সাতক্ষীরায় পাইকারি বাজারে কমেছে চালের দাম। এক মাসের ব্যবধানে প্রতি মণের দাম ২০০-২৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, স্থানীয়ভাবে চালের সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সম্প্রতি সব ধরনের চালের দাম কমেছে।
সাতক্ষীরা জেলা সদরের চালের পাইকারি মোকাম সুলতানপুর বড়বাজারে কয়েকটি আড়ত ঘুরে দেখা গেছে, অধিকাংশ আড়তে চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। এ বাজারের পাইকারি চাল বিক্রয় প্রতিষ্ঠান মেসার্স লক্ষ্মী ভাণ্ডারে চিকন ২৮ জাতের চাল বিক্রি হচ্ছে প্রতি মণ ২ হাজার ৮০ টাকা, চিকন মিনিকেট ২ হাজার ২৪০ ও মোটা জাতের চাল প্রতি মণ ১ হাজার ৭৬০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে।
এ প্রতিষ্ঠানের স্বত্বধিকারী বিনয় কৃঞ্চ সাহা জানান, পাইকারিতে সম্প্রতি সব ধরনের চালের দাম কমেছে। এক মাস আগেও মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে মণপ্রতি ২ হাজার ৪৮০ টাকা, ২৮ চাল ২ হাজার ২০০ ও মোটা জাতের চাল প্রতি মণ ১ হাজার ৮৮০ থেকে ১ হাজার ৯২০ টাকা দরে। সে হিসাবে পাইকারিতে ২০০-২৪০ টাকা পর্যন্ত কমেছে চালের দাম।
সাতক্ষীরা সদরের চালতেতলা এলাকার তপন অটো রাইস মিলের স্বত্বাধিকারী তপন সাহা জানান, নতুন বোরো চালের সরবরাহ পর্যাপ্ত। জেলায় যে পরিমাণ চাল উৎপাদন হয়, তাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও জেলার বাইরেও সরবরাহ করা হয়। দেশী চালের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকায় দাম কমেছে। তার নিজস্ব মিল থেকে বিভিন্ন প্রকার চাল উৎপাদন করে গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর ও মাদারীপুর এলাকায় সরবরাহ করেন। জেলার বাইরে প্রতি মাসে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টন চাল সরবরাহ করেন।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. সাইফুল ইসলাম জানান, ২০২২-২৩ বোরো মৌসুমে জেলায় চাল উৎপাদন হয়েছে ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩২৫ টন, যা গত মৌসুমের তুলনায় ২৫ হাজার টন বেশি। গত মৌসুমে জেলায় বোরো চাল উৎপাদন হয় ৩ লাখ ৯ হাজার ৮৪ টন। বোরো ও আমন মৌসুমে সাতক্ষীরায় যে পরিমাণ চাল উৎপাদন হয় তাতে স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও মোট উৎপাদনের প্রায় ৩৫ শতাংশ পরিমাণ চাল জেলার বাইরে সরবরাহ করা হয়।










