কভিড মহামারীতে বিশ্বের বিপুল জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য এবং খাদ্য ও পুষ্টিনিরাপত্তা চরম চ্যালেঞ্জের মুখে। দেশের কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিলক্ষ্য, ‘জনসাধারণের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ’ এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের লক্ষ্য, ‘সকল সময়ে দেশের সকল মানুষের জন্য নির্ভরযোগ্য খাদ্যনিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণ। সে আলোকে দেশ ধান উৎপাদনে বর্তমানে বিশ্বে তৃতীয় স্থানে এবং মোট চালের প্রায় ৭ শতাংশ জোগান দিয়ে অনেকটা স্বনির্ভর। প্রধান খাদ্য হিসেবে চাল বিশাল জনগোষ্ঠীর ক্ষুধা নিবারণসহ স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও শক্তির অন্যতম উৎস। এখানে গড়ে দৈনিক ৪০০ গ্রাম ভাত খাওয়া হয়। তা থেকে প্রয়োজনীয় ক্যালরির প্রায় ৭০ শতাংশ এবং জিঙ্ক চাহিদার প্রায় ৬০ শতাংশ মেটানো সম্ভব। কিন্তু অটোমেটিক চালকলে ছাঁটাইকৃত সাদা চাল তার পুষ্টি ও শক্তির চাহিদা উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিচ্ছে। তাই এত ভাত খেয়েও পুষ্টির অভাবজনিত গুপ্তক্ষুধা রয়েই যাচ্ছে।

 শরীরের দরকারি জিঙ্ক ঘাটতির ঝুঁকিতে রয়েছে দেশের অর্ধেকের বেশি মানুষ। এখানকার বিপুল আবাদি জমিতেও জিঙ্ক অপর্যাপ্ত, যার বিরূপ প্রভাব প্রধান খাবার চালসহ অন্য ফসলের ওপর পড়ে, বাড়ায় সংক্রামক ও অসংক্রামক নানা ভয়ংকর রোগের ঝুঁকি। বিশ্বব্যাংকের এক হিসাবে, বাংলাদেশ খনিজ ও ভিটামিন ঘাটতির জন্য জিডিপিতে বার্ষিক প্রায় ৭০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সমপরিমাণ অর্থ হারায়।

কভিডসহ নানা সংক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার সামনের সারির ঢাল সুস্থ ইমিউন সিস্টেম, যা গড়ে তুলতে অপরিহার্য অণুপুষ্টি জিঙ্ক, তার সহযোদ্ধা জৈবিকভাবে সুসংহত জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান।

মাঠের সোনালি ধান এখন কলের কৌশলে ঝকঝকে, ফকফকে ফরসা। বাজার পর্যবেক্ষণে—প্রচলিত মিনিকেট, নাজিরশাইল, কাটারিভোগ, স্বর্ণা প্রভৃতি ব্র্যান্ডের চালে প্রাপ্ত জিঙ্কের মাত্রা সুখকর নয়। প্যাকেটজাত এসব বাহারি ব্র্যান্ডের ভেতরে থাকে ভিন্ন জাতের চাল। যার প্রায় পুরোটাই আসলের নামে পলিশ করা, পুষ্টিহীন ও নকল। সরু চালে সুগন্ধ মেশানো হয় সুনিপুণভাবে। দেশে বিদ্যমান নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ২৫, ২৬ ও ৩২ প্রভৃতি ধারায় এসব দণ্ডনীয় অপরাধ।

মাঠে সোনালি মোটা ধান, আড়তে সরু ও সাদা চালের গোমর: অধিকাংশ মাঠ দেশজ আধুনিক জাত এবং হাইব্রিড ধানে ভরা। কিন্তু অটোমেটিক চালকল এবং আড়তে মসৃণ ও চকচকে উজ্জ্বল প্রিমিয়াম মিনিকেট, নাজিরশাইল, নাদিরশাইল, পাইজাম, কাজললতা প্রভৃতি ব্র্যান্ডে ভরপুর। দেখে বোঝার উপায় নেই কোনটা দেশী, কোনটা উফশী আর কোনটা হাইব্রিড ধানের চাল।

