তুলতুলে নরম প্লাশ টয়ের প্রতি জাপানিদের আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। অনেক পরিবারের সদস্য হিসেবে বিবেচিত হয় খেলনা। প্রায়ই খেলনা নিয়ে বেড়াতে যান তারা, সাজসজ্জা করান এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি পোস্ট করেন। এ ধরনের আবেগীয় সম্পর্কের কারণে খেলনা সারাই ও পরিচ্ছন্নতা পরিষেবাদাতা প্রতিষ্ঠানের চাহিদা বেড়েছে দেশটিতে। খেলনাকে শ্যাম্পু করানো বা হারানো অঙ্গ প্রতিস্থাপনে বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হচ্ছেন জাপানিরা। এতে পুতুলগুলো পাচ্ছে ফ্যাক্টরি-ফ্রেশ লুক ও এর সঙ্গে সংগ্রহকারীর স্মৃতিও তরতাজা থাকছে।

খেলনা সারাইয়ের সঙ্গে যুক্ত ছোট ও মাঝারি আকারের ব্যবসা দ্রুত বাড়ছে জাপানে। ইয়ামানাশি প্রিফেকচারের হোম ডেলিভারি ক্লিনিং প্লাটফর্ম ইয়োনমারুসান ২০২৫ সালে প্রতি মাসে প্রায় ৮০০টি প্লাশ টয় পরিষ্কার বা মেরামত করেছে। অথচ ২০২২ সালে কোম্পানিটি মাসে পেত প্রায় ৫০টি অর্ডার।

মূলত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পুতুল মেরামতের ভিডিও শেয়ারের পর ইয়োনমারুসানের চাহিদা বেড়েছে। কোম্পানিটি বিদেশী পর্যটকদের কাছেও পৌঁছে গেছে, মাসে তারা প্রায় ১০টি অর্ডার পায়।

ইয়োনমারুসান খেলনা ধোয়ায় ২৫টিরও বেশি বিকল্প ব্যবহার করে। মেরামতের ধরনের ওপর এক বা একাধিক পদ্ধতি অনুসৃত হয়, যা কাপড়ের ধরন ও দাগের তীব্রতার ওপর নির্ভর করে। প্রতিটি খেলনা প্রাথমিকভাবে প্রপাইটারি স্টেইন-রিমুভাল এজেন্ট দিয়ে প্রি-ট্রিটমেন্ট করা হয়। এরপর নির্ধারিত তাপমাত্রার পানি ও ডিটারজেন্ট দিয়ে শ্যাম্পু করা হয়। একদিন প্রাকৃতিক বাতাসে শুকানোর পর সাতটি ভিন্ন ব্রাশ দিয়ে দৈর্ঘ্য ও ধরন অনুযায়ী পুতুলের লোম সাজানো হয়। এরপর ইন্ডাস্ট্রিয়াল আয়রন দিয়ে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত করা হয় পুতুল।

ইয়োকোহামার ডিলাইট মেকার্স ২০১৮ সালে পরিষেবা শুরুর পর প্রায় ১৩ হাজার খেলনা মেরামত করেছে। কোম্পানির সিইও মিকি সুগিনো জানান, খেলনার ভেতরকার ফিলিং চেপে যাওয়া থেকে হাত বা পা হারানো পর্যন্ত সমস্যায় মালিকরা তার সাহায্য চান। প্রতিটি খেলনার উপকরণ ও অবস্থা মূল্যায়নের পর গ্রাহকের সঙ্গে পরামর্শের মাধ্যমে মেরামতের পরিকল্পনা ঠিক করা হয়।

জাপানে প্লাশ টয় মেরামতের খরচ সাধারণত ৪০ হাজার ইয়েন বা ২৫৩ ডলারের সমপরিমাণ হয়ে থাকে। চড়া দাম সত্ত্বেও ৩০-৪০ শতাংশ গ্রাহক পরিষেবা নিতে ফিরে আসে বলে জানান মিকি সুগিনো। খবর নিক্কেই এশিয়া