অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে নির্মিত হচ্ছে ১৮২ মিটার দীর্ঘ আকাশচুম্বী ভবন। সবকিছু ঠিক থাকলে এটি হবে বিশ্বের সর্বোচ্চ হাইব্রিড ভবন, যেটি নির্মাণের মূল উপাদান হলো পরিবেশবান্ধব কাঠ ও কাঠজাত সামগ্রী। জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার দুটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠান যৌথ উদ্যোগে এ ভবনের কাজ শুরু করেছে। জাপানভিত্তিক বার্তা সংস্থা কিয়োদো এজেন্সির বরাতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়েছে।

টোকিওভিত্তিক ওবাইয়াশি করপোরেশন এবং সিডনিভিত্তিক বিল্ট পিটিওয়াই লিমিটেড ২০২৬ সালের মধ্যে অ্যাটলাসিয়ান সেন্ট্রাল নামের ৩৯ তলাবিশিষ্ট ভবনটি নির্মাণের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠান দুটির লক্ষ্য হলো নির্মাণকাজ চলাকালে প্রথাগত ভবনের চেয়ে কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ৫০ শতাংশ বা তার বেশি কমিয়ে আনা। কেবল নির্মাণকাজেই নয়, পুরো ভবনটি যেন পুনর্ব্যবহার্য জ্বালানির মাধ্যমে পরিচালিত হয় সেভাবেই পরিকল্পনা করা হয়েছে।

ওপরের দিকে সাতটি তলার পর থেকে হাইব্রিড-টিম্বার পদ্ধতিতে তৈরি করা হবে। যেখানে স্টিল অবকাঠামো এবং বিশেষভাবে প্রক্রিয়াজাত কাঠ অথবা কাঠের প্যানেল দিয়ে তৈরি করা হবে।

প্রক্রিয়াজাত যে কাঠ বা কাঠজাত সামগ্রী দিয়ে ভবনের মূল কাঠামো নির্মাণ করা হবে সেটি কংক্রিটের তুলনায় কম কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ করবে বলে জানিয়েছে ওবাইয়াশি করপোরেশন। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, এসব পণ্য পরে পুনর্ব্যবহারও করা যাবে। তবে নিচের সাততলা ও বেজমেন্ট নির্মাণের জন্য কংক্রিটই ব্যবহার করা হবে।

এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিল্টের সিইও এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক ব্রেট মেসন বলেন, এ প্রকল্পের কোনো কিছুই প্রথাগত নয়। ভবিষ্যতের ভবনগুলো কেমন হতে পারে তার একটি ধারণা দিতেই এ ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। এটি নির্মাণ ও পরিচালনার সময় যেন পরিবেশের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব কম পড়ে সেদিকে সর্বোচ্চ লক্ষ রাখা হবে।

জাপানে কম কার্বন নিঃসরণের মাধ্যমে ভবন নির্মাণে কয়েক বছর ধরেই উল্লেখযোগ্য কাজ করছে ওবাইয়াসি করপোরেশন। পরিবেশবান্ধব সামগ্রী ব্যবহার করে ভবন নির্মাণের জন্যও পরিচিত এ প্রতিষ্ঠান।

এর আগে গত মার্চে টোকিওর কাছে ইয়োকোহামায় ১১ তলাবিশিষ্ট একটি ভবন নির্মাণ করে ওবাইয়াশি। যেটির মূল নির্মাণসামগ্রী যেমন কলাম, মেঝে ও দেয়াল কাঠের তৈরি। পুনর্ব্যবহার্য পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে একটি টেকসই পৃথিবী তৈরি করতে চায় ওবাইয়াশি। প্রতিষ্ঠানটি বিশ্বাস করে, এসব পদক্ষেপের মাধ্যমে একসময় কার্বন নিরপেক্ষ পৃথিবী গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জগুলো মোকাবেলা করা যাবে।