জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্যে ব্যয় কমিয়েছেন ব্রিটিশ ভোক্তারা। আসন্ন ক্রিসমাসের ছুটিতে ২২ শতাংশ ব্যয় কমবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থের হিসাবে এ ব্যয় কমার পরিমাণ ৪৪০ কোটি পাউন্ড। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
রিটেইল ইকোনমিকস ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মেটাপ্যাকের গবেষণা অনুসারে, ক্রিসমাস উপলক্ষে চলতি বছরের শেষ তিন মাসে প্রায় ৬০ শতাংশ ব্রিটিশ ক্রেতা খাদ্যবহির্ভূত খাতে খরচ কমাবে। যদিও এ কেনাকাটার মৌসুমে ব্রিটিশ বিক্রেতারা সবচেয়ে বেশি মুনাফা করে থাকে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, পাঁচজনের একজন ব্রিটিশ ক্রেতা ইলেকট্রিক পণ্য, খেলনা ও গৃহস্থালি পণ্য কম ক্রয় করবে বলে ধারণা করছে। যদিও কভিড নিয়ন্ত্রণে লকডাউনের সময়ে এ পণ্যগুলো অধিক হারে বিক্রি হয়েছিল। এদিকে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ৩৮ শতাংশ ক্রেতা নিজেদের ক্রিসমাসে অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন পণ্য ক্রয়ের ক্ষেত্রে পিছিয়ে যাচ্ছেন। একই সঙ্গে ব্রিটিশ ক্রেতাদের আরেকটি অংশ নিজেদের নিরাপদ কিন্তু উদ্বিগ্ন হিসেবে চিহ্নিত করেছে। ক্রিসমাসে ব্রিটিশ ক্রেতাদের খরচ কমানোর পরিকল্পনায় সবচেয়ে ক্ষতির মুখে পড়বে বিয়ের অনুষ্ঠানসহ বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে কাপড় ও পাদুকা সরবরাহকারী খুচরা বিক্রেতারা। অন্যান্য সময়ের তুলনায় চলতি বছরের ক্রিসমাসের সময় এক-চতুর্থাংশ আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হবেন তারা।
উচ্চ জ্বালানি ব্যয় ও শ্রম ব্যয়ের কারণে দেশটির সামগ্রিক ব্যবসা চাপের সম্মুখীন হয়েছে। পাশাপাশি পণ্যের দাম বৃদ্ধিতেও ব্যবসা ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছে। রিটেইল ইকোনমিকসের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিচার্ড লিম বলেন, মন্দার পাশাপাশি মূল্যস্ফীতির কারণে যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতাদের ব্যবসায়ে ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে।
এদিকে বিশ্বজুড়ে মূল্যস্ফীতি কয়েক দশকের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর কারণে ব্রিটিশ ক্রেতাদের বাজেট এরই মধ্যে চাপের মুখে পড়েছে। পরিবারগুলো চলতি বছরের ব্যয় কমাতে সংগ্রাম করে চলছে। তীব্র চাপের মধ্যে লাভের মার্জিনসহ কিছু খুচরা বিক্রেতারা সরবরাহ ও বিকল্প উপায়ে খরচ কমাতে পরিকল্পনা করছে।
এরই মধ্যে সুপার মার্কেটগুলো ক্রেতাদের সাপ্তাহিক খরচে লাগাম টানতে দেখেছেন। ভোক্তারা অধিক দামের পণ্যগুলো ক্রয়ে বিরত থাকছেন এবং সস্তা পণ্য ক্রয় অথবা আলডি বা লিডির মতো ডিসকাউন্ট প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের পণ্য ক্রয়ে বেশি ঝুঁকছেন।










