ব্রিটিশ পরিবারগুলোর খাদ্য ব্যয় গড়ে ২১০ পাউন্ড বাড়িয়ে দিয়েছে ব্রেক্সিট। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) থেকে যুক্তরাজ্য বেরিয়ে যাওয়ায় সীমান্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এটি বাস্তবায়নের প্রায় দুই বছরের বেশি সময়ে দেশটির নাগরিকদের খাদ্য ব্যয় বেড়েছে ৬ শতাংশ। সীমান্তে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় অতিরিক্ত খরচের কারণে খাদ্যের দাম বেড়েছে। ফলে নিম্ন আয়ের পরিবারগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। লন্ডন স্কুল অব ইকোনমিকসের (এলএসই) এক গবেষণায় এ তথ্য উঠে এসেছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।

১৯৭৩ সালে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ইইউতে যোগ দিয়েছিল। আর ২০২০ সালের ৩১ জানুয়ারি প্রায় ৪৭ বছর পর বরিস জনসনের নেতৃত্বে যুক্তরাজ্য ইইউ জোট ত্যাগ করে। এক বছর পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বেক্সিট হিসেবে পরিচিত এ কার্যক্রম কার্যকর হয়। ইইউ জোট গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ১৯৫০ সালের ৯ মে। জোট গঠনের ৭০ বছরের ইতিহাসে প্রথম দেশ হিসেবে যুক্তরাজ্য জোটটি ত্যাগ করে।

গবেষণার সহলেখক ও ব্রিস্টল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক রিচার্ড ডেভিস বলেন, ইইউ ত্যাগ করার সময় যুক্তরাজ্য একটি গভীর বাণিজ্য সম্পর্ক পরিবর্তন করেছে। ফলে আন্তঃসীমান্ত অতিক্রম করে বাণিজ্য করার আগে প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা করার জন্য কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করা প্রয়োজন।

ব্রেক্সিটের কারণে ব্রিটিশ ফার্মগুলো উচ্চ ব্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে এবং এর অধিকাংশ ব্যয়ই ভোক্তাদের বহন করতে হচ্ছে। গবেষণায় বলা হয়, ইইউ থেকে ফার্মগুলোর বেরিয়ে আসার খরচের ৫০ থেকে ৮৮ শতাংশ ভোক্তাদের বহন করতে হয়েছে। ফলে বছরে খাদ্য ব্যয় ৩ শতাংশ বেড়েছে। দুই বছরের বেশি সময়ে ভোক্তাদের মোট ৫৮০ কোটি পাউন্ড অতিরিক্ত ব্যয় করতে হয়েছে।

ব্রেক্সিটের কারণে দেশটির দরিদ্র পরিবারের জন্য উচ্চ ক্যালরিযুক্ত খাদ্যের ব্যয় বেড়েছে। এ খাদ্য ক্রয়ে ধনীর তালিকায় শীর্ষ ১০টি পরিবার দশমিক ৭ শতাংশ ব্যয় করে থাকে। সেখানে দরিদ্র পরিবারগুলোর ব্যয় হয়ে থাকে ১ দশমিক ১ শতাংশ।

বুধবার ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ হাউ পিল বলেন, যুক্তরাজ্যের উচ্চমূল্যস্ফীতির জন্য ব্রেক্সিট আংশিকভাবে দায়ী। এর কারণে শ্রম সংকট, ফার্মগুলোয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণে চাপ সৃষ্টিসহ অর্থনীতি দুর্বল হয়েছে।

দেশটির জাতীয় পরিসংখ্যান অফিসের তথ্য অনুসারে, মূল্যস্ফীতি লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে পাঁচ গুণ বেশি হয়েছে। যেখানে এটির লক্ষ্যমাত্রা ১১ দশমিক ১ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। গত বছর যুক্তরাজ্যের খাদ্যপণ্যের মূল্য বেড়ে ১৬ দশমিক

৫ শতাংশে পৌঁছেছিল। এলএসইর গবেষকরা বলেন, ব্রিটিশ খাদ্য উৎপাদনকারীরা কম প্রতিযোগিতায় উপকৃত হয়েছেন। তবে এ সময়ে অভ্যন্তরীণ ভোক্তাদের ক্ষতির কারণে তাদের লাভ ১০০ কোটি পাউন্ডে পৌঁছেছে।