যুক্তরাষ্ট্রে উড়োজাহাজ পরিবহন খাতের প্রতিবন্ধকতা কমার লক্ষণ দেখা যাচ্ছে। জুলাইয়ে দেশটিতে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ১ দশমিক ৮ শতাংশে নেমেছে। এ হার আগের মাসেও ৩ দশমিক ১ শতাংশ ছিল। যদিও উড়োজাহাজ ভ্রমণ পরিষেবার অভিযোগ বেড়ে ১৬ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। সম্প্রতি মার্কিন পরিবহন বিভাগ এ তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্সের খবর অনুসারে, গ্রীষ্মকালীন ভ্রমণ বিশৃঙ্খলার কারণে হাজার হাজার ফ্লাইট বাতিল হয়ে যাওয়ায় পরিবহন বিভাগ পরিষেবা উন্নত করতে এবং কর্মী বাড়াতে এয়ারলাইনসগুলোকে চাপ দিচ্ছে। যদিও উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলো বলছে, ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (এফএএ) এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল কর্মী সংখ্যা কম থাকা ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের বড় একটি কারণ।

পরিবহন বিভাগ জানিয়েছে, জুলাইয়ে উড়োজাহাজ পরিষেবার অভিযোগগুলো প্রাক-কভিড স্তরের চেয়ে ২৬০ শতাংশ বেশি ছিল। তবে ফ্লাইট বাতিলের সংখ্যা ২ শতাংশ বা তার নিচে থাকালে সেটিকে স্বাভাবিক হিসেবে দেখা হয়। দেশটির পরিবহনমন্ত্রী পিট বুটিজিজ বলেন, ফ্লাইট বাতিলের হার কখনই শূন্য হবে না। কারণ আবহাওয়াসহ নানা প্রতিবন্ধকতার কারণে এটির স্বাভাবিক স্তর ১-২ শতাংশের মধ্যে। যদি এ হার ৩ শতাংশ হয়, তবে আমরা অনুভব করি পরিস্থিতি বেশ খারাপ। আবার যদি এটি ৪ শতাংশ ছাড়িয়ে যায় তখন আপনি এটিকে বিশৃঙ্খলা বলতে পারেন।

ফেডারেল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারদের প্রতিনিধিত্বকারী ইউনিয়ন জানিয়েছে, পর্যাপ্ত কর্মী নিশ্চিত করতে এফএএকে আরো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। ন্যাশনাল এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার অ্যাসোসিয়েশন বলেছে, ২০১১ সালে এফএএর মোট ১৫ হাজারেরও বেশি কন্ট্রোলার ছিল। তাদের মধ্যে ১১ হাজার ৭৫০ জনেরও বেশি সম্পূর্ণ প্রত্যয়িত কন্ট্রোলার ছিল। তবে গত জুলাইয়ে এফএএ জানিয়েছে, ২০২২ সালে মোট ১ হাজার ৫০০ জনেরও কম কন্ট্রোলার রয়েছে। সংস্থাটি জানিয়েছে, চলতি বছর এক হাজার কন্ট্রোলার নিয়োগ দেয়া হবে।

চলতি মাসে ডেমোক্রেটিক সিনেটর জিন শাহিন এফএএকে অতিরিক্ত এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের কর্মী সংখ্যা নিয়ে কংগ্রেসে রিপোর্ট করতে বলেছে। তিনি বলেন, এয়ারলাইনসগুলোর কর্মী ঘাটতি ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের ক্ষেত্রে প্রভাব ফেলছে। তিনি এটাও স্বীকার করেন যে, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিভাগে কর্মী ঘাটতিও ফ্লাইট বিশৃঙ্খলার জন্য দায়ী।

গত সপ্তাহে ইউনাইটেড এয়ারলাইনসের প্রধান নির্বাহী স্কট কিরবি বলেছিলেন, এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল বিভাগের কর্মী ঘাটতি এখন পর্যন্ত বড় সমস্যা। এটি ফ্লাইট বিশৃঙ্খলার এক নম্বর কারণ। তিনি বলেন, যখন আপনার কাছে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল থাকে এবং যখন আপনি একটি কেন্দ্র বা একটি অঞ্চল বন্ধ করে দেন, তখন স্বাভাবিকভাবেই শত শত ফ্লাইট বিলম্ব ও বাতিলের মুখোমুখি হয়। তবে এক্ষেত্রে কেবল এয়ারলাইনসগুলোর দিকে আঙুল তোলা হচ্ছে। এভাবে পরস্পরকে দোষারোপ করে কোনো সমস্যা সমাধান করা সম্ভব নয়।

অন্যদিকে এফএএ ফ্লাইট বিলম্বের ক্ষেত্রে এয়ারলাইনসগুলোকে দায়ী করে আসছে। সংস্থাটি বলেছে, জুলাইয়ে এয়ারলাইনসের বিলম্ব অন্য কারণগুলোকে ছাড়িয়ে গিয়েছে। সুতরাং তাদের বিষয়টি সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পোষণ করতে হবে। উড়োজাহাজ পরিবহন সংস্থাগুলোকে গ্রাহকদের বিশ্বাস পুনরুদ্ধারের দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত।