ড. এম. এ. সাত্তার মণ্ডল একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ। তিনি বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২১তম উপাচার্য ও বিশ্ববিদ্যালয়টির প্রথম ইমেরিটাস অধ্যাপক। গবেষণায় অবদান রাখার জন্য ২০২২ সালে তিনি একুশে পদক লাভ করেন। অধ্যাপক সাত্তার মণ্ডল বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতি গ্র্যাজুয়েট। তিনি বাংলাদেশ সরকারের পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য হিসেবে দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্ণাঢ্য কর্মজীবনের অধিকারী তিনি কৃষি অর্থনীতি ও গ্রামীণ সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান, সিন্ডিকেট সদস্য ছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন কমিটির গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। আসন্ন বাজেট উপলক্ষে দেশের কৃষির বর্তমান অবস্থান ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেন।
সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা
পাঁচ দশকে
দেশের কৃষিতে মৌলিক কী
পরিবর্তন হয়েছে
বলে মনে
করেন?
১৯৭৩
সালের জানুয়ারি
থেকে আমি
বাংলাদেশ কৃষি
বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা
শুরু করি।
বাংলাদেশের বয়স
তখন কেবল
এক বছর
পার হয়েছে।
এর মাত্র
কয়েক দিন
পরেই জাতির
পিতা বঙ্গবন্ধু
শেখ মুজিবুর
রহমান বাংলাদেশ
কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে
এসেছিলেন। বিশাল
এক সমাবেশে
তিনি আমাদের
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী,
কর্মকর্তা-কর্মচারীদের
প্রতি উদাত্ত
আহ্বান জানিয়েছিলেন,
দেশকে বাঁচাতে
হলে প্রথমে
খাদ্য সমস্যার
সমাধান করতে
হবে। কৃষি
উৎপাদন বাড়াতে
হবে। আমরা
বঙ্গবন্ধুর আহ্বানে
সাড়া দিয়েছি।
সেদিন তিনি
ঘোষণা দিলেন
যে অন্যান্য
কারিগরি গ্র্যাজুয়েটদের
মতো কৃষি
গ্র্যাজুয়েটরাও চাকরি
ক্ষেত্রে প্রথম
শ্রেণীর পদমর্যাদার
গ্যাজেটেড স্ট্যাটাস
পাবেন। এটা
একটা ঐতিহাসিক
ঘটনা। আমরা
এতে খুব
উদ্দীপিত হয়েছিলাম।
বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন,
তোমরা আমার
কথা রেখো।
এ দেশকে
বাঁচানোর জন্য,
খাদ্য উৎপাদন
বাড়ানোর জন্য
জ্ঞান-বিজ্ঞানের
চর্চা, গবেষণা
ও প্রযুক্তি
উদ্ভাবন তোমরা
করবে। বঙ্গবন্ধুর
নির্দেশনায় কৃষি
স্নাতকরা অত্যন্ত
নিষ্ঠার সঙ্গে
কাজটি করেছেন।
স্বাধীনতার পর
বঙ্গবন্ধু খাদ্যাভাব,
বন্যা-খরা
ও দুর্যোগপীড়িত
একটা পশ্চাত্পদ
দেশ বঙ্গবন্ধু
পেয়েছিলেন। এর
ওপর যুদ্ধবিধ্বস্ত
একটা অর্থনীতি।
৩০-৪০
লাখ টন
খাদ্য ঘাটতি
ছিল। অভাব-অনটনে
মানুষ অত্যন্ত
দুর্ভোগের মধ্যে
ছিল। আজকের
বাংলাদেশে খাদ্যাভাব
নেই। খাদ্যাভাব
নিম্ন আয়ের
কারো কারো
থাকতে পারে।
সেটি খুবই
নগণ্য। সব
সমাজেই সেটি
থাকে। খাদ্যাভাব
বাংলাদেশের কোনো
সমস্যা নয়
এখন। তার
সঙ্গে পুষ্টিনিরাপত্তাও
অনেকটা বেড়েছে।
কেবল ভাতের
অভাব মিটেছে
তা-ই
নয়, মাছ-মাংস,
দুধ-ডিম,
উন্নত মানের
শাকসবজিও আজ
বাংলাদেশ নিজেই
উৎপাদন করছে
এবং বাজারে
জোগান দিচ্ছে।
সবটাতেই আমরা
স্বয়ংসম্পূর্ণ হয়ে
গেছি, এ
দাবি কেউ
করে না।
আমরাও করছি
না। কোনো
দেশই এটা
করতে পারে
না। কিন্তু
বাংলাদেশের মানুষের
আয় সক্ষমতা
বেড়েছে, সচ্ছলতা
এসেছে। ঘরে
খাবার আছে—এ
নিশ্চয়তা মানুষকে
অনেক বলীয়ান
করেছে এবং
আত্মবিশ্বাসের জন্ম
দিয়েছে। আমাদের
গবেষকরা যথেষ্ট
পরিমাণ প্রযুক্তি
উদ্ভাবন করেছেন।
এটা আমাদের
একটা আশাবাদের
জন্ম দিয়েছে।
কৃষি জ্ঞান-বিজ্ঞানের
জগতে বাংলাদেশ
ঐতিহাসিকভাবে অনেক
উল্লেখযোগ্য নিদর্শন
তৈরি করেছে।
স্বাধীনতার পরে
‘তলাবিহীন
ঝুড়ি’ নামে
আখ্যায়িত একটি
দেশ গড়ে
প্রায় ৬
শতাংশ প্রবৃদ্ধি
অর্জন করে
অনুন্নত থেকে
একটি উন্নয়নশীল
দেশের মর্যাদা
লাভ করেছে
এবং উন্নত
দেশ হওয়ার
স্বপ্ন দেখছে।
আমি মনে
করি, এটা
একটা বিস্ময়কর
অর্জন।
পাঁচ দশকে
কৃষির কোন
পরিবর্তনকে গেম
চেঞ্জার বলে
মনে করেন?
