দেশের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরতে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী ‘বাংলাদেশ হেরিটেজ ফেস্টিভ্যাল-২০২৪’।
বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতি (বিজিএমইএ) রাজধানীর উত্তরায় নিজেদের কমপ্লেক্সে এ উৎসব মেলার আয়োজন করেছে।
রোববার (১৮ ফেব্রুয়ারি) বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে এক সংবাদ সম্মেলনে মেলার বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরেন বিজিএমইএ সভাপতি ফারুক হাসান।
সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এই আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের সমৃদ্ধশালী সংস্কৃতি ও শত বছরের ঐতিহ্য যেমন, জামদানি, মসলিন, খাদি, গামছা, মনিপুরি বস্ত্র, মৃৎশিল্প (টেপা পুতুল, মাটির গহনা, চামড়া পণ্য, পাটজাত পণ্য, ন্যাচারাল ডাই, হাতে ছাপা শাড়ি, শখের হাড়ি, টেরাকোটা), হস্তশিল্প, পিঠা, নকশি কাঁথা, পাটজাত পণ্য, বেত পণ্য, শীতলপাটি, ৫ম ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ কর্তৃক স্বীকৃত রিকশা পেইন্টিং এবং আরো অনেক কিছু তুলে ধরছি। বিজিএমইএর এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে একটি পরিবেশবান্ধব ভবিষ্যতের প্রতি পোশাক শিল্পের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন ঘটবে।
ফারুক হাসান আরো বলেন, আমাদের সমৃদ্ধময় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি বিশ্বে উপস্থাপন করে আমরা নিজেদের ব্র্যান্ডিং করতে পারি। আমাদের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য রক্ষা করতে হলে দেশীয় পণ্যগুলোকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে। বিশেষ করে জামদানি, খাদি, বিভিন্ন ধরনের তাঁত বস্ত্র, ইত্যাদি। আমাদের এসব ঐতিহ্যবাহী পোশাকের প্রতি উন্নত দেশগুলোর প্রবল আগ্রহ রয়েছে। তাদের এই আগ্রহ কাজে লাগিয়ে আমরা রপ্তানি বাড়িয়ে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হতে পারি।
জনগণকে দেশীয় পণ্য ব্যবহার করে নিজেদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি উদযাপনের আহ্বান জানিয়ে বিজিএমইএ সভাপতি বলেন, এলডিসি উত্তোরণের পর বাজার সুবিধাগুলোর পরিবর্তন ঘটবে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় আন্তর্জাতিক বাজারে দেশীয় পণ্যের চাহিদা খুঁজে বের করে উৎপাদন বাড়াতে হবে। আন্তর্জাতিক বাজারের চাহিদার সাথে সংগতি রেখে আমাদের তাঁতীদের উপযুক্ত প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তবে সবচেয়ে আগে প্রয়োজন স্থানীয় পর্যায়ে দেশীয় পণ্যগুলো জনপ্রিয় করা।
আয়োজকরা জানান, মেলায় ৪০টি দেশীয় প্রতিষ্ঠান নিজেদের পণ্য প্রদর্শনী ও বিক্রি করছে। প্রতিদিন সকাল সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত চলবে এ মেলা। পণ্য প্রদর্শনীর পাশাপাশি মেলার দ্বিতীয় দিন থাকবে চিত্রকলা প্রদর্শনী বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী বস্ত্র দিয়ে তৈরি পোশাকের ফ্যাশন শো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। ফ্যাশন শো-তে অন্যান্য পোশাকের পাশাপাশি বিজিএমইএ ইউনিভার্সিটি অব ফ্যাশন অ্যান্ড টেকনোলজির শিক্ষার্থীদের ডিজাইন করা বস্ত্রও প্রদর্শিত হবে। তৃতীয় দিনে সন্ধ্যায় রাখা হয়েছে বাংলার লোকজ সঙ্গীত পরিবেশনা।










