(পূর্ব
প্রকাশের
পর)
বঙ্গবন্ধু
গণতন্ত্র
ও
গণতান্ত্রিক
বিপ্লবের
ইতিহাস
গভীর
নিষ্ঠার
সঙ্গে
পাঠ
করেছিলেন,
এর
প্রমাণ
আছে
১৯৭২
সালের
৪
নভেম্বর
দেয়া
ভাষণে।
সেই
ভাষণে
তিনি
বলেন,
‘আমরা গণতন্ত্রে
বিশ্বাস
করি।
সেই
গণতন্ত্র,
যা
সাধারণ
মানুষের
কল্যাণ
সাধন
করে।
আজ
ধনতান্ত্রিক
বিশ্বে
যে
গণতন্ত্র
প্রচলিত
রয়েছে,
তা
হলো
বুর্জোয়া
গণতন্ত্র।
ইংল্যান্ডের
১৬৪৯
এবং
১৬৮৮
সালের
বিপ্লব,
ফ্রান্সের
১৭৮৯
সালের
বিপ্লব
এবং
ইউরোপের
অন্যান্য
দেশের
১৮৪৮
সালের
বিপ্লবগুলো
ছিল
মূলত
সামন্ততন্ত্র
ও
স্বৈরাচারী
রাজন্যবর্গের
বিরুদ্ধে
বুর্জোয়া
গণতান্ত্রিক
বিপ্লব।
এসব
বিপ্লবের
মাধ্যমে
সব
মানুষ
আইনের
দৃষ্টিতে
সমঅধিকার
পেয়েছিল।’
অর্থাৎ
বঙ্গবন্ধু
বলেছেন,
বুর্জোয়া
গণতন্ত্রে
সমাজে
গোটা
মানুষের
কল্যাণ
সাধন
করতে
পারে
না।
সাধারণ
মানুষের
মুক্তি
পাশ্চাত্য
গণতান্ত্রিক
ব্যবস্থায়
সম্ভব
নয়।
তিনি
বলতে
চেয়েছেন,
গণতন্ত্রের
মাধ্যমে
যে
পুঁজিবাদের
গোড়াপত্তন
হয়,
সেটা
সবসময়ই
কোনো
না
কোনোভাবে
বৈষম্য
সৃষ্টি
করে
এবং
তাতে
বণিকশ্রেণীর
মানুষ
বেশি
উপকৃত
হয়।
ফলে
সামাজিক
ন্যায়
ও
মানবাধিকার
পদে
পদে
বিঘ্নিত
হয়।
বঙ্গবন্ধু
বুঝতে
পেরেছিলেন
যে
সাধারণ
মানুষের
মুক্তি
পাশ্চাত্য
গণতান্ত্রিক
ব্যবস্থায়
সম্ভব
নয়
এবং
ধনতন্ত্রবাদ
যে
একসময়
গণতান্ত্রিক
ধারাকে
নিষ্ক্রিয়
করে
দেয়,
সেটা
তিনি
আগেই
আঁচ
করতে
পেরেছিলেন।
জোটনিরপেক্ষ
সম্মেলনে
দরাজ
কণ্ঠে
তিনিই
বলতে
পেরেছিলেন—‘বিশ্ব
আজ
দুই
ভাগে
বিভক্ত—একদিকে
শোষক,
অন্যদিকে
শোষিত।
আমি
শোষিতের
পক্ষে।’
পররাষ্ট্রনীতির
ক্ষেত্রে
অন্য
দেশের
রাষ্ট্রনায়ক
বা
নেতাদের
সঙ্গে
সম্পর্ক
স্থাপন,
নিজের
নীতি
থেকে
একচুল
না
সরে,
অন্যকে
কোনো
রকম
আঘাত
না
করে
নিজের
বক্তব্য
বলা—এটা
হচ্ছে
বঙ্গবন্ধু
শেখ
মুজিবুর
রহমানের
একটা
চারিত্রিক
বৈশিষ্ট্য।
বঙ্গবন্ধুর
আদর্শে
কখনো
লোক
দেখানো
ভালোবাসা
ছিল
না,
তিনি
আপ্রাণ
ভালোবেসেছিলেন
এ
দেশের
দুঃখী
মানুষগুলোকে,
আর
তাই
মুক্তির
জন্য
নিজের
জীবন
বিকিয়ে
দিয়েছিলেন।
তিনি
প্রমাণ
করেছেন
যে
সত্যিকার
অর্থে
মানুষের
দুঃখ
দূর
করতে
হলে
প্রথমে
হূদয়
নিংড়িয়ে
ভালোবাসতে
হবে।
এ
প্রসঙ্গে
প্রথম
ভারত-বাংলাদেশ
গঙ্গা
নদীর
পানি
চুক্তি
নিয়ে
একটি
ঘটনা
মনে
পড়ছে।
ঢাকায়
অনুষ্ঠিত
আলোচনাটি
একপর্যায়ে
এসে
অচল
হয়ে
যায়।
ভারতীয়
দলের
যথারীতি
দাদাগিরি!