প্রধান
গেম চেঞ্জার
হচ্ছে কৃষি
প্রযুক্তি। আমরা
আমাদের প্রধান
খাদ্যশস্য ধান
নিয়ে পরিবর্তনটা
শুরু করেছিলাম
উচ্চফলনশীল ধান
আবাদের মাধ্যমে।
প্রথমে বাইরে
থেকে এল,
পরে গবেষকরা
নিজেরাই আমাদের
দেশীয় জলবায়ু,
মাটি, পানি,
তাপমাত্রা প্রভৃতির
সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণভাবে
আরো অনেক
চৌকস জাতের
ধান উৎপাদন
করলেন একের
পর এক।
নলকূপের সেচ
এল, ধানের
ফলন বেড়ে
গেল বহুগুণ।
কাজেই সেটিই
ছিল প্রথম
গেম চেঞ্জার।
এটা খাদ্যের
জন্য আমাদের
পরনির্ভরতা কমিয়ে
আনে। পরবর্তী
গেম চেঞ্জার
রাষ্ট্রীয় নীতি
পরিবর্তন ও
কৃষিতে প্রণোদনা।
রাষ্ট্রীয় সুবিধা
নিয়ে বেসরকারি
খাত যেভাবে
এগিয়ে এল
প্রযুক্তিটাকে মাঠে-ঘাটে
পৌঁছে দেয়ার
জন্য বাণিজ্যিকায়নের
পথ ধরে,
সেটিও আমাদের
কৃষি উন্নয়নের
গতি বাড়িয়ে
দিয়েছে এবং
পথটাকে আরো
সুগম করেছে।
আমরা ৫০
বছর পার
করলাম। আগামী
৫০ বছরে
কৃষির মূল
চ্যালেঞ্জগুলো কী
হবে মনে
করেন?
আমরা
এরই মধ্যে
বাণিজ্যিক কৃষি
গড়ে তোলার
জন্য যে
নীতিগতভাবে একমত
হয়েছি, এটিকে
এগিয়ে নিতে
হবে। এর
সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি
খাত ও
এনজিওগুলোর যুক্ত
হওয়ার ধারাটি
অব্যাহত রাখতে
হবে। আগামী
৫০ বছর
অনেক লম্বা
সময়। পৃথিবী
পরিবর্তন হচ্ছে।
অনেক দ্রুত
পরিবর্তন হচ্ছে।
কাজেই লম্বা
সময়ের জন্য
মন্তব্য করা
কঠিন। কিন্তু
আমি বলছি,
আগামী ১০
বা ২০
বছর ধরুন।
পৃথিবী যেভাবে
এগোচ্ছে, তাতে
খাদ্যেরও ধরন
পরিবর্তন হয়ে
যাবে। আমাদের
ভাত ও
আটাজাতীয় খাবারের
প্রয়োজন কমে
আসবে। অন্যভাবে
আমাদের ফুড
চেইন তৈরি
হবে। অনেক
বেশি প্রোটিনসমৃদ্ধ
খাবার পাব।
এজন্য শস্যের
পাশাপাশি মত্স্য
ও প্রাণিজ
খাদ্য উৎপাদন
বাড়াতে হবে।
আমরা ভূমিনির্ভর
উৎপাদন ব্যবস্থা
থেকে সাগরকেন্দ্রিক
পানিনির্ভর খাদ্য
উৎপাদনে যাব।
ভূমি, পানি,
বায়ু সবকিছু
মিলিয়ে একটা
নতুন খাদ্য
ব্যবস্থা তৈরি
হবে। তার
জন্য ব্যবস্থাপনাগত
দিক থেকে
আমাদের খামারের
আয়তন বাড়াতে
হবে। বলছি
না, সবার
জমি এক
জায়গায় করে
করতে হবে।
এটা চলবে
না এ
দেশে, কোনো
দিন কখনো
চলেওনি।
আমি বলছি,
কৃষি ব্যবসায়
লোক আসবে।
সেটা চুক্তিভিত্তিক
