন শিল্পে মন্দার কারণে সামগ্রিক চিত্র এখনো শক্তিশালী নয়।
ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের জ্যাক অ্যালেন-রেনল্ডস বলেন, জার্মানির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) তৃতীয় প্রান্তিকে সংকুচিত হয়েছে। যখন ফ্রান্সের অর্থনীতি কিছুটা বিস্তৃত হয়েছে। তবে আমাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, বছরের শেষ প্রান্তিকে জার্মান অর্থনীতি আরো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয় শিল্পোৎপাদনের পাশাপাশি পারিবারিক বাজেটে চাপ তৈরি করেছে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের বাইরে থাকা যুক্তরাজ্যের অর্থনীতির সামগ্রিক চিত্রও অবনতি হয়েছে। কারণ প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমবর্ধমান ব্যয় ও নিম্নমুখী চাহিদা মোকাবেলায় হিমশিম খাচ্ছে। ফলে মন্দার ঝুঁকি বাড়ছে। যদিও অর্থনীতিকে ঘুরে দাঁড়াতে সহায়তা করতে সম্প্রতি ব্রিটিশ অর্থমন্ত্রী কোয়াসি কোয়ার্টেং প্রায় ২০ হাজার কোটি পাউন্ডের কর মওকুফ, জ্বালানি ভর্তুকি ও পরিকল্পনা সংস্কারের প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন।
এদিকে উচ্চমূল্যের চাপ ইউরো অঞ্চলের সামগ্রিক চাহিদা ২০২০ সালের নভেম্বরের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়েছে। সে সময় কভিডজনিত বিধিনিষেধের কারণে চাহিদায় পতন দেখা দিয়েছিল। অঞ্চলটিতে নতুন ব্যবসায়িক পিএমআই আগের মাসের ৪৬ দশমিক ৯ পয়েন্ট থেকে ৪৬ পয়েন্টে নেমেছে।
অঞ্চলটির পরিষেবা খাতের পিএমআই ৪৯ দশমিক ৮ থেকে ৪৮ দশমিক ৯ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। টানা দ্বিতীয় মাসের মতো এ খাত সংকোচনের মধ্যে রয়েছে। চলতি মাসের পিএমআই রয়টার্সের পূর্বাভাস ৪৯ পয়েন্টের চেয়েও কম।
পুনরায় দাম বৃদ্ধি এবং চাহিদা কমে যাওয়ায় আগামী ১২ মাসের আশাবাদেও পতন হয়েছে। ব্যবসায়িক প্রত্যাশা সূচক ৫৬ দশমিক ৬ থেকে চলতি মাসে ৫৩ দশমিক ৮ পয়েন্টে নেমেছে। এ সূচক ২০২০ সালের মে মাসের পর সর্বনিম্ন।
সেপ্টেম্বরে ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে পূর্বাভাসের চেয়েও বেশি পতন হয়েছে। এ খাতের পিএমআই ৪৮ দশমিক ৫ পয়েন্টে নেমেছে। আগের মাসেও এ সূচক ৪৯ দশমিক ৬ পয়েন্টে ছিল। চলতি মাসের পিএমআই ২০২০ সালের জুনের পর সর্বনিম্ন। ইউরো অঞ্চলে উৎপাদন ব্যয়ও ঊর্ধ্বমুখী রয়েছে। কাঁচামালের ব্যয় আগের মাসের ৭১ দশমিক ৭ থেকে বেড়ে ৭৬ দশমিক ৪ পয়েন্টে উন্নীত হয়েছে। এ হার গত তিন মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ।