গঙ্গার
শুষ্ক
মৌসুমে
প্রবাহিত
৫৫
হাজার
কিউসেকের
অন্তত
৪০
হাজার
কিউসেক
হুগলি
নদীতে
না
দিলে
কলকাতা
বন্দর
রক্ষা
করা
অসম্ভব।
অবশিষ্ট
প্রবাহ
নিয়েই
বাংলাদেশকে
চলতে
হবে।
বাংলাদেশ
অনেক
যুক্তি
এবং
আবেদন-নিবেদন
করেও
ভারতীয়
দলকে
নমনীয়
করতে
পারল
না।
ভারতীয়
দল
কোনো
চুক্তি
না
করেই
ফিরে
যাচ্ছে।
অবশেষে
শোনা
গেল
সেদিনই
চুক্তি
স্বাক্ষর
হচ্ছে
এবং
বিকালে
ভারতীয়
দল
দিল্লি
ফিরে
যাবে।
সে
সময়ে
বঙ্গবন্ধুর
অর্থাৎ
রাষ্ট্রপতির
যুগ্ম
সচিব
মনোয়ারুল
ইসলাম
তাঁর
প্রকাশিত
‘বঙ্গবন্ধু শেখ
মুজিবুর
রহমান’
গ্রন্থে
উল্লেখ
করেছেন—বঙ্গবন্ধু
তাঁকে
বলছিলেন,
‘মনোয়ার, জানো
তো
বাংলাদেশ
গঙ্গা
থেকে
৪৪
হাজার
কিউসেক
পানি
পাবে?
কেমন
করে
ভারতীয়
পক্ষকে
রাজি
করানো
হলো,
তা
কেউ
জানে
না।’
মনোয়ার
সাহেব
জিজ্ঞাসা
করলেন,
‘কী করে
হলো?’
বঙ্গবন্ধু
বললেন,
‘গত রাতে
ভেবে
দেখলাম,
তোমাদের
ওসব
টেকনিক্যাল
যুক্তি
দিয়ে
হবে
না।
তাই
আমি
সমস্যাটা
যেভাবে
দেখি,
সে
কথাটা
বলার
জন্য
ম্যাডাম
গান্ধীকে
ফোন
করেছিলাম।
বললাম,
আপনি
জানেন,
এই
গঙ্গার
পানির
ওপর
আমার
দেশের
লাখ
লাখ
মানুষের
জীবন
নির্ভর
করে।
বিশেষ
করে,
জেলেদের
প্রায়
সবাই
সংখ্যালঘু
হওয়ায়
পাকিস্তান
আর্মি
এদের
বাড়িঘর,
নৌকা,
জাল
সব
পুড়িয়ে
দিয়ে
গেছে।
আমরা
সবে
এসব
দেশে
ফেরা
রিফিউজিদের
পুনর্বাসন
শুরু
করেছি।
এ
সময়
যদি
আপনারা
আমার
গঙ্গা-মেঘনা
শুকিয়ে
ফেলেন,
তাহলে
এদের
আর
পুনর্বাসন
হবে
কী
করে?