কৃষিতে হোক
কিংবা অন্য
কোনো ব্যবস্থা,
যেমন জমি
লিজ বা
বর্গা ব্যবস্থার
মধ্যে হোক।
এখানে জমির
মালিক ও
জমি ব্যবহারকারী
উভয়েরই লাভ
হবে। এটাকেই
বলে লাভ-লাভ
উৎপাদন ব্যবস্থা।
একজনের লাভ,
আরেকজনের ক্ষতি—এ
রকম নয়।
কম-বেশি
যেন সবারই
লাভ হয়।
কৃষকের লাভ
হবে, ব্যবসায়ীর
লাভ হবে,
প্রযুক্তিবিদরা উৎসাহিত
হবেন, সরকারও
নীতি সমর্থন
দিতে আরো
বেশি উৎসাহিত
হবে। এ
অবস্থার ভেতর
দিয়ে খামারের
মালিকানা দিয়ে
নয়, বরং
ব্যবহারের দিক
থেকে খামারের
আয়তন বাড়াতে
হবে। সেটি
করা গেলে
আধুনিক উন্নত
প্রযুক্তি, যেমন
গ্রিনহাউজ করে
নিয়ন্ত্রিত অবস্থায়
উৎপাদন কয়েক
গুণ বাড়ানো
সম্ভব হবে।
এটা লাভজনক
করা যাবে।
এর সঙ্গে
আমাদের যুক্ত
করতে হবে
সাপ্লাই চেইন
বা জোগানের
বিষয়টি। উৎপাদিত
পণ্য তো
বাজারে আসতে
হবে। সেটি
শস্যের বেলায়
যেমন সত্য,
তেমনি মাছ,
দুধ, শাকসবজির
বেলায়ও সত্য।
কাজেই নিয়ন্ত্রিত
চৌকস কৃষি
যেটিকে বলা
হচ্ছে সেদিকে
যেতে হবে।
যেখানে ডিজিটাল
প্রযুক্তি ব্যবহার
করে সুনির্দিষ্ট
মাটিতে ন্যূনতম
প্রয়োজনীয় সার
দেয়া হবে।
যন্ত্রের সাহায্যে
মাছের ও
গবাদিপশুকে বিজ্ঞানসম্মতভাবে
প্রয়োজনীয় খাবারটুকুই
দিতে হবে।
বেশিও নয়,
কমও নয়।
আমি সেই
কৃষির কথা
চিন্তা করছি।
জিডিপিতে কৃষির
অবদান কম
হলেও এখনো
কৃষিতে বিপুল
মানুষ সম্পর্কিত। বিষয়টিকে আপনি
কীভাবে দেখেন?
বাংলাদেশের
জন্য এটা
একটা ব্যতিক্রমী
পরির্বতন। যেহেতু
এটা জনবহুল
একটা দেশ,
সেহেতু আমাদের
এ ধরনের
একটা বোঝা
বয়ে যেতেই
হবে। দেশটি
ডিঙি নৌকার
মতো ছোট
আকারের। এর
ভার বহন
ও যাত্রী
বহনের সক্ষমতা
অনেক বাড়াতে
হবে। আমরা
বৃদ্ধি করেছিও।
এ দেশের
মানুষ করে
দেখিয়েছে কী
করে অল্প
জমি থেকে
দ্রুত উৎপাদন
বাড়ানো যায়।
তবে এর
গতিটা বাড়াতে
হবে। আমাদের
অন্য দেশের
সঙ্গে তুলনা
করার কোনো
দরকার নেই।
আমাদের মতো
করে ভাবতে
হবে। আমরা
আরো দ্রুত
এগোতে পারতাম।
অনেক ক্ষেত্রে
সেটা সম্ভব
হয় না।
তবে কৃষিতে
মানুষ বেশি
থাকায় কিছু
সুবিধাও পাওয়া
যায়। যেমন
ধরুন, কৃষি
সম্প্রসারণের বার্তা
বা প্রযুক্তির
বার্তা অনেক
সুলভে করা
যায়। তার
কারণ জনঘনত্বের
ফলে একের
থেকে অন্যের
কাছে খবরটা
দ্রুত পৌঁঁছে।
কাজেই জনবহুল
হওয়ায় যেকোনো
বার্তা পৌঁছে
দেয়া অনেক
সহজ। দ্বিতীয়ত,
গ্রামীণ বাজার
ব্যবস্থায় আমরা
একে অন্যকে
এত বেশি
চিনি যে
চট করে
আপনি যেকোনো
কিছু করে
যাবেন, দাম
কম দেবেন,
আপনি একা
লাভ করবেন,
আমাকে লাভ
করতে দেবেন
না, তা
হবে না।
কারণ সামাজিক
দায়বদ্ধতা ও
একে অন্যের
সম্পর্কের একটা
শক্তি আছে।
এ শক্তিও
এ দেশে
খুব কাজ
করে। আমাদের
আত্মশক্তিও প্রবল।
সবটা সঠিকভাবে
সবসময় চলে—আমি
এ কথা
বলছি না,
কিন্তু এটা
চলে যাবে।
কারণ প্রযুক্তির
ব্যবহার এসেছে।
এখন মোবাইল
সেবা এসেছে।
কোনো কিছু
গোপন রাখা
যাচ্ছে না।
কিছুটা সময়
রাখা যায়
কিন্তু সবসময়
রাখা যাচ্ছে
না।
তৃতীয়ত, ক্ষুদ্র
কৃষকদের প্রতি
অযৌক্তিক আবেগ
সৃষ্টি করে
যেন না
বলা হয়,
তাদের কী
হবে। আগামী
দিনে চ্যালেঞ্জিং
যে কৃষি
আসছে, সেখানে
প্রতিযোগিতামূলক বাজার
ব্যবস্থা প্রধান
নিয়ামক হিসেবে
আসবে। দান-খয়রাতের
কৃষি রাখা
চলবে না।
তাতে যারা
জ্ঞান-বিজ্ঞানে,
প্রযুক্তি ব্যবহারে
পিছিয়ে থাকবে
কিংবা যার
খামারের আয়তন
ছোট, তার
পক্ষে টিকে
থাকা সম্ভব
নয়। তাকে
টিকে থাকতে
হবে প্রতিযোগিতা
করে। অনেক
ক্ষেত্রে নিজে
এসে বলবেন,
ঠিক আছে,
আমার সামান্য
জমি আছে,
আমি তা
ইজারা দিয়ে
অকৃষি খাতে
যাই। গ্রামীণ
অর্থনীতিতে অনেক
কর্মক্ষেত্র সৃষ্টি
হচ্ছে। এটি
তার জন্য
অধিক লাভজনক।
এরই মধ্যে
অনেকে এটা
করছেন। কৃষিকাজের
সঙ্গে বাজারে
একটা ছোট
দোকান আছে
কিংবা ফাঁকে
ফাঁকে ভ্যান
চালান। তাতে
কৃষির কোনো
ক্ষতি হচ্ছে
না। কৃষি
অনেক ভালো
হচ্ছে। এখানে
বড় ম্যাজিক
হচ্ছে কৃষিতে
যন্ত্রের ব্যবহার
বেড়ে যাচ্ছে।
এখন হালগরুর
পেছনে দিনভর
থাকতে হয়
না। যন্ত্র
তার কর্মক্ষমতা
বাড়িয়ে দিয়েছে।
তিনি পরের
জমি বর্গা
বা লিজ
নিয়ে খামারের
আয়তন আরেকটু
বাড়িয়ে ফেলতে
পারছেন, আরো
লাভজনক কৃষিতে
যাচ্ছেন। অনেকে
ফলের বাগানে
যাবেন, মাছের
খামার করবেন,
দুগ্ধখামার করবেন।
কেউ ভালো
করবেন, কেউ
করতে পারবেন
না। এটিই
কৃষি ব্যবসার
নিয়ম। দেশে
দেশে তাই
হয়। ছোট
কৃষকের কী
হবে? তারা
গ্রাম ছেড়ে
যাচ্ছেন না।
তারা গ্রামেই
থাকছেন। কৃষি
ও অকৃষি
খাত মিলে
জীবিকা অর্জন
করছেন। এটা
হলো প্রথম
কথা। দুই.
