যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতির চাপ আরো ধীর হয়েছে। নভেম্বরে দেশটির ভোক্তা মূল্য সূচক (সিপিআই) এক বছর আগের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে অক্টোবরে এ হার ৭ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল। গত জুনে শীর্ষে ওঠার পর থেকেই বিশ্বের বৃহত্তম অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীর হচ্ছে। খবর এপি।
মঙ্গলবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে বলা হয়েছে, গত জুনে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি চার দশকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত হয়েছিল। সে সময় সিপিআই বেড়েছিল ৯ দশমিক ১ শতাংশ। এর পর থেকেই দেশটিতে মূল্যস্ফীতির চাপ ধীর হচ্ছে। মাসভিত্তিক হিসাবে নভেম্বরে সিপিআই বেড়েছে মাত্র দশমিক ১ শতাংশ।
এছাড়া বাজারে মূল্য অস্থিরতায় থাকা খাদ্য ও জ্বালানির দাম বাদ দিয়ে হিসাব করা কোর মূল্যস্ফীতিও ৬ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। যেখানে নভেম্বরে কোর মূল্যস্ফীতি আগের মাসের তুলনায় দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। এ হার ২০২১ সালের আগস্টের পর সবচেয়ে কম। সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান ইঙ্গিত দিচ্ছে, মার্কিন মূল্যস্ফীতি ক্রমাগতভাবে মন্থর হচ্ছে।
চলতি বছরের মাঝামাঝিতে রেকর্ড পর্যায় থেকে গ্যাসের দাম কমে গিয়েছে। নভেম্বরে ব্যবহূত গাড়ি, স্বাস্থ্যসেবা, এয়ারলাইনস ভাড়া ও হোটেলে থাকার খরচও কমেছে। আসবাবপত্র ও বিদ্যুতের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। তবে বাড়ির দাম ও অ্যাপার্টমেন্ট ভাড়া কমে গিয়েছে। তবে দেশটিতে মুদির দাম বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। নভেম্বরে মুদি পণ্যের দাম আগের মাসের তুলনায় দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। যেখানে এক বছর আগের তুলনায় এ দাম বাড়ার হার ছিল ১২ শতাংশ। ফলে খাবারের জন্য নিম্নআয়ের পরিবারগুলোর হিমশিম খাওয়ার মতো পরিস্থিতি অব্যাহত রয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফিনিক্সে সেন্ট মেরি’স ফুড ব্যাংক গত মাসে অ্যারিজোনাজুড়ে রেকর্ড ১৯ হাজার পরিবারকে থ্যাংসগিভিং খাবার সরবরাহ করেছিল। সেখানে খাবার নেয়া একজন সিঙ্গেল মাদার রোজা ডেভিলা বলেন, আমার তিন সন্তান স্ন্যাকস খেয়ে দিন পার করে। ফুড ব্যাংক সত্যিই আমাদের মৌলিক চাহিদা মেটাচ্ছে।
ফুড ব্যাংকের খাবারের জন্য অপেক্ষা করা আলমা কুইন্টেরা জানান, তার স্বামী বাড়ি রঙের কাজ করেন। তার পরও বিদ্যালয়গামী তিন সন্তানের জন্য পর্যাপ্ত খাদ্য নিশ্চিত করতে মাসে দুই বা তিনবার ফুড ব্যাংকে যেতে হয়। তিনি বলেন, ‘উচ্চ দাম সত্যিই আমাদের জীবনকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। বিশেষ করে বাড়ি ভাড়া, ইউটিলিটি বিল ও পর্যাপ্ত খাবারের ব্যবস্থা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, সাম্প্রতিক মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান আগামী মাসগুলোয় কিছুটা স্বস্তির ইঙ্গিত দিচ্ছে। কমেরিকা ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ বিল অ্যাডামস বলেন, চলতি বছর মূল্যস্ফীতি ভয়ানক পর্যায়ে ছিল। তবে আগামী বছর মূল্যস্ফীতির চাপ ধীর হবে বলে আশা করছি। সরবরাহ ব্যবস্থার বাধা কমছে, প্রতিষ্ঠানগুলোর মজুদও বেড়েছে এবং মূল্যস্ফীতিকে বাড়িয়ে তোলা বেশির ভাগ ঘাটতির অবসান ঘটিয়েছে।