এমনিতেই
এদের
কিছু
নেই।
এরা
তাহলে
আবার
রিফিউজি
হয়ে
ভারতে
চলে
যাবে।
মিসেস
গান্ধী
কিছুক্ষণ
ভেবে
নিয়ে
বললেন,
আপনাদের
যা
মিনিমাম
দরকার
তা-ই
পাবেন।
কত
দিন
লাগবে
এই
পুনর্বাসন?
আমি
বললাম,
আমাদের
রিসোর্স
খুব
কম।
চার-পাঁচ
বছর
তো
লাগবেই।
তিনি
বললেন,
বেশ,
আমি
জগজীবন
বাবুকে
(ভারতের জলসম্পদ
মন্ত্রী)
বলে
দিচ্ছি।’
বঙ্গবন্ধুর
রাজনৈতিক
দর্শনে
ও
চিন্তাধারায়
বিরাজ
করেছে
একটি
অসাম্প্রদায়িক
জাতিসত্তার
স্বাধীন
বাংলাদেশ,
সেখানে
ধর্মপ্রাণ
মানুষ
থাকবে,
কিন্তু
ধর্মান্ধতা
কোনো
আশ্রয়
পাবে
না।
বঙ্গবন্ধু
এখানে
ধর্মনিরপেক্ষতা
অর্থে
বোঝাতে
চেয়েছিলেন,
তিনি
তাঁর
রাজনৈতিক
জীবনে
দেখেছেন
ধর্মের
নামে
মানুষ
কী
পরিমাণে
দ্বিধাবিভক্ত
ও
বৈষম্য
সৃষ্টি
করে।
সেক্যুলারিজম
নিয়ে
সারা
দুনিয়ায়
প্রচলিত
যে
ধ্যান-ধারণা,
এমনকি
মুক্তিযুদ্ধের
সময়
সরকারের
মধ্যে
যে
চিন্তা
ছিল,
পরবর্তীতে
বঙ্গবন্ধু
সেটার
একটা
বিবর্তন
করেন।
সে
সময়
স্বাধীন
বাংলা
বেতার
কেন্দ্রের
অনুষ্ঠান
শুরু
হতো
পবিত্র
কোরআন
তিলাওয়াতের
মাধ্যমে।
কিন্তু
১৬
ডিসেম্বর
দেশ
স্বাধীন
হওয়ার
পর
বাংলাদেশ
বেতারে
কোরআন
তিলাওয়াত
বন্ধ
করে
দেয়া
হয়।
বঙ্গবন্ধু
এটা
সমর্থন
করেননি।
বঙ্গবন্ধু
বলেছেন,
‘কোরআন তিলাওয়াত
হবে।
পরে
গীতা,
ত্রিপিটক,
বাইবেল
থেকে
পাঠ
হবে।
আমার
ধর্মনিরপেক্ষতায়
ধর্মহীনতা
নেই।’
বঙ্গবন্ধু
ছিলেন
গভীরভাবে
ধর্মপ্রাণ
মানুষ।
৭
মার্চের
ভাষণে
বলছেন,
‘রক্ত যখন
দিয়েছি,
রক্ত
আরো
দেব;
এ
দেশের
মানুষকে
মুক্ত
করে
ছাড়ব,
ইনশাল্লাহ।’
বঙ্গবন্ধুর
ধর্মনিরপেক্ষতা
ছিল
মূলত
সব
ধর্মের
সমান
স্বাধীনতা
ও
অধিকার।
একই
সঙ্গে
আবার
কেউ
ধর্ম
নিয়ে
বাড়াবাড়ি
করলে
কঠোরভাবে
দমন
করেছেন।
১৯৭২
সালে
রাতে
ঢাকার
বিভিন্ন
শিল্প
এলাকা
এবং
বস্তিতে
ওয়াজ
হতো।
মৌলবাদী
জামায়াতপন্থীদের
উসকানিমূলক
ওয়াজের
বিষয়ে
তাঁকে
অবগত
করার
পর
তিনি
কার্যকর
পদক্ষেপ
গ্রহণ
করেন।
বঙ্গবন্ধুর
সাফ
কথা—‘প্রকাশ্যে
মিটিংয়ে
ওয়াজ
করো।
কিন্তু
রাত
১২টার
পরে
ধর্মের
অপব্যাখ্যা
দিয়ে
রাষ্ট্রবিরোধী
কথাবার্তা—এসব
চলবে
না।’
বঙ্গবন্ধু
শুরু
থেকেই
সমাজতন্ত্রের
কথা
উল্লেখ
করে
আসছিলেন।
তিনি
বরাবরই
বলে
এসেছেন,
বুর্জোয়া
গণতন্ত্র
পুঁজিবাদ
দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত,
সেই
গণতন্ত্রে
মানুষের
অর্থনৈতিক
মুক্তি
সম্ভব
নয়।
এখানে
একটি
কথা
উল্লেখ
করতে
চাই,
গণচীনে
যাকে
জাতির
পিতা
বলা
হয়,
সেই
মাও
জে
দং
তার
মাওবাদী
মতবাদ
সর্বস্তরে
প্রয়োগ
করতে
গিয়ে
দেখলেন
যে
চারদিকে
গণজাগরণের
চেয়ে
বিশৃঙ্খলা
বেশি
হচ্ছে।
সে
সময়
চীনের
আরেক
নেতা
দেং
শিয়াওপিং,
তাঁকে
বলা
হয়
‘আধুনিক চীনের
স্থপতি’।
তিনি
মাও
জে
দংয়ের
মৃত্যুর
পর
একটি
গণঅভ্যুথানের
মাধ্যমে
হুয়া
গুফেংকে
ক্ষমতাচ্যুত
করে
চীনের
কমিউনিস্ট
পার্টির
সর্বোচ্চ
নেতা
হিসেবে
আসীন
হন।
তিনি
মার্ক্সিজম-লেনিনিজম
মতবাদে
বিশ্বাসী
ছিলেন।
তিনি
ঘোষণা
করলেন,
চীনে
অবশ্যই
সমাজতন্ত্র
থাকবে,
কিন্তু
অর্থনৈতিক
মুক্তি
পেতে
গেলে
বিকেন্দ্রীকরণ
হতে
হবে।
অর্থাৎ
পুঁজিবাদ
থাকবে
শুধু
ব্যবসা-বাণিজ্যে,
রাষ্ট্রীয়
পর্যায়ে
সমাজতন্ত্র
বিরাজ
করবে।
তিনি
চীনে
এক
ধরনের
শিল্প
বিপ্লব
সৃষ্টি
করলেন
এবং
আজ
যে
গণচীন
পৃথিবীর
দ্বিতীয়
বৃহত্তম
অর্থনৈতিক
পরাশক্তি,
সেটা
তাঁর
অবদান।
গণচীন
আজ
তাই
পশ্চিমা
বিশ্বের
কাছে
এক
বিস্ময়!
প্রসঙ্গটি
উপস্থাপনের
উদ্দেশ্য
হলো,
বঙ্গবন্ধু
সেটাই
করতে
চেয়েছিলেন
তাঁর
নিজস্ব
সমাজতান্ত্রিক
দর্শন
দিয়ে,
কিন্তু
তাঁকে
সেটা
করতে
দেয়া
হয়নি।
আমাদের
সমাজ
বিপ্লব
ও
সাধারণ
মানুষের
মুক্তির
অংশ
হিসেবে
সমাজতন্ত্র
যে
অপরিহার্য,
সে
বিষয়টির
ওপর
বিশেষভাবে
জোর
দিয়েছিলেন।
এ
লক্ষ্যে
১৯৭২
সালে
স্বাধীনতা
দিবসে
বেতার
ও
টিভি
ভাষণে
তিনি
বলেন,
‘আমার সরকার
অভ্যন্তরীণ
সমাজ
বিপ্লবে
বিশ্বাস
করে।
এটা
কোনো
অগণতান্ত্রিক
কথামাত্র
নয়।
আমার
সরকার
সমাজতান্ত্রিক
অর্থনীতি
প্রতিষ্ঠা
করতে
প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
একটি
নতুন
ব্যবস্থার
ভিত
পত্তনে
পুরাতন
সমাজ
ব্যবস্থা
উপড়ে
ফেলতে
হবে।
আমরা
শোষণমুক্ত
সমাজ
গড়ব।’
বাকশাল
নিয়ে
আমরা
যে
সমালোচনাগুলো
লক্ষ
করি,
সেগুলো
বস্তুত
আবেগপ্রবণ
হয়ে,
সেখানে
খুব
একটা
বিশ্লেষণভিত্তিক
পর্যালোচনা
অনুপস্থিত।
যে
সমাজতন্ত্রের
দর্শন
নিয়ে
বঙ্গবন্ধু
জাতিকে
এগিয়ে
নিয়ে
যেতে
চেয়েছিলেন,
তারই
একটা
প্রতিফলন
ছিল
বাকশাল।
আমরা
আজকে
যে
পশ্চিমা
বিশ্ব
নিয়ে
উন্মত্ত,
আমরা
কি
কখনো
ভেবে
দেখেছি
যে
এই
পশ্চিমা
বিশ্বে
একসময়
সমাজতন্ত্রের
আদলে
শাসনতন্ত্র
চলেছিল?
ব্রিটিশ-পরবর্তী
শাসনামল
অর্থাৎ
দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের
পর
ধীরে
ধীরে
পুঁজিবাদের
অন্তরালে
নিষ্ঠুর
সাম্রাজ্যবাদ
গড়ে
উঠতে
থাকে।
এটি
একটি
অতিসাধারণ
ব্যাপার,
একটা
যুদ্ধবিধ্বস্ত
দেশে
যেখানে
মানুষের
মৌলিক
অধিকারগুলো
নিশ্চিত
করা
যাচ্ছে
না,
সেখানে
কীভাবে
পুঁজিবাদ
প্রতিষ্ঠা
পেতে
পারে?
পুঁজিবাদ
কখনো
মানুষের
মৌলিক
অধিকার
তো
দূরে
থাক,
মৌলিক
চিন্তাধারারও
অন্তরায়
বৈকি!
আজকে
পুঁজিবাদের
সর্বশ্রেষ্ঠ
উদাহরণ
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র,
সেখানেও
আমরা
দেখছি
যে
মানুষের
জাতিভুক্ত
অধিকার
নিয়ে
কী
রকম
চরম
বিশৃঙ্খলা!
বঙ্গবন্ধু
সবসময়
বিশ্বাস
করতেন
যে
আমাদের
গণতন্ত্র
হতে
হবে
আমাদের
মতো,
পশ্চিমা
বুর্জোয়া
গণতন্ত্র
আমাদের
কাজে
লাগবে
না,
এটা
তিনি
অনেকবার
বিভিন্ন
পরিসরে
বলেছেন
‘দ্বিতীয় বিপ্লব’-এর
ইঙ্গিত
দিয়ে।
সমাজতন্ত্রে
বিশ্বাস
করলেও
তিনি
কখনো
সোভিয়েত
ইউনিয়ন
অথবা
চীনা
সমাজতন্ত্র
প্রয়োগ
করতে
চাননি।
তিনি
চেয়েছেন
আমাদের
অসাম্প্রদায়িকতায়,