আমাদের শক্তির
জায়গা হলো
তরুণ জনগোষ্ঠী।
শিক্ষিত তরুণরা
এখন কৃষিতে
আসছেন। তাদের
মধ্যে যন্ত্রের
প্রতি প্রবল
আকর্ষণ সৃষ্টি
হয়েছে। তারা
এটা ব্যবহার
করছেন লাভজনকভাবে।
তারাই হলেন
উদ্যোক্তা। কেউ
ছোট, কেউ
বড়। সবাই
ব্যবসায় ভালো
করতে পারেন
না। এটা
যেকোনো ব্যবসার
ক্ষেত্রে সত্য।
কৃষি ব্যবসাও
তার ব্যতিক্রম
নয়। অনেকে
ভালো করতে
পারবেন না,
অনেকে পারবেন।
অনেকে একটা
ছেড়ে আরেকটায়
যাবেন। এটি
এভাবেই হয়।
এ তরুণ
জনগোষ্ঠী আগামী
দিনের কৃষিতে
থাকবেন বলে
আশা রাখি।
সব ধরনের
অনুকূল নীতি
তাদের পক্ষে
রাখার একটা
রাষ্ট্রীয় অঙ্গীকারও
আছে। সরকারের
পরিকল্পনার মধ্যেও
আছে।
শ্রমবাজার নিয়ে
একটা প্রশ্ন
আছে, সেটি
আমাদের ভালোভাবে
বুঝতে হবে।
কৃষি এখনো
দেশে কর্মসংস্থানের
বড় ক্ষেত্র।
কিন্তু যত
উন্নত হবে,
কর্মসংস্থানটা সেভাবে
নাও বাড়তে
পারে। এটা
নিয়ে আমাদের
চিন্তিত হওয়ার
কোনো কারণ
নেই। গ্রামীণ
অর্থনীতিতে কর্মসংস্থান
সৃষ্টি হলেই
আমরা খুশি।
সেটি কৃষিতে
হতে হবে
এমন কথা
নয়। অকৃষি
খাতেও হতে
পারে। গ্রামীণ
শিল্পায়নে হবে।
গ্রামীণ ব্যবসায়
হবে। গ্রামীণ
যোগাযোগ ব্যবস্থা
ও নির্মাণ
খাতে হবে।
কৃষিযন্ত্র কারখানা
ও যানবাহন
মেরামত খাতে
কর্মসংস্থান হবে।
ফসল উৎপাদন
বা মাছ
চাষে কর্মসংস্থান
সংখ্যাতাত্ত্বিকভাবে কমে
যেতেও পারে।
এতে ঘাবড়ানোর
কোনো কারণ
নেই। বৃহত্তর
গ্রামীণ অর্থনীতিতে
কর্মসংস্থান বাড়বে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় বর্গাচাষীর সংখ্যা বেড়েছে। বাণিজ্যিক কৃষির জন্য
এটি কতটা
সহায়ক?
এটা
খুবই ভালো
লক্ষণ। বর্গা
মানে কেবল
আধাআধি ফসলের
ভাগ দেয়া
নয়। এখন
কিন্তু নগদ
টাকায় বর্গা
দেয়া হয়।
এটাকে বলে
লিজ। যারা
ফলের বাগান
করেন, তারা
পাঁচ বছরের
জন্য লিজ
নিচ্ছেন। মাছ
চাষ যারা
করেন, তাদের
আরো দীর্ঘ
সময়ের জন্য
ইজারা নিতে
হয়। কারণ
তাকে পুকুর
খনন ও
পানির ব্যবস্থার
জন্য বিনিয়োগ
করতে হচ্ছে।
এতে আমি
ক্ষতির কিছু
দেখছি না।
সবাই বর্গা
নেবেও না।
যাদের কৃষিকাজ
জানা আছে
এবং পারিবারিক
শ্রমের সংস্থান
আছে তারাই
বর্গা নেবে।
বিশেষ করে
নারীরা অনেক
ইজারা নিয়ে
কৃষিকাজে আসছেন।
আজকাল স্কুল
বা স্থানীয়
পর্যায়ে কলেজপড়ুয়ারা
কীভাবে যেন
একটা সময়
বের করে
নিচ্ছেন কৃষিতে
যুক্ত হতে।
যাদের লক্ষ্য
ভবিষ্যতে উদ্যোক্তা
হওয়া। কাজেই
আমি জমি
লিজ বা
বর্গা চাষকে
একটা গতিময়
ব্যবস্থা হিসেবে
দেখছি।
কৃষিতে নারী
শ্রমিকের উপস্থিতি বেশি লক্ষ
করা যাচ্ছে। এটি কি
অর্থনীতির উন্নয়নের সুফল নাকি
অন্য কিছু?
নারী
শ্রমিক বললে
একটু ছোট
করে বলা
হয়। আমি
বলি, নারী
কর্মী। তারা
উৎপাদন ব্যবস্থার
সঙ্গে যুক্ত
হচ্ছেন। আমি
আশান্বিত যে
তারা স্থানীয়
বাজারের সঙ্গেও
সংযোগ রাখছেন।
তারা ফলমূল,
শাকসবজি উৎপাদন
করছেন। বাজারে
এসে বিক্রি
করছেন কিংবা
ফড়িয়া ব্যবসায়ীদের
সঙ্গে সংযোগ
স্থাপন করছেন।
এখানে প্রধান
চালক হচ্ছে
সেলফোন।
অভিযোগ করা
হয়, নারীরা কৃষক হিসেবে স্বীকৃতি, চাষী
কার্ড পান
না। ফলে
রাষ্ট্রীয় ভর্তুকি, প্রণোদনা থেকে
তারা বঞ্চিত হন। এটাকে
কীভাবে দেখেন?
আমি
মনে করি,
এটা খুব
ভালো করে
খতিয়ে দেখা
দরকার। এটা
খুব গুরুত্বপূর্ণ
বিষয়। নিশ্চয়ই
তাদের কার্ড
পাওয়া উচিত।
প্রায়ই একটা
অভিযোগ শোনা
যায়, কৃষক
উৎপাদিত পণ্যের যৌক্তিক দাম
পান না।
৫০ বছর
পরে এসে
এমন অভিযোগ সম্পর্কে আপনার
মন্তব্য কী?
কথাটা
আংশিক সত্য,
পুরোপুরি নয়
কিংবা বলা
যায়, এটা
একটা খণ্ডচিত্র।
কৃষক ন্যায্য
দাম পাচ্ছেন
না, এটা
কোনো কোনো
ফসলের বেলায়
যেমন সত্য
আবার একই
মৌসুমে কোনো
কোনো ফসলের
বেলায় ভালো
দাম পাচ্ছেন,
এটাও সত্য।
কয়েক বছর
ধরে পাটের
ভালো দাম
পাচ্ছেন কৃষক।
দুই বছর
আলুর ভালো
দাম পেয়েছেন।
এখন আবার
পাচ্ছেন না।
করোনার সময়ে
কৃষক ফুলকপির
ভালো দাম
পেয়েছেন। এখনো
ভরা মৌসুমে
ফুলকপির দাম
একটা ভালো
পর্যায়ে আছে।
কৃষক দাম
পান না—এটি
যদি হয়
তাহলে কি
ধরে নিতে
হবে বছরের
পর বছর
কৃষক লোকসান
দিয়ে কৃষিকাজ
করছেন, নিঃস্ব
হয়ে যাচ্ছেন।
তথ্য তো
তা বলে
না। তাহলে
এ কথা
আংশিকভাবে সত্য।
ঘটনা হলো,
আমরা যারা
শহরে বসবাসকারী
এবং ভোক্তা,
আমাদের শহরের
লেন্স দিয়ে
সব দেখার
চেষ্টা করছি।
আমরা একটু
গ্রামের লেন্স
দিয়ে দেখি।
তাহলে কী
দেখব? ১৭
কোটি মানুষের
মধ্যে ১৪
কোটি লোক
গ্রামে বসবাস
করে। তারাই
উৎপাদক, তারাই
ভোক্তা। তারাই
ব্যবসায়ী, তারাই
ফড়িয়া। সেখানে
যদি কম
দামে বিক্রি
হয় তাহলে
কম দামে
তারাও কিনে
খাচ্ছেন। ধরা
যাক, টমেটো
কম দামে
বিক্রি করা
হচ্ছে তাহলে
অন্য যারা
কিনছেন, তারা
তো কম
দামেই কিনছেন।
কাজেই সেখানে
তো এক
ধরনের ভারসাম্য
অবস্থা তৈরি
হয়ে আছে।
সেখানে পরিবহন
খরচ কম,
অন্যান্য খরচ
কম। হাতের
কাছে টাটকা
খাদ্যপণ্য পাওয়া
যাচ্ছে। একের
সঙ্গে অন্যের
সম্পর্ক আছে।
নগদে না
কিনলেও বাকিতে
কেনার ব্যবস্থা
আছে। সমস্যা
হচ্ছে শহরের
তিন কোটি
ভোক্তাকে নিয়ে।
আমরা সবটা
বোঝার চেষ্টা
করি না।
খাদ্যের ওপর
আমরা আয়ের
কত শতাংশ
ব্যবহার করি?
উচ্চ আয়ের
যারা, তারা
বড়জোর ২৫-৩০
শতাংশ। নিম্ন
আয়ের মানুষ
৫০-৬০
শতাংশ। বাকি
আয় কোথায়
খরচ করি?