সাধারণভাবে এক মণ তথা ৩৭ দশমিক ৩২ কিলোগ্রাম ধানে ছাঁটাই শেষে ২৭ কিলোগ্রাম চাল পাওয়া যায়। কিন্তু অধিকাংশ অটোমেটিক চালকলে প্রায় সব ধরনের ধান ছাঁটাই করে ২৩-২৪ কিলোগ্রাম পলিশ চাল এবং তিন-চার কিলোগ্রাম রাইস পলিশ বের করছে। ছাঁটাই সীমা ৮ শতাংশ পর্যন্ত নির্ধারণ থাকলেও অনেকে ৩০ শতাংশের বেশি ছাঁটাই করছে। রাইস পলিশ মত্স্য ও পশু ফিডমিলে চলে যায়। আর সাদা চাল তার আমিষ, আঁশ, খাদ্যপ্রাণ ও খনিজ হারিয়ে শর্করাময় হয়ে ওঠে, যা দেহের প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে রোগের ঝুঁকি বাড়ায়।

চালের গুণমান অবনতির বিষয় স্বীকার করা মিল মালিকদের বক্তব্য, সাদাটে ও উজ্জ্বল চাল ভোক্তাপছন্দ। এটা অগ্রহণযোগ্য। বাজারে পুষ্টিসমৃদ্ধ লালচে চাল কিনতে গিয়ে সচেতন ভোক্তারা বিফল বা প্রতারণার শিকার হন। বাজার ও অনলাইনে কম ছাঁটা বাদামি চাল সীমিত। এর মূল্য সাদা চালের চেয়ে বেশি। ভোক্তাও যথেষ্ট।

চালের পুষ্টি মাছ-মুরগির পেটে এবং রাইস ব্র্যান অয়েল মিলে: মত্স্য ও পশু খাদ্য তৈরির নানা উপাদানের মধ্যে ১০ শতাংশ পর্যন্ত রাইস পলিশ ব্যবহূত হয়। প্রতি কিলোগ্রামের মূল্য ৩০-৩৫ টাকা। বছরে ৬৫ লাখ টনের বেশি ফিড উৎপাদনে ফিড ইন্ডাস্ট্রিতে সাড়ে ছয় লাখ টন রাইস পলিশের বাজার। রাইস ব্র্যান অয়েল উৎপাদনের অন্যতম বাণিজ্যিক পণ্য অটোমেটিক চালকলের উপজাত রাইস ব্র্যান। পুরনো মডেলের ধানভানা কলে যার সম্ভাবনা নেই। অটোমেটিক চালকল বাড়ার এটাও অন্যতম কারণ।

জিঙ্কের প্রয়োজনীয়তা: নারী-পুরুষের জিঙ্ক চাহিদা দৈনিক প্রায় ৮-১২ মিলিগ্রাম। পরিমাণে কম হলেও দেহ গঠন, বৃদ্ধি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে জিঙ্ক অত্যাবশ্যকীয়। শর্করা ও চর্বির বিপাকসহ প্রায় ২০০টির অধিক এনজাইমের কাজেও তা অপরিহার্য। শরীরে জিঙ্ক ঘাটতির লক্ষণ যেভাবে বোঝা যায়: জিঙ্কের ঘাটটিতে স্নায়বিক সমস্যা তথা মগজের কোষের কার্যক্ষমতা ধীর হয়ে স্মৃতিশক্তি হ্রাস পায়। দৈহিক ও মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয়। ক্ষুধামান্দ্য, অরুচি ও দুর্বলতা দেখা দেয়। চুল ঝরে যেতে পারে। ক্ষতিকর জীবাণুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ক্ষমতা, স্বাদ ও ঘ্রাণের অনুভূতি কমে যায়। পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া, কভিড ও নিউমোনিয়াসহ বিভিন্ন সংক্রমণ মারাত্মক আকার ধারণ করে, এমনকি অনেক সময় মৃত্যুও ঘটতে পারে।

জিঙ্কের ঘাটতিপূরক খাবার: কম ছাঁটা ও জিঙ্কসমৃদ্ধ ভাত, ভুট্টা, গমের রুটি, লাউ, তিল, মিষ্টিকুমড়ার বিচি, শিম, চীনাবাদাম, কাজুবাদাম, মটরশুঁটি, ছোলা ও ডাল প্রভৃতি জিঙ্কের ভালো উৎস। ছোলা ও মটরশুঁটি অনেকক্ষণ পানিতে ভিজিয়ে বা সিদ্ধ করে অথবা অঙ্কুর গজিয়ে খাওয়া উত্তম। আলু, কচু শাকেও জিঙ্ক বিদ্যমান। মাশরুম, মাংস, ডিম, দুধ, দই ও পনিরেও জিঙ্ক থাকে।

শরীরে জিঙ্ক বেশি দিন জমা থাকে না, তাই খাদ্য তালিকায় নিয়মিত জোগানো উত্তম। কম সময়ে অধিক জিঙ্ক গ্রহণের চেয়ে পরিমিত মাত্রায় নিয়মিত গ্রহণ বেশি কার্যকর।

জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির আওতায় সরকার হতদরিদ্রদের পুষ্টিহীনতা দূরীকরণে কয়েক বছর ধরে ‘পুষ্টি চাল’ সরবরাহ করছে। এ চালে ভিটামিন-এ, বি-১ এবং বি-১২ এবং ফলিক অ্যাসিড, আয়রন ও জিঙ্কের মতো উপাদান মেশানো হয়।

আশার আলো জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান: আন্তর্জাতিক ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ইরি), হারভেস্টপ্লাস ও আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা কেন্দ্র, বাংলাদেশের (আইসিডিডিআর,বি) সহায়তায় ২০১৩ সালে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উদ্ভাবন করে বিশ্বের সর্বপ্রথম জৈবিকভাবে সুসংহত জিঙ্কসমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল ধান: ব্রি ধান ৬২। জানুয়ারি ২০২২ পর্যন্ত ছাড়কৃত জিঙ্কসমৃদ্ধ আধুনিক জাতগুলো যথাক্রমে ব্রি ধান ৬২, যার প্রতি কিলোগ্রাম চালে জিঙ্কের পরিমাণ ১৯ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম এবং ব্রি ধান ৬৪-এ ২৪ মিলিগ্রাম, ব্রিধান ৭২-এ ২২ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম, ব্রি ধান ৭৪-এ ২৪ দশমিক ২ মিলিগ্রাম, ব্রি ধান ৮৪-এ ২৭ দশমিক ৬ মিলিগ্রাম, ব্রি ধান ১০০-এ ২৫ দশমিক ৭ মিলিগ্রাম এবং ব্রি ধান ১০২-এ ২৫ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম জিঙ্কসমৃদ্ধ।

বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত উচ্চফলনশীল বিনা ধান ২০-এর প্রতি কিলোগ্রাম আকাঁড়া চালে জিঙ্কের পরিমাণ ২৬ দশমিক ৫ মিলিগ্রাম। এর মধ্যে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমআরএইউ) কর্তৃক উদ্ভাবিত জিঙ্কসমৃদ্ধ দুটি ধানের জাত: বিইউ সুগন্ধি হাইব্রিড ধান ১-এ ২১ দশমিক ৮ মিলিগ্রাম এবং বিইউ ধান ২-এ ২২ মিলিগ্রাম জিঙ্কসমৃদ্ধ। বিভিন্ন সংস্থার জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের নতুন নতুন জাত উদ্ভাবনের ধারা অব্যাহত রয়েছে।

দেশে আবাদকৃত জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের প্রায় ২৫ শতাংশ এখন আসছে দক্ষিণাঞ্চল থেকে। নতুন নতুন উদ্ভাবিত জিঙ্কসমৃদ্ধ উফশী ধানের জাত অন্যান্য অঞ্চলের কৃষক পর্যায়ে দ্রুত ও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন, যদিও রয়েছে নানামুখী চ্যালেঞ্জ।

চ্যালেঞ্জ ও উত্তরণ: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অভিলক্ষ্য এবং খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অভিন্ন লক্ষ্য জনসাধারণের পুষ্টি ও খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ। সে চ্যালেঞ্জ উত্তরণে জাতীয় পর্যায়ে সুর্নিদিষ্ট রোডম্যাপ এবং তার কর্মকৌশল বাস্তবায়ন কাঠামো আবশ্যক। দেশে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন এবং জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানচাষ এলাকা ক্রমে বাড়লেও পুষ্টির অভাবজনিত গুপ্তক্ষুধা রোধে বাজার থেকে রান্নাঘর হয়ে খাবারের থালা পর্যন্ত পৌঁছানো একটি বড় চ্যালেঞ্জ। আরেক চ্যালেঞ্জ অটোমেটিক চালকল মালিকদের অতি লোভ ও লাভ নিয়ন্ত্রণ করানো। প্রয়োজন পুষ্টি হিসেবে জিঙ্ক সম্পর্কে ভোক্তাপর্যায়ে এর সচেতনতা ও আগ্রহ বৃদ্ধি। জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান উদ্ভাবনের পাশাপাশি এর উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাত ও ভোক্তাপর্যায়ে পৌঁছানোর পথরেখা নিরবচ্ছিন্ন ও বিঘ্নহীন করায় বর্ণিত কাঠামো অবদান রাখতে পারে।

পুষ্টিসমৃদ্ধ ফসল ও জাত উন্নয়ন, উৎপাদন ও সরবরাহকরণে একটি নীতিনির্ধারণী, পর্যবেক্ষণ ও মূল্যায়নে সংশ্লিষ্ট কাজ করা আন্তর্জাতিক সংস্থা এফএও, ইউনিসেফ, হারভেস্টপ্লাস প্রভৃতি এবং দেশীয় সংস্থা হিসেবে সংশ্লিষ্ট ফসল উদ্ভাবন ও সম্প্রসারণে জড়িত প্রতিষ্ঠানগুলো যেমন নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসএএফই ফাউন্ডেশন, বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পুষ্টি বিশ্লেষণকারী ল্যাবগুলো, বিএসটিআই, বিএআরডি, আরডি ও বেসরকারি সংস্থা প্রভৃতি যুক্ত থাকতে পারে। ভুট্টা, গম, আলু প্রভৃতি ফসলেও জৈবিকভাবে সুসংহত জিঙ্কসমৃদ্ধ উচ্চফলনশীল জাত উদ্ভাবনে সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ মৃত্তিকা গবেষণা ইনস্টিটিউট এ কাজকে সমৃদ্ধকরণে অবদান রাখতে পারে।

এনজিও, বিআরডিবি, প্রাথমিক-মাধ্যমিক-মাদ্রাসার শিক্ষক, ইমাম-পুরোহিত, সাংবাদিক ও গণমাধ্যমসহ নানা স্তর ও পেশার কর্মীদের ডিএই, কৃষি তথ্য সার্ভিস ও বেসরকারি সংস্থার জনবলের মাধ্যমে উদ্বুদ্ধকরণ প্রশিক্ষণ এবং গণযোগাযোগ মাধ্যমের ব্যাপক প্রচারাভিযান অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।

ব্রি, বিনা ও বিভিন্ন সংস্থা থেকে উদ্ভাবিত ও ছাড়কৃত জিঙ্কসমৃদ্ধ জাতের প্রজনন শ্রেণীর ধানবীজ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিএডিসির মাধ্যমে ভিত্তিবীজে বর্ধন করে, প্রত্যায়িত বীজ বাজারজাত ও যুগপৎ ডিএইএর উন্নত মানের ধান ও গমবীজ উৎপাদন, সংরক্ষণ ও বিতরণ প্রকল্পের প্রদর্শনীর মাধ্যমে মাঠে বিস্তার ঘটানো, লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হবে। কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে বেসরকারি সংস্থাও এ কাজে যুক্ত হতে পারে। প্রয়োজনে ডিএইর মাধ্যমে তার সফল বাস্তবায়নে নতুন প্রকল্প সৃজন করা যেতে পারে।

