আপনি যদি এখন থেকে ১০০ বছর আগে এ উপমহাদেশে বাস করতেন, পেশাজীবনে উন্নতি করতে পৃথিবীর অন্য প্রান্তের দেশ সম্পর্কে হয়তো আপনার না জানলেও চলত। কিন্তু বিশ্বায়নের এ যুগে সারা বিশ্বের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে এবং বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় নিজেকে এগিয়ে রাখতে শুধু আশপাশের এক-দুটি দেশ নয়, সারা বিশ্বের সব দেশ, দেশের মানুষ, সংস্কৃতি, অর্থনীতি, রাজনীতি সম্পর্কে আপনাকে অবশ্যই পর্যাপ্ত জ্ঞান রপ্ত করতে হবে, হতে হবে ‘গ্লোবালি কম্পিট্যান্ট’।
বিশ্বায়নের সঙ্গে পুরো পৃথিবী একটি বিশ্বগ্রাম বা গ্লোবাল ভিলেজে পরিণত হচ্ছে, যেখানে যেকোনো দেশের মানুষ পরস্পরের সঙ্গে সহজে যাতায়াত ও যোগাযোগ করতে পারে। এর প্রভাব পড়ছে কর্মসংস্থান, শিক্ষা, ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনোদনসহ সব ক্ষেত্রে। পাশাপাশি বেড়ে চলেছে সব ক্ষেত্রে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা। এ প্রতিযোগিতায় নিজের পারদর্শিতা প্রমাণ করতে প্রয়োজন হবে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জন। গ্লোবাল কম্পিট্যান্স এমন জ্ঞান, দক্ষতা ও গুণাবলিকে নির্দেশ করে, যার মাধ্যমে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন বিষয় জানা, বোঝা বা ব্যবহারের মাধ্যমে একজন মানুষ জীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফলতা অর্জন করতে পারে।
বর্তমান
সময়ে বিদেশে
উচ্চশিক্ষা অর্জন
কিংবা কর্মজীবনে সফল হতে হলে
শুধু একাডেমিক
বা পাঠ্যপুস্তকের জ্ঞানের ওপর নির্ভর
করলে চলে
না। হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ
সেন্টারের একটি
সমীক্ষা বলছে,
আমরা আমাদের
ক্যারিয়ারে কতটুকু
সফল তার
১৫ শতাংশ
নির্ভর করে
আমাদের টেকনিক্যাল বা বিষয়ভিত্তিক দক্ষতার
ওপর আর বাকি ৮৫ শতাংশ নির্ভর
করে আমাদের
পিপল স্কিলস
বা সফট
স্কিলসের ওপর।
কিছুদিন আগে
যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত
ম্যাগাজিন ‘বিজনেস
ইনসাইডার’-এ প্রকাশিত এক আর্টিকেলে ওয়ার্ল্ড
স্ট্রিটের বিখ্যাত
একটি ব্যাংকের
মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রধানের সাক্ষাত্কার ছাপা
হয়েছিল। লিজ
লিবারম্যান নামে
ওই নারীকে
যখন জিজ্ঞাসা
করা হয়েছিল,
‘আপনারা আপনাদের
কর্মকর্তাদের কিসের
ওপর ভিত্তি
করে প্রমোশন
দেন বা নতুন এমপ্লয়ি
নিয়োগ দেন’,
লিজ লিবারম্যান দুটি শব্দে তার
উত্তর দেন—‘পিপলস স্কিলস।’
তাহলে কি সেই পিপল
স্কিলস বা সফট স্কিলসের
ওপর আমাদের
ক্যারিয়ারের সফলতা
এতটা নির্ভর
করে?
প্রতিযোগিতার এই বিশ্বে নেতৃত্বের গুণাবলি, যোগাযোগ দক্ষতা,
দূরদর্শিতা, সমস্যা
সমাধানের দক্ষতার
মতো সফট
স্কিল থাকাও
অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এখন যারা বিশ্বে
নেতৃত্ব দিচ্ছেন,
তাদের দিকে
তাকালেই আমরা
এর অসংখ্য
উদাহরণ পাই।
আজকের তরুণ
শিক্ষার্থীরাই যেহেতু
ভবিষ্যতে নেতৃত্ব
দেবেন, তাই
প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের তাদের গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে সার্বিক সহায়তা
করা অত্যন্ত
জরুরি।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হচ্ছে জ্ঞান সৃষ্টির সূতিকাগার আর শিক্ষকরা হচ্ছেন মানুষ গড়ার কারিগর। শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের সামনের পথচলা সুগম করেন আর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক পরিবেশ ও পাঠ্যক্রম শিক্ষার্থীদের অনুপ্রাণিত করে সামনে এগিয়ে যেতে। শিক্ষকদের সুনিপুণ দক্ষতা ও দিকনির্দেশনা একজন শিক্ষার্থীকে গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে সহায়তা করতে পারে। আবার দ্রুত পরিবর্তনশীল এ বিশ্বে চাকরির প্রতিযোগিতামূলক বাজারে এগিয়ে থাকতে বৈশ্বিক পাঠ্যক্রম সম্পর্কে ধারণা লাভ করাও অপরিহার্য।
গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনের যাত্রা শুরু করতে হবে বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের শুরু থেকেই। এজন্য নিজের ও অন্য দেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ইত্যাদি জানতে হবে, অন্যদের দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করতে হবে, ভিন্ন সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচয় ঘটাতে হবে এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে সবার সমৃদ্ধির জন্য পদক্ষেপ গ্রহণে আগ্রহী হতে হবে। এছাড়া নতুনের সঙ্গে নিজেকে সহজে মানিয়ে নেয়ার মানসিকতা শিক্ষাজীবনেই তৈরি করতে হবে। গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনে যেসব সফট স্কিল বিকাশের প্রয়োজন, তার জন্য শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন। এছাড়া শিক্ষার্থীরা এসব বিষয়ে পারদর্শী বিশেষজ্ঞের দ্বারা পরিচালিত কর্মশালায় অংশগ্রহণের মাধ্যমে নিজের দক্ষতা সহজেই বিকাশ করতে পারেন।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা বিশ্বমানের না হলে গ্লোবাল
কম্পিট্যান্সি অর্জন
প্রায় অসম্ভব।
এক্ষেত্রে মোনাশ
কলেজ, অস্ট্রেলিয়ার একমাত্র অংশীদার ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি)
দেশে বসেই
শিক্ষার্থীদের বিশ্বমানের শিক্ষালাভের সুযোগ করে
দিয়েছে। এছাড়া
ইউসিবি বৈশ্বিক
পাঠ্যক্রম অনুসরণ
করে শিক্ষা
প্রদানের পাশাপাশি
শিক্ষার্থীদের গ্লোবাল
কম্পিট্যান্সি অর্জনে
বিভিন্ন সফট
স্কিলের ওপর
বিনামূল্যে কর্মশালা
আয়োজন করছে।
এতে যোগদান
করে শিক্ষার্থীরা বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক তৈরি
করতে পারেন
এবং অন্যান্য
দেশের সংস্কৃতি
সম্পর্কে সহজে
ধারণা লাভ
করতে পারেন,
যা গ্লোবাল
কম্পিট্যান্সি অর্জনে
অত্যন্ত সহায়ক।
গ্লোবাল কম্পিট্যান্সি অর্জনের মাধ্যমে দেশের
শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিজের ও দেশের পরিচিতি
উজ্জ্বল করবে—এমনটাই প্রত্যাশা।
জামাল উদ্দিন জামি: হেড অব এনরোলমেন্ট, ইউনিভার্সাল কলেজ বাংলাদেশ (ইউসিবি)