ছেলে-মেয়েদের
শিক্ষার জন্য,
স্বাস্থ্যসেবার জন্য।
আমাদের কোনো
কিছু করার
থাকে না
এখানে, আমরা
অসহায় এবং
এক ধরনের
অসুস্থ প্রতিযোগিতা
চলে। আমাদের
পরিবহন খরচ
বেড়েছে। এ
বিষয়গুলো আমাদের
প্রতিনিয়ত পীড়া
দেয়। আমরা
কষ্ট পাই।
এ সবকিছুতে
আমরা টাকা
খরচ করতে
বাধ্য থাকি।
এসবে দরকষাকষির
জায়গাটা খুব
কম। শহুরে
ভোক্তারা কষ্ট
পান। এ
কষ্টের ব্যাখ্যাটা
চাপিয়ে দিই
শাকসবজি, চাল,
ডাল, পেঁয়াজ,
মাছ-মাংসের
দাম বেড়েছে
বলে। কিন্তু
খাদ্যসামগ্রীর দাম
না পেলে
উৎপাদকরা প্রণোদনা
পাবেন কোথা
থেকে? ভালো
দাম না
পেলে ক্ষুদ্র
চাষীদের টিকে
থাকা কঠিন
হবে। পরিণামে
খাদ্যনিরাপত্তা বিঘ্নিত
হবে।
আমি শহরের
ভোক্তাদের এ
কষ্টটার প্রতি
পুরোপুরিভাবে সমবেদনা
প্রকাশ করছি।
সরকারও চেষ্টা
করছে স্বল্প
মূল্যে সুলভে
বিভিন্ন পণ্য
ভোক্তাদের কাছে
পৌঁছে দেয়ার,
যদিও প্রয়োজনের
তুলনায় তা
কম। তার
পরও শহরের
ভোক্তাদের যে
কষ্ট হচ্ছে
তা আমি
বুঝি। বোঝার
পরেও কথা
এটা দাঁড়ায়
না যে
শহরের ভোক্তাদের
কম দামে
খাদ্য দিতে
হবে। তখন
ঘটনাটা কী
দাঁড়াবে? এজন্য
আমি বিষয়টি
খুব বাস্তব
দৃষ্টিতে বোঝার
জন্য বলছি।
আজকে যারা
শহরে আছেন,
বেশি দাম
দিয়ে খাচ্ছেন,
তাদের প্রত্যেককেই
জিজ্ঞাসা করুন,
তাদের গ্রামে
সামান্য যে
জমিজমা আছে,
সেখানে তো
উৎপাদন হচ্ছে
এবং সেখানে
তা কম
দামে বিক্রি
হচ্ছে, তাদের
কথামতো। তাহলে
ঘটনাটি কী
দাঁড়াল, ওখানে
বিক্রি করছেন
কম দামে,
সেখানে পরিবারের
লোকজনও কম
দামে খাদ্য
কিনে খাচ্ছে।
সমস্যাটা তখনই
দাঁড়াচ্ছে যখন
শহরে এসে
আমরা এটা
কিনে খাচ্ছি।
তার কারণ
জোগানরেখাটা অনেক
লম্বা। এর
মধ্যে কর
আছে, টোল
আছে, পরিবহন
আছে, অপচয়
আছে। এর
মধ্যে অনেক
রকমের মানুষকে
আমাদের পয়সা
দিতে হয়।
এজন্য দামটাও
বাড়ে। এটা
কমিয়ে আনা
দরকার, তাতে
কোনো সন্দেহ
নেই।
সাপ্লাই চেইন
বললেই যথেষ্ট
হয় না।
এটা যুক্তরাজ্য
কিংবা যুক্তরাষ্ট্র
নয়। সেখানে
স্বল্পসংখ্যক বড়
বড় বাণিজ্যিক
খামার থেকে
খাদ্যপণ্য সাপ্লাই
চেইন বা
সুপার মার্কেটে
আসছে বৃহত্তর
জনগোষ্ঠীর জন্য।
আমাদের এখানে
প্রায় পৌনে
দুই কোটি
কৃষক পরিবারের
কাছ থেকে
শহরের তিন
কোটি লোকের
কাছে খাদ্যপণ্য
আসছে। আসছে
পাঁচ কেজি,
দশ কেজি
করে গ্রামের
বাজার হয়ে।
এজন্য বাজার
ব্যবস্থায় ফড়িয়া
বেপারির সংখ্যা
বেশি হয়।
এরা নিজেরাও
ছোট ছোট
কৃষক। হাটে
কিনে হাটেই
সামান্য লাভে
বেচে দেন।
তবে অনেক
কিছু করার
আছে। আমাদের
বুঝতে হবে
কৃষিপণ্যকে যেহেতু
লাভজনক করতে
হবে এবং
এর উৎপাদনশীলতা
বাড়াতে হবে,
তাই উন্নত
কৃষি প্রযুক্তিতে
বিনিয়োগ করতে
হবে। কৃষিপণ্যের
লাভের অংকটাও
বাড়িয়ে ফেলতে
হবে। আর
এ লাভের
অংকটা যাবে
ভোক্তার পকেট
থেকেই। এটুকু
আমাদের মানতে
হবে। যেমনভাবে
প্রাইভেট টিউটর,
ডাক্তার, ওষুধপত্র,
বিলাসদ্রব্য, কাপড়-চোপড়,
লুঙ্গি ইত্যাদি
কিনতে আমাদের
দাম দিতে
হয়, তেমনি
খাদ্যপণ্য কিনতেও
আমাদের দাম
দিতে হবে।
শিক্ষার জন্য
আমরা কোনো
কার্পণ্য করছি
না, যে
যা চাইছে
তাই তো
দিয়ে দিচ্ছি।
কৃষিপণ্যের জন্যও
এ কাজটা
আমাদের করতে
হবে।
কৃষিতে আমরা
দাম দিলেও
সেটি কৃষকের কাছে পর্যাপ্ত পরিমাণে পৌঁছানো কীভাবে নিশ্চিত করা যায়?
মোটাদাগে
বলতে গেলে
কৃষকের কাছে
নিশ্চয়ই দামটা
পৌঁছাচ্ছে। তবে
ব্যতিক্রমও কিছু
আছে। বিশেষ
করে যেসব
জায়গায় যোগাযোগের
সমস্যা, যেখানে
বাজার ব্যবস্থার
সঙ্গে যুক্ত
ফড়িয়া, বেপারি
প্রভৃতি কর্মীর
সংখ্যা কম,
তাদের মধ্যে
প্রতিযোগিতা তৈরি
হয়নি কিংবা
লবণাক্ত এলাকা,
অত্যন্ত পশ্চাত্পদ
এলাকা, সেসব
এলাকায় অন্য
জায়গার তুলনায়
দাম কম
পায়। কিন্তু
শহরের কাছাকাছি
যেমন সাভার,
নরসিংদী, রায়পুরা,
গাজীপুর এসব
এলাকায় অন্য
চিত্র। এটা
কমে যাবে,
যখন যোগাযোগটা
সুগম হয়ে
যাবে। তখন
ব্যবসায়ী, যোগাযোগ
ব্যবস্থা, টোল
ব্যবস্থাপনা, লাইসেন্সিং,
মান নিয়ন্ত্রণ—সবকিছু
এসে যাবে।
বাজারে প্রতিযোগিতা
বাড়বে।
কৃষির তথ্য
নিয়ে অনেকে
প্রশ্ন তোলেন। এ সম্পর্কে আপনার মতামত
কী?
জাতীয়ভাবে
তথ্যের জায়গায়
আমাদের একটা
বড় সমস্যা
আছে। কোন
পণ্য কত
উৎপাদন হলো,
এর তেমন
সঠিক তথ্য
নেই। এ
দোষটা কাকে
দেবেন। সরকারি
সংস্থার একটা
স্বাভাবিক প্রবণতা
থাকতে পারে
উৎপাদন একটু
বাড়িয়ে দেখানোর।
এর পরিণতি
আমাদের জন্য
ভালো হয়
না, বরং
বেশ ক্ষতিই
করে। কারণ
আমরা বুঝতে
পারি না,
আসলে কত
উৎপাদন হয়েছে।
সঠিক তথ্য
না থাকায়
আমাদের কত
আমদানি করতে
হবে, রফতানির
সুযোগটা কতখানি,
সেটিও আমরা
বুঝি না।
ওই কারণে
মাঝে মাঝে
বাজারে ধস
নামে, সংকট
হয়। সঠিক
তথ্য সংগ্রহ
ও সরবরাহ
খুবই দরকার।
এটিই হলো
বাণিজ্যিক কৃষির
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
অনুষঙ্গ।
সরকারের কৃষিসংক্রান্ত পরিকল্পনাগুলো কতটা
বাস্তবসম্মত?
পরিকল্পনা
করে সরকার।
কিন্তু কৃষি
উৎপাদন, বিপণন
হয় বেসরকারি
খাতে। কাজেই
কৃষক কী,
কতখানি উৎপাদন
করবেন তা
নির্ভর করে
বাজারদরের গতি-প্রকৃতি
সম্পর্কে তার
ধারণার ওপর,
পরিকল্পনায় কী
বলা আছে
তার ওপর
নয়। এখানেও
দীর্ঘকালীন বাজার
তথ্য থাকা
খুব প্রয়োজনীয়।
সয়াবিন তেলের
ঘাটতি আছে।
এর উৎপাদন
বাড়ানোর কথা
বলা হয়।
এখানে বড়
সমস্যা হচ্ছে
প্রক্রিয়াজাত শিল্প
স্থাপন করে
লাভজনকভাবে সয়াবিন
তেল উৎপাদন
করা। পর্যাপ্ত
পরিমাণে সয়াবিন
উৎপাদন হয়
না বলে
শিল্প স্থাপন
লাভজনক হয়
না। দানা
সয়াবিনের দামও
তেমন নয়
বলে এটা
অন্যান্য প্রতিযোগী
তেলবীজ ফসলের
সঙ্গে পেরে
ওঠে না
এবং এর
বাজারও সম্প্রসারণ
হয় না;
বরং সরিষার
সম্ভাবনা অনেক
বেশি। এর
প্রসেসিং শিল্প
অনেকটাই এগিয়ে
আছে। [চলবে]
শ্রুতলিখন:
হুমায়ুন
কবির