ধর্মনিরপেক্ষতায়,
অর্থনৈতিক
মূল্যবোধে
শানিত
একটি
বলিষ্ঠ
সামজতন্ত্র
এবং
সেটা
আমাদের
মুক্তিযুদ্ধের
চারটি
মূলনীতিকেই
ধারণ
করে।
বঙ্গবন্ধু
প্রায়ই
বলতেন,
‘বাকশাল একটা
টেম্পোরারি
ফেইজ।
গণতন্ত্র
ফিরে
আসবে।’
আমার
দৃঢ়
বিশ্বাস
যে
তিনি
‘গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্র’
প্রতিষ্ঠা
করতে
চেয়েছেন,
যা
আজকে
আমরা
স্ক্যান্ডিনেভিয়ান
দেশগুলোয়
দেখতে
পাই।
বঙ্গবন্ধুর
সমাজতন্ত্রে
শোষণের
হাতিয়ার
বন্ধ
করে
দেয়ার
অভিপ্রায়
ছিল।
কিন্তু
ব্যক্তিমালিকানায়
কোনো
নিষেধাজ্ঞা
দেয়ার
প্রশ্ন
ওঠেনি।
এটাই
বঙ্গবন্ধুর
সমাজতন্ত্রের
ধ্যান-ধারণা।
সমাজতন্ত্রের
যে
দর্শন
বঙ্গবন্ধু
দিয়েছিলেন,
তা
পরিষ্কারভাবে
বাংলাদেশের
শাসনতন্ত্রের
১৩
অনুচ্ছেদে
বলা
আছে—সম্পদের
মালিকানা
হবে
তিন
রকম:
রাষ্ট্রীয়,
ব্যক্তিগত
এবং
সমবায়ী।
তাঁর
সমাজতন্ত্রে
ছিল
সবার
সমান
সুযোগ।
কিন্তু
তাঁর
তিন
বছর
সাত
মাসের
শাসনকালের
শেষ
দিকে
দেখা
গেল,
যে
আদর্শ
নিয়ে
সমাজতন্ত্র
চাচ্ছিলেন,
সেটা
হচ্ছে
না।
বৈষম্য
বাড়ছে।
আইন-শৃঙ্খলার
অবনতি
ঘটানো
হচ্ছে।
বিত্তবানরা
আরো
ধনী
হচ্ছে।
বঙ্গবন্ধু
বলেছিলেন,
‘তিন বছর
সময়
দাও।
এই
তিন
বছর
কাউকে
কিছু
দিতে
পারব
না।’
কিন্তু
রাষ্ট্রযন্ত্রে
যাঁরা
যেখানে
বসেছিলেন,
তাঁদের
অনেকেই
এসব
ভুলে
নিজেদের
আখের
গোছাতে
ব্যস্ত
হয়ে
পড়েছেন
দেখা
গেল।
তখন
তিনি
বলতে
শুরু
করলেন,
‘আমি নানা
সূত্র
থেকে
চেয়ে
চেয়ে
আনি,
আর
চাটার
দল
সেটা
খেয়ে
ফেলে।’
১৯৭৩
সালের
দিকে
দেশে
বাম
রাজনীতির
একটি
তাত্ক্ষণিক
স্ফুলিঙ্গ
দেখা
দেয়
এবং
তারা
মুখে
বৈজ্ঞানিক
সমাজতন্ত্রের
কথা
বললেও
বিভিন্ন
রকমের
সামাজিক
অপকর্ম
এবং
অভ্যুথানের
নামে
নানান
রকম
অরাজকতা
সংঘটিত
করছিল।
১৯৭২-৭৪
সালে
সারা
পৃথিবীতে
অর্থনৈতিক
মহামন্দা।
বন্যার
কারণে
বাংলাদেশে
শস্য
উৎপাদনে
বিপর্যয়
হয়েছে।
এভাবে
প্রাকৃতিক
বিপর্যয়
ও
অব্যবস্থাপনার
কারণে
১৯৭৪
সালের
অক্টোবরে
দুর্ভিক্ষ
শুরু
হলো।
এর
প্রেক্ষাপট
আরেকটু
বলা
দরকার।
যুক্তরাষ্ট্র
পিএল
৪৮০
(পাবলিক ’ল
৪৮০—ফুড
ফর
পিস)-এর
অধীনে
বাংলাদেশসহ
অন্যান্য
দেশকে
খাদ্য
সাহায্য
মঞ্জুর
করে।
মঞ্জুরির
খাদ্য
বিক্রি
করে
সরকার
যে
অর্থ
পায়,
তার
নাম
পিএল
৪৮০
কাউন্টারপার্ট
ফান্ড।
বাংলাদেশে
এ
ফান্ড
দিয়ে
পোলট্রি
বিপ্লব
এসেছে।
অর্থায়িত
হয়েছে
পল্লীবিদ্যুৎ।
কিন্তু
এ
চুক্তির
মধ্যে
লেখা
আছে—যদি
কোনো
দেশ
সমাজতান্ত্রিক
কোনো
দেশের
সঙ্গে
অর্থনৈতিক
বা
বাণিজ্যিক
লেনদেন
করে,
তাহলে
এই
সাহায্য
বন্ধ
হয়ে
যাবে।
সমাজতান্ত্রিক
কিউবার
ফিদেল
কাস্ত্রো
বঙ্গবন্ধুর
কাছে
চাইলেন
পাট।
বঙ্গবন্ধুও
রাজি
হয়ে
গেলেন।
পররাষ্ট্র,
পাট
বা
অন্যান্য
মন্ত্রণালয়ের
তাকে
বলা
উচিত
ছিল,
যুক্তরাষ্ট্রের
সঙ্গে
চুক্তি
আছে।
কিউবাকে
পাট
দিলে
খাদ্য
বন্ধ
হয়ে
যাবে।
কেউ
তাকে
শর্তটা
মনে
করিয়ে
দেয়নি।
খাদ্যশস্য
নিয়ে
যুক্তরাষ্ট্রের
দুটি
জাহাজ
আসছিল,
সেগুলো
তারা
ফিরিয়ে
নিয়ে
গেল।
সব
মিলিয়ে
১৯৭৪
সালের
দুর্ভিক্ষটা
হলো।
অমর্ত্য
সেন
বলেছেন,
‘খাদ্যের তেমন
কোনো
অভাব
ছিল
না,
ব্যবস্থাপনার
ঘাটতি
ছিল।’
ঠিক এই অবস্থায় বঙ্গবন্ধু ১৯৭৪ সালে বেসামরিক শক্তির সহায়তায় সশস্ত্র বাহিনীকে মাঠে নামতে নির্দেশ দিলেন। তারা নামার ফলে কেঁচো খুঁড়তে সাপ বেরিয়ে এল। দেখা গেল আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী যাদেরকে পাকড়াও করছে, বেশির ভাগই আওয়ামী লীগের কর্মী। আবার সেনাবাহিনীরও সবাই ধোয়া তুলসীপাতা না। রক্ষীবাহিনী নিয়ে তাদের একটা চিরাচরিত ক্ষোভ ছিল। পাকিস্তানফেরত এবং মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে একটা বিরোধ তো ছিলই। এ নিয়ে তাদের সঙ্গে মাঠ পর্যায়ে অনেক গণ্ডগোলও হয়। শেষে তিনি সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে নিলেন। প্রশাসনেও নানা দুর্বলতা ও দলাদলি দেখা দেয়। রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দুর্নীতি—সব মিলিয়ে বঙ্গবন্ধু মনে করলেন, চিরাচরিত পথে চলছে না। একমাত্র পথ হলো একটা ইউনিক প্লাটফর্ম। বাকশাল করলে সবাইকে এক ছাতার নিচে আনা যাবে। গণতন্ত্রের কষ্টিপাথরে যাচাই করলে বঙ্গবন্ধুর এই পদ্ধতি মনে হতে পারে একদলীয় ব্যবস্থা। বঙ্গবন্ধু মনে করতেন, বাকশাল হচ্ছে অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি জাতীয়তাবাদী প্লাটফর্ম। বহুমতের অবকাশ এতে আছে। তার চেয়ে বড় কথা, তিনি মনে করতেন এটা ছাড়া আপাতত কোনো উপায় নেই। তবে সবসময়ই তিনি বলেছেন, এটা সাময়িক ব্যবস্থা।
রেজওয়ান উর
রহমান:
গবেষক
rezmsba@gmail.com