ডিএই, বিআরডিবি এবং এনজিওর মাধ্যমে নির্দিষ্ট এলাকায় গুচ্ছাকারে প্রণোদনাসহ জিঙ্কসমৃদ্ধ ধান যথাসম্ভব উৎপাদনে উত্তম কৃষিচর্চা (জিএপি) অনুশীলন করতে পারে। সে ধান স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় খাদ্য মন্ত্রণালয় সংগ্রহ করে, লবণে আয়োডিন, ভোজ্যতেলে ভিটামিন-এ সংযুুক্তির আইন ও নীতিমালার আলোকে নির্ধারিত ও বিশ্বস্ত অটোমেটিক চালকলে ভাঙাতে হবে। অতি পলিশিং রোধে নিয়মিত সরেজমিন প্রশাসনিক নজরদারি দরকার। চালের নমুনা নিয়মিত সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে ল্যাবে মান পরীক্ষণের ব্যবস্থা চলমান থাকা চাই। ল্যাবের বিষয়ে বিদ্যমান স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণাগারের সমন্বয়ে নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা যেতে পারে।

অটোমেটিক চালকলে ৫, ২৫ ও ৫০ কিলোগ্রামের সরবরাহকৃত সুনির্দিষ্ট প্যাকেটে ভরে বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সির মতো ট্যাগসহ সরবরাহ করতে হবে, যাতে বিপণনকালের অনিয়ম, ট্যাগ বা সনদ কার্ড যাচাই করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া সহজ হয়। এভাবে দেশে প্রতারণামুক্ত একটি সুশৃঙ্খল বাজার ব্যবস্থাপনা গড়ে উঠতে পারে।

রান্নায় পুষ্টি অপচয়ের অন্যতম কারণ মাড় ফেলে দেয়া। এ বিষয়ে আচরণগত অভ্যাস পরিবর্তনে নিরন্তর গণযোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক উদ্বুদ্ধকরণ প্রচারণার প্রসার ঘটাতে হবে।

রেশন গ্রহণকারী সামরিক, পুলিশ, বিডিআর, আনসারদের এবং কাবিখা, খোলাবাজারে বিক্রি প্রভৃতি কাজে জিঙ্কসমৃদ্ধ চালকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। সচেতন ভোক্তার আনাগোনা বেশি থাকায় সুপার শপগুলোতে এর সরবরাহ এবং টিসিবির মাধ্যমে বিপণন করা যেতে পারে। এর বাজারমূল্য সর্বনিম্ন মোটা চালের সমান রাখলে বেশি দামে বিক্রির অসদুপায় হ্রাস এবং কম মূল্যের কারণে বাজার চাহিদা বেড়ে জনগণের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অবদান রাখবে।

লাগসই কৌশলে জিঙ্কসমৃদ্ধ ধানের জাত উদ্ভাবন থেকে খাবার থালায় পৌঁছানোর অভীষ্ট পূরণ সম্ভবপর, যা গ্রামীণ দারিদ্র্য ও অপুষ্টি নিরসনের মাধ্যমে জনজীবনের মোড় ঘুরিয়ে, অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানো এবং বহির্বাণিজ্যের দ্বার উন্মোচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও কৃষিবান্ধব সরকারের প্রেক্ষিত পরিকল্পনা ২০২১-৪১ বাস্তবায়নের অন্যতম এমন চ্যালেঞ্জ উত্তরণ যত দ্রুত হবে ততই মঙ্গল।

 

আবু হেনা ইকবাল আহমেদ: কৃষিবিদ; সাবেক পরিচালক, বীজ প্রত্যয়ন এজেন্সি, কৃষি মন্ত্রণালয়