সবুজ পরিবেশের প্রয়োজনীয়তা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও প্রকৃতির সুরক্ষায় জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ২৭তম অধিবেশনে প্রতি বছর ৫ জুন বিশ্ব পরিবেশ দিবস হিসেবে পালনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। এরপর ১৯৭৪ সাল থেকে পরিবেশ রক্ষার গুরুত্ব এবং এক্ষেত্রে সক্রিয় ভূমিকা পালনে মানুষকে উৎসাহিত করতে প্রতি বছর পরিবেশ দিবস পালন করা হয়। বিশ্ব পরিবেশ দিবস ২০২২-এর মূল প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ‘একটাই পৃথিবী: প্রকৃতির ঐকতানে টেকসই জীবন’। এর মাধ্যমে প্রকৃতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই জীবনযাপনের ওপর জোর দেয়া হয়েছে। মহাশূন্যের বিলিয়ন বিলিয়ন গ্রহের মধ্যে কেবল একটিই গ্রহ ‘পৃথিবী’ মানুষসহ জীববৈচিত্র্য ধারণের উপযোগী। তাই দিবসটিতে পৃথিবীর তিনটি সবচেয়ে ‘কোড রেড’ চ্যালেঞ্জ: জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং দূষণ ও বর্জ্য মোকাবেলার ওপর আলোকপাত করা হয়েছে এবং বিশ্ববাসীকে সর্বত্র টেকসই ও প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জীবনযাপনের উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে।

পরিবেশের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক নিবিড়, অবিচ্ছেদ্য এবং অপরিমেয়। মানুষের কল্যাণ কেবল মানুষের ওপরই নির্ভর করে না, বরং প্রাকৃতিক পরিবেশের ওপর ভিত্তি করে মানুষ বেঁচে থাকে, জীবনীশক্তি পায়। প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সভ্যতা আজ হুমকির সম্মুখীন। জলবায়ু পরিবর্তন, প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্য ধ্বংস এবং পরিবেশ দূষণ প্রমাণ করে আমরা যে পৃথিবীতে বাস করছি তা চরম বিপর্যয়ের হুমকিতে আছে এবং দিন দিন বিপর্যয়ের এ আশঙ্কা আরো বাড়ছে। পাশাপাশি মানুষের আয়ের স্বল্পতা, খাদ্য সংকট, বাসস্থান হারানো এবং শিক্ষা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার অভাব মাত্রাতিরিক্ত পরিমাণে বাড়ছে। সেই সঙ্গে বিশ্বজুড়ে কভিড-১৯ মহামারী আরো একটি উদ্বেগের কারণ। এ অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র উপায় আমাদের অর্থনীতি ও সমাজকে প্রকৃতিনির্ভর করা এবং একই সঙ্গে প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করা। আমাদের এ গ্রহে যা আছে তা রক্ষা করা এবং যা হারিয়েছে তা ফিরিয়ে এনে আরো টেকসই ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়া। অন্যথায় প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মহামারী জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত ও দুর্বিষহ করে তুলবে।

গত ১০০ বছরে পৃথিবীপৃষ্ঠের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, গত দশ বছরে বিশ্বে যত বন্যা, ঝড় ও দাবানল হয়েছে, তার সবই এ তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়া বা বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণেই হয়েছে। বৃক্ষ নিধন, শিল্প-কারখানা স্থাপন, দূষণ ও অপরিকল্পিত নগরায়ণের ফলে আবহাওয়ায় এ দীর্ঘস্থায়ী বৈরিতা সৃষ্টি হয়েছে। পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে জনবসতির ওপর প্রতিনিয়ত নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ, যেমন বন্যা, বজ পাত, ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস ইত্যাদি আঘাত হেনেছে। বর্তমান প্রবণতা অব্যাহত থাকলে ২০৫০ সাল নাগাদ সাগরপৃষ্ঠের উচ্চতা ১৫ থেকে ৯৫ সেন্টিমিটার পর্যন্ত বাড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞানীরা। এতে আবহাওয়া হয়ে উঠবে আরো শুষ্ক, আরো উত্তপ্ত কিংবা কঠিন বরফশীতল এবং বিলুপ্ত হবে বিশেষ প্রজাতির জীব। মানবসমাজও নতুন নতুন রোগ, ঝুঁকি ও দুর্যোগের সম্মুখীন হবে। এরই মধ্যে আবহাওয়ার এ বিপর্যয়ের ফলে মানুষের স্বাভাবিক জীবন দারুণভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং এটি প্রকৃতির জন্যও ভীষণ হুমকিস্বরূপ। গত ১৫ বছরে প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিশ্বের সরাসরি অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৪ হাজার ৭৮৯ বিলিয়ন ডলার। কাজেই এ বিপর্যয় এড়াতে ২০৩০ সালের মধ্যে কার্বন নিঃসরণ ৪৫ শতাংশ কমাতে হবে এবং ২০৫০ সালের মধ্যে ‘জিরো কার্বন’ নিঃসরণের লক্ষ্য অর্জন করতে হবে। জিরো কার্বন নিঃসরণ সম্ভব হবে যদি সব দেশের সরকারপ্রধান প্যারিস চুক্তির অধীনে করা প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে এবং এখনই এ বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নেয়। একই সঙ্গে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার বন্ধ করে এমন আইন বা নীতির প্রবর্তন করতে হবে, যা নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার উৎসাহিত করবে এবং এ খাতে বিনিয়োগ বাড়াবে। 

তাছাড়া সব দেশের সরকারপ্রধানদের বিশ্বব্যাপী ও জাতীয়ভাবে প্রকৃতির অবক্ষয় বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। জীববৈচিত্র্য রক্ষা করে প্রকৃতির সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে, জীববৈচিত্র্য ধ্বংস রোধে জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশ সংরক্ষণ আইন বাস্তবায়নে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করাসহ প্রাণ ও প্রকৃতি তথা জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় বিভিন্ন রাষ্ট্র কর্তৃক প্রদত্ত প্রতিশ্রুতি রক্ষা এবং তার বাস্তবায়নে নাগরিকদের সোচ্চার হতে হবে। জলজ ও স্থলজ বাস্তুতন্ত্র পুনরুদ্ধার করতে হবে। একই সঙ্গে বন্যপ্রাণীসহ বনজ ও প্রাণিজ সম্পদ ক্রয়-বিক্রয় নিয়ন্ত্রণে ভোক্তা, নাগরিক ও সামাজিক সংগঠনগুলোকে আরো দায়িত্বশীল হতে হবে। সর্বোপরি পৃথিবীতে মানবজাতিকে টিকে থাকতে হলে জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি বন্ধ করতে হবে এবং প্রকৃতির টেকসই ব্যবহার নিশ্চিত করার মাধ্যমে বাঁচতে শিখতে হবে।

এনভায়রনমেন্টাল পারফরম্যান্স ইনডেক্স (ইপিআই)-২০২২ অনুযায়ী, ১৮০টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১৭৭তম, যাতে পরিবেশ দূষণ রোধে পিছিয়ে থাকা দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান চতুর্থ। আইকিউএয়ার-ওয়ার্ল্ভ্র এয়ার কোয়ালিটি রিপোর্ট ২০২১ অনুযায়ী, বায়ুদূষণের বিভিন্ন উপাদানের বার্ষিক গড় উপস্থিতি হিসেবে দূষণের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান শীর্ষে এবং দূষিত রাজধানীর তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা।

পরিবেশ উন্নয়ন, দূষণ নিয়ন্ত্রণ, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা, পরিবেশসংক্রান্ত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক চুক্তি বাস্তবায়নসহ টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট অর্জনে বাংলাদেশের মুখ্য প্রতিষ্ঠান পরিবেশ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরটির কার্যক্রমে সুশাসনের বিভিন্ন নির্দেশকে যেমন স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা, জনসম্পৃক্ততা ও কার্যকর সমন্বয়ে ঘাটতি বিদ্যমান। অধিদপ্তরের কর্মীদের একাংশের অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বড় অংকের নিয়মবহির্ভূত আর্থিক লেনদেন এবং তা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ঘাটতির ফলে পরিবেশ অধিদপ্তরে দুর্নীতির প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ হয়েছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ প্রকল্পসহ সরকারি বিভিন্ন বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং শিল্প-কারখানা স্থাপনই মূলত দেশের পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী। সরকারি বিভিন্ন বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং শিল্প-কারখানা স্থাপন, সংকটাপন্ন এলাকা, বন ও এর আশেপাশে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, ত্রুটিপূর্ণ সামাজিক ও পরিবেশ সমীক্ষা সম্পাদন এবং এসবের অনুমোদনের ক্ষেত্রে পরিবেশ অধিদপ্তর বিদ্যমান আইনি ক্ষমতা প্রয়োগে ব্যর্থতার প্রমাণ দিয়েছে বলে সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। এছাড়া দেশের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হওয়া, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন, নির্বিচারে বৃক্ষনিধন, জলাশয় ভরাট ও অপরিকল্পিতভাবে জমির শ্রেণী পরিবর্তন, পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও তদারকির ক্ষেত্রে দুর্নীতি ও সুশাসনের ঘাটতি ইত্যাদি কারণে পরিবেশ সংরক্ষণ ও উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সংকট নিরসন ও অভিযোজনে উল্লেখযোগ্য উন্নতি পরিলক্ষিত হয়নি।

পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলা এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় বিশ্বব্যাপী প্রাকৃতিক উপায়ের প্রতি গুরুত্বারোপ করার পরামর্শ দেয়া হলেও বাস্তবায়ন পর্যায়ে বাংলাদেশে এর উল্লেখযোগ্য প্রতিফলন পরিলক্ষিত হয়নি। টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট (এসডিজি) সামনে রেখে বাংলাদেশের অষ্টম বার্ষিক পরিকল্পনা করা হলেও এর আইনগত, প্রশাসনিক ও ব্যবহারিক প্রতিবন্ধকতা রয়েছে। এসডিজি পূরণকল্পে গৃহীত প্রকল্পগুলোর এজেন্ডা নির্ধারণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাজে সংশ্লিষ্ট জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা, নিয়মিত এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের তথ্যগুলো ওয়েবসাইটে হালনাগাদ করা, নিয়মিত তদারক করা এবং সর্বোপরি একটি স্বচ্ছ, অংশগ্রহণমূলক, পরীক্ষিত ও কার্যকর মডেলের আঙ্গিকে তৈরি একটি সুনির্দিষ্ট গাইডলাইনের ভিত্তিতে গৃহীত সব সরকারি ও বেসরকারি প্রকল্প পরিচালনা করার মাধ্যমেই কেবল দেশে টেকসই ও প্রকৃতিবান্ধব উন্নয়ন নিশ্চিত করা সম্ভব।

প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জীবনযাপন করার এখনই সময়। এ পরিপ্রেক্ষিতে আমাদের এই একটাই পৃথিবী, একটাই বাংলাদেশ। এ দেশের টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে প্রকৃতির সঙ্গে ভারসাম্য রেখে জীবনযাপন করতে পরিবেশ সুরক্ষা, বিশেষ করে মাটি, পানি, বায়ু ও শব্দদূষণ রোধ, প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ, প্রতিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষা এবং টেকসই উন্নয়ন ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা বিষয়ে দেশব্যাপী নাগরিকদের সচেতনতা সৃষ্টির পাশাপাশি এ খাতগুলোয় স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, নাগরিক অংশগ্রহণ এবং শুদ্ধাচার তথা সুশাসন নিশ্চিতে এখনই সময় কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের। প্রথমত, পরিবেশ দূষণের সঙ্গে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে জড়িত খাতগুলোয় পরিবেশবান্ধব ও টেকসই প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সক্ষমতা অর্জন, আইন-নীতি প্রণয়ন ও সংশোধন, দক্ষ জনবল তৈরি এবং সর্বস্তরে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ নিতে হবে। দ্বিতীয়ত, আইনের যথার্থ প্রয়োগে ভয়, চাপ ও আর্থিক প্রলোভনের ঊর্ধ্বে থেকে দৃঢ়তার সঙ্গে পরিবেশ দূষণের জন্য দায়ী বড় উন্নয়ন প্রকল্প এবং শিল্প-কারখানাগুলোকে জবাবদিহিতার মধ্যে আনতে হবে। তৃতীয়ত, পরিবেশ অধিদপ্তরের সক্ষমতা বৃদ্ধি করতে বিশেষায়িত জ্ঞানসম্পন্ন দক্ষ জনবল নিয়োগ, অধিদপ্তরটির প্রাতিষ্ঠানিক, আইনগত ও আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও অর্পিত দায়িত্ব পালনের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। চতুর্থত, ‘জিরো কার্বন’ লক্ষ্য অর্জনে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিশেষ প্রণোদনাসহ বিশেষ আর্থিক সুবিধা দিতে হবে এবং জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ক্ষেত্রে ‘কার্বন ট্যাক্স’ আরোপ করতে হবে। পঞ্চমত, প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতে পরিবার ও প্রাতিষ্ঠানিক সব ক্ষেত্রে সম্পদের ব্যবহার হ্রাস, পুনর্ব্যবহার ও পুনর্চক্রায়ন নীতি (3R principle: reduce, reuse and recycle) বাস্তবায়ন করতে হবে এবং দেশের উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থায় ‘সার্কুলার ইকোনমি’র মডেল ব্যবহার করতে হবে। ষষ্ঠত, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশের ক্ষতি রোধ এবং জীবন-জীবিকা ও প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় চলমান ঝুঁকিপূর্ণ নির্মীয়মাণ কয়লা ও এলএনজিভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো স্থগিত করে আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ও নিরপেক্ষ কৌশলগত, সামাজিক ও পরিবেশগত সমীক্ষা সম্পাদন সাপেক্ষে অগ্রসর হতে হবে। সপ্তমত, টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিতে জীববৈচিত্র্য রক্ষা, পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনসংক্রান্ত যেকোনো কার্যক্রম/প্রকল্প প্রণয়ন এবং বাস্তবায়নে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকির সম্মুখীন জনগোষ্ঠী বিশেষ করে নারী, প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ও আদিবাসীদের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিত এবং তাদের অভিজ্ঞতালব্ধ জ্ঞানকে গুরুত্ব দিতে হবে। অষ্টমত, টেকসই উন্নয়ন অভীষ্ট ও জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত প্যারিস চুক্তি অনুযায়ী জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সব ধরনের উন্নয়ন কার্যক্রমে প্রাণ ও প্রকৃতির সুরক্ষাকে প্রাতিষ্ঠানিকভাবে অগ্রাধিকার প্রদানে জবাবদিহিতা ও শুদ্ধাচার নিশ্চিতে সংশ্লিষ্ট নাগরিক সমাজ, বিশেষজ্ঞসহ সব অংশীজনের ধারাবাহিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

 

নেওয়াজুল মওলা: পরিবেশ ও জলবায়ু অর্থায়ন
বিষয়ক গবেষক